
আপনারা সংবাদে দেখেছেন যে, শান্তিতে এবারের নোবেল প্রাইজ পেয়েছে নিউক্লিয়ার অস্ত্র বিরোধী সংস্হা, ICAN; সংস্হাটি নোবেল পাবার যোগ্য; কোন ব্যক্তির বদলে সংস্হা পেলে তাতে মানুষের আস্হা বাড়ে; ICAN সংস্হাটিতে কয়েক বিলিয়ন মানুষের সাপোর্ট আছে, এবং এতে মিলিয়ন মানুষ শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। একটা ছোট, কিন্তু ভয়ংকর সমস্যা হচ্ছে, এটা একটা এনজিও; দিনের শেষে, টাকার জন্য বড় শক্তিগুলোর কাছে হাত পাততে হয়; সেটা খারাপ লক্ষণ!
ICAN, International Campaign to Abolish Nuclear Weapons একটি এনজিও সংস্হা; ২০০৭ সালে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণে সংস্হাটি গঠিত হয়; সুইজারল্যান্ডে হেড কোয়ার্টার, ১০১ দেশের ৪৭০টি'র মতো সংস্হা ICAN'এর সাথে কাজ করছে, ডিরেক্টরের নাম বিয়াট্রিস ফিহন।
বিশ্বের সাড়ে ৭ বিলিয়ন মানুষের মাঝে ন্যাটোর সরকারগুলো, রাশিয়ার সরকার, চীনের সরকার ব্যতিত বিশ্বের প্রায় সবাই নিউক্লিয়ার অস্ত্রের বিপক্ষে; তারপরও অস্ত্রটির উৎপাদন থামানো যাচ্ছে না। পুরো জাতি হিসেবে শুধু নর্থ কোরিয়া ও ইরানীরা অস্ত্রটির উৎপাদন চাচ্ছে। যদিও আমেরিকার কাছে সবচেয়ে বেশী পরিমাণ নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড আছে, বিশ্বের মাঝে আমেরিকানরাই সংখ্যার দিক থেকে বেশী এই অস্ত্রের বিরোধীতা করে আসছে। রাশিয়ার সরকারের ভেতরেও অনেকে অস্ত্রটির বিরোধীতা করছে; কিন্তু পুটিন ও তার সমমনা কিছু রাজনৈতিক নেতা এই অস্ত্রের উপর আরো বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সালের মাঝে, আমেরিকা ও চীন চাইলে উত্তর কোরিয়ার আনবিক প্রজেক্ট বন্ধ করতে পারতো; কিন্তু আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ও চীনাদের হীনমন্যতার জন্য তা সম্ভব হয়নি; চীনারা কোরিয়ান জাতিকে ঘৃণার চোখে দেখে, তারা ২ কোরিয়াকে শক্তিশালী জাতি হিসেবে দেখতে চাহে না; তাদের সৃস্ট পরিস্হিতিতে এখন কমপক্ষে ২ মিলিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ান ও ৫ মিলিয়নের বেশী উত্তর কোরিয়ানের প্রাণ হারাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে; সাথে মিলিয়নের মতো জাপানীও প্রাণ হারাতে পারে।
উ: কোরিয়া নিয়ে আমেরিকা মোটামুটি ভয়ংকর চাপে আছে, তারা নিজেদের মানুষের কাছে বলে বেড়াচ্ছে যে, আসলে আমেরিকা তাদের বিরু্দ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে; তবে, আমেরিকা যদি যুদ্ধ না করে, উ্ত্তর কোরিয়াকে এটমিক পাওয়ার হিসেবে মেনে নেয়, বিশ্বের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আজকেই; কোরিয়ার কাছে এটম বোমা ও মিসাইল থাকলে কারো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা মোটামুটি নেই; বরং ২ কোরিয়া এক হওয়ার পথ সুগম হবে।
২০৫০ সালের মাঝে বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে ৯ বিলিয়নে পরিণত হবে; পৃথিবী সেইজন্য এখনো প্রস্তুত নয়; এই অবস্হার মাঝে এটমিক অস্ত্র তৈরি করা আসলে ভয়ংকর অপরাধ; ICAN হয়তো সামনের দিন গুলোতে বিশ্বকে বুঝতে পারবে যে, মানবতার জন্য বড় হুমকী হচ্ছে পারমানবিক অস্ত্র।
রিফিউজীদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্য যদি নোবেল দেয়া হয় কোনদিন, তাহলে, বাংলাদেশ, কিংবা জার্মানীর চেনচেলর মার্কেল এই পুরস্কারটি পেতে পারেন ভবিষ্যতে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



