
বাস্তবতা তো দুরের কথা, এমনকি গল্পে, রূপকথায়ও মানুষ সেসব যুগে ফেরত যেতে চাইবে না, চাইলেও সম্ভব হবে না; এমন কি, যদি ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হয়, যারা বেঁচে যাবেন, তারাও পেছনে যাবেন না, তারা আবারো টেকনোলোজীকে ভর করে, আবারো সুন্দর জীবন গড়ে তুলবেন। তা'হলে আমাদের মাঝে কেহ কেহ কেন মদীনা সনদ, খলীফা ওমরের যুগে ফেরত যেতে চায়?
সমস্যা হচ্ছে যে, খলীফা ওমরের সময়ের ১ জন অশিক্ষিত মানুষের সাথে, আজকের ১ জন অশিক্ষিত মানুষের তফাৎ খুব একটা বেশী নয়; যদিও আজকের ১ জন অশিক্ষিত মানুষ খলীফা ওমরের আমল থেকে কোটী গুণে ভালো জীবন যাপন করছেন। খলীফা ওমরের সময়ে, আরবেরা যখনো সিরিয়ায় রোমান স্হাপনা, পারসিক স্হাপনা, বা আলেকসান্দ্রিয়ায় গ্রীক এলাকা দখল করেনি, তারা খেজুর পাতার ঘরে ও তাঁবুতে ঘুমায়েছে। তখন মদীনার লোক সংখ্যা কতজন ছিলেন?
মুসলমানেরা যখন মদীনার কয়েক'শ ইহুদী পরিবারের সাথে লাঠি দিয়ে মারামারি করার পর, মদীনা সনদ লিখছিলেন, তাদের থেকে ৫০০ মাইল দুরে রোমানদের সভ্যতা ছিল যেরুযালেমে, ৭০০ মাইল দুরে সিরিয়ায়, ১০০০ মাইল দুরে আলেকসান্দ্রিয়ায়; কিন্তু আরবের এই দুর্গম এলাকায় সেই সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি কোনভাবে; মদীনার ইহুদীরা পরে সনদ মনদ ফেলে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেছে অন্য এলাকায়।
বেদুইনরা প্রাকৃতিক কারণে এমনিতেই যোদ্ধা ও হিংস্র ছিলো, খলীফা ওমরের সময়ে আরবের বেদুইনরা এক হয়ে, চারিদিকে যুদ্ধ চালিয়ে রোমান, পারশিক ও গ্রীকদের এলাকা দখল করে নেয়; গ্রীক, রোমান, পারসিকেরা তাদের আসল সাম্রাজ্য থেকে অনেক আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছিল; ফলে, তারা বাতাসের মতো উড়ে যায়। সেসব দিন গুলো ছিল রক্তের বন্যার দিন, লুটতরাজ, দখলের দিন; এগুলো কারো কাম্য ছিলো না; কিন্তু তারা ততটুকুকেই জীবন হিসেবে নিয়েছে।
খৃস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগে মিশরে, ৫০০ বছর আগে রোমান ও গ্রীকরা বিশাল সভ্যতা গড়ে তুলেছে, মানুষ শিক্ষিত হয়েছে; রোমান, গ্রীকরা এসে মিশর, সিরিয়া, জেরুযালেম দখল করে সভ্যতার উন্নতি সাধন করেছে এসব এলাকায়; কিন্তু সাধারণ মানুষের কোন জীবন ছিলো না; মানুষ ছিল আসলেই রাজাদের দাস মাত্র। মানুষের আসল জীবন শুরু হয় ফরাসী বিপ্লবের পরে; আজকের এই সভ্যতার জন্য সব মানুষ ফরাসীদের কাছে সবার আগে ঋণী।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



