
ক্ষমতায় ট্রাম্পের ১০০ দিনের সারমর্ম হলো, ট্রাম্প মোটামুটি পরাজিত হয়েছে, তার কোন এজেন্ডাই এখনো কাজ করেনি; গতকাল সে বলেছে, "প্রেসিডেন্সি চালানো যে, এত কঠিন, সেটা আগে বুঝতে পারিনি"। ট্রাম্পের হাতে আরো ১৩৬০ সময় আছে, তাকে নতুন পন্হা অবলম্বন করতে হবে।
আজকে পরিবেশবাদীরা হোয়াইট অবরোধ করবে, শতশত বাসে করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন; গত ৯৯ দিনে ট্রাম্প পরিবেশ বিরোধী অনেকগুলো প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার দিয়েছে, এতে আছে পুনরায় কয়লা উত্তোলন, আলাস্কা-কানাডা-আমেরিকান পাইপ লাইন, এখানে আলাস্কা থেকে আনা তেল পরিশোধন করা হবে। কানাডিয়ান কাঠের উপর ১৫% ট্যাক্স; এতে আমেরিকান গাছ কাটা পড়বে। অবরোধ এড়াতে উনি যাচ্ছেন পেনসিলভানিয়া, মানুষের সাথে মিটিং করবেন।
সিনেট ও কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের বড় মেজরিটি থাকা সত্বেও 'ওবামা কেয়ার' আইন বাদ দিতে গিয়ে ট্রাম্পের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে ; ওবামা কেয়ার সারা বিশ্বের জন্য একটি অনুপ্রেরণা; চিকিৎসা হলো মানুষের মৌলিক অধিকার; যেসব দেশে মানুষের 'হেলথ ইন্সুরেন্স' নেই, সেসব দেশের সরকারগুলো হয় লিলিপুটিয়ান, না হয় ডাকাত; যেমন আমাদের প্রেসিডেন্ট চিকিৎসার জন্য যান সিংগাপুর, প্রাইম মিনিস্টার আমেরিকা, বেগম জিয়া সৌদী, শেফিক রেহমান যান লন্ডন, মুহিত যান নিউইয়র্ক; মানুষ যায় ভারত, গার্মেন্টস'এর মেয়েরা যায় হোমিও-প্যাথি ডাক্তারের কাছে, বা হাসপাতালের আউটডোরে। আমাদের এক প্রেসিডেন্টের মৃত্যু হয়েছে বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে; এগুলো সরকারের বেকুবীর পরিচয়।
প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবাজ এডভাইজার জেনারেল ফ্লিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে, নির্বাচনের আগে রাশিয়ানদের সাথে কথা বলার পর, সেটা অস্বীকার করায়। ৭ মুসলিম দেশের অধিবাসীদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার ২ বার থামিয়ে দিয়েছে ফেডারেল বিচারকেরা; এই ২টি ট্রাম্পের জন্য বড় পরাজয়।
ট্রাম্পের বড় বিজয় হয়েছে দেড়, দুই মিলিয়ন মেক্সিকান দেশে ফেরত চলে গেছে নীরবে; আমেরিকায় শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে কয়েকটি রাজ্যে; আর ফিরে যাওয়া মেক্সিকানদের পরিবারগুলো অকারণ দারিদ্রতায় ভুগবে।
ট্রাম্পের আরেক বিজয়, ওর বিজয়ের কারণে, আমেরিকান স্টক-মার্কেট ভয়ংকরভাবে উপরে উঠে গেছে; এটি পড়বে; পড়লে অর্থনীতিতে হতাশা ঢুকবে।
ট্রাম্প কোরিয়া ও ইরান নিয়ে কি করছে মানুষ জানে না; অনেকে ধারনা করেছেন, যে কোনদিন কোরিয়া আক্রান্ত হতে পারে; তবে, গতমাসে মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলো যুদ্ধের জন্য, এ সপ্তাহে মানুষের বোধ উদয় হচ্ছে, সায়েন্স-দিবসে যুদ্ধ-বিরোধী কথা বলেছে; এখন ট্রাম্প কিছু বলছে না, মানুষ ধারণা করছে যে, চীনা প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়াকে বাঁচানোর দায়িত্ব নিয়েছে। ইরান নিয়ে আমেরিকানদের চিন্তা কিছু কমেছে, ইরান উপরে উপরে আমেরিকানদের পাত্তা দিচ্ছে না ভাব বজায় রাখলেও টেবিলের নীচে কিছু একটা ঘটছে মনে হয়; যদি সেটা কাজ করে, সবার জন্য ভালো হবে। সিরিয়ার বেলায় হয়তো আমেরিকার সুমতি হয়েছে, ওখানে নতুন করে সৈন্য পাঠানো হচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


