
পাহাড়ী মানুষের সাথে বাংগালীদের সমস্যা হচ্ছে, অর্থনৈতিক, ভুমি দখল; তারপর যোগ হয়েছে সাংস্কৃতিক সমস্যা ও বাংগালীদের নিজস্ব সমস্যাগুলো পাহাড়ীদের উপর চাপিয়ে দেয়া।
১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাহাড়ী রাজা, রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানী সৈন্যদের ভয়ে(যথাসম্ভব) মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে; পাকিস্তাীরা কিছু পাহাড়ীকে অস্ত্র দেয়, বেতন দেয়; রাজাকেও সামান্য টাকা পয়সাও দিয়েছিল। এর আগে, কাপ্তাই বাঁধের কারণে রাজার বাড়ীসহ পাহাড়ীদের কিছু পরিমাণ জমি ডুবে যায়; পাকিস্তান সরকার ঠিক মতো ক্ষতিপুরণ না দেয়ায় পাহাড়ীরা পাকিস্তান সরকারের উপর ক্ষুব্ধ ছিলো; যুদ্ধের সময়, পাকিস্তানের পক্ষে না যাওয়ারই কথা; যুদ্ধের আগে, পাহাড়ীদের সাথে বাংগালীদের সম্পর্ক ভালো ছিল সব সময়। পাকীরা পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে রাজা পাকিস্তানে পালিয়ে যায়; পাকিস্তান উনাকে সন্মান দেখায়ে আজীবনের জন্য কি এক বিষয়ে মন্ত্রিত্ব দেন; তিনি কিছু বছর আগে সেখানেই প্রাণ ত্যাগ করেছেন।
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পর, জামাতের লীডারশীপে কয়েক হাজার রাজাকার ও আলবদর পার্বত্য এলাকায় পালিয়ে থাকে; কিছু পাহাড়ী এদের যোগানদার হিসেবে সমান্য লাভবান হয় ও অস্ত্রও পায়; পাকিস্তানীদের উস্কানী, রাজাকারদের উপস্হিতি, ও যুদ্ধের সময় রাজার পাকিস্তান সাপোর্ট, রাজার পালিয়ে যাওয়া সব মিলে পাহাড়ীরা কিছুটা বাংগালী বিরোধী হয়ে উঠে। আবার পাকিস্তানী সময়ে, কাঠুরিয়া ইত্যাদি কর্ণফুলী পেপার মিলের জন্য বাঁশ কাটতে গিয়ে পাহাড়ীদের বাড়ীঘরে যাওয়া আসা করতো, বাংলা মদ খেতো অনেকেই, সামান্য পয়সা দিয়ে পাহাড়ী মেয়েদের সাথে জিং জিংও করতো; এগুলো বাংগালী বিরোধীতায় যোগ হয়েছিল।
যুদ্ধের সময়, যেসব পাহাড়ী মোটামুটি রাজাকারের ভুমিকায় ছিলো, তারা ভয়ে ভারতীয় এলাকায় ও গভীর জংগলে লুকিয়ে যায়; এতে , এসব পাহাড়ী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এরা যেসব নির্জন এলাকায় পালিয়ে যায়, সেসব এলাকায় পুর্ব ভারতীয় বিচ্ছিন্নবাদীদের ঘাঁটি ছিল গভীর জংগলে; এদের মিলন ঘটে এসব দুর্গম এলাকায়; ভারতীয় বিচ্ছিন্নবাদীরা হত্যাকান্ড, চোরাকারবারী ইত্যাদিতে যুক্ত ছিল। এদের ও লুকিয়ে থাকা রাজাকারদের সমন্ময়ে গড়ে উঠে 'শান্তি বাহিনী'; শান্তি বাহিনী পাহাড়ী এলাকায় একটি স্বাধীন পাহাড়ী দেশের কথা বলতে থাকে পাহাড়ীদের কাছে।
যুদ্ধের পর থেকে, পাহাড়ীরা বুঝতে পেরেছিল যে, রাজার পাকিস্তান সাপোর্ট ভুল ছিল; পাহাড়ীদের যে অংশ পড়ালেখা জানতো, তারা শেখ সাহেবের সাথে দেখা করলো, যাতে যুদ্ধের সময়ের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটে। পাকিস্তানী সময়ে, বাংগালীরা পাহাড়ে বাস করতো না, ও অলিখিত নিয়মে পাহাড়ী এলাকা রাজার অধীনে অনেকটা অটোনোমাস ছিল। শেখ সাহেব, আগের অটোনোমাসের কোন নিশ্চয়তা দেননি, এবং নাকি বলেছিলন, "তোমারা বাংলাদেশের মানুষের সাথে মিলে বাংগালী হয়ে যাও"; এটা নাকি সেই সময়কার পাহাড়ীদের জন্য অপমানকর ছিলো; এতে পাহাড়ীরা খুশী হয়নি; পাহাড়ীরা আশা করেছিল, রাজাকে মাফ করে দিয়ে দেশে আসতে অনুমতি দেয়া হবে; সেটাও ঘটেনি; এতে শান্তি বাহিনীর সুবিধে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



