
বাংগালী জাতির সামনে বেগম জিয়ার একটি প্রোফাইল আছে, সেটা অনুসারে বেগম জিয়া সাহায্য, সহায়তা, দয়া, দানশীলতার প্রতীক নন; তিনি ষড়যন্ত্র, অপরাধ, অদক্ষতা ও লোভের প্রতীক মাত্র। ১৯৮৩ সালে, বেগম জিয়ার অবস্হা দেশের ভালো ২০%'এর মাঝে থাকা সত্বেও জেনারেল এরশাদের দেয়া রিলিফ তিনি নিয়েছেন; রিলিফের একটি বাড়ী সরকার নিয়ে নিয়েছে, অন্য বাড়িটি তিনি এখনো ভাড়া দিয়ে ভাড়া সংগ্রহ করছেন; সরকারের উচিত সেটা নিয়ে নেয়া। কোকোর লন্চ ও বিজ্ঞাপণ ব্যবসা, তারেকের ডান্ডি ডায়িং ও কেরু কোম্পানীর বর্তমান অবস্হা আমার জানা নেই; তবে, এসব ব্যবসার টাকা থেকে ২০০৭ সালের আগে নিশ্চয় বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছিল; কোকোর ঢাকা সিরামিক বিক্রয় হয়েছিল ৫৪ মিলিয়ন ডলার; সেই টাকায় কোকোর ও তারেকের পরিবার চলছে; বেগম জিয়ার হয়তো সেই টাকার দরকার হচ্ছে না, তিনি জেনারেল জিয়া ও নিজের পেনশনের টাকায় অনেক ভালো থাকার কথা; তা'ছাড়া ফালুর ব্যবসায় উনার অলিখিত শেয়ার আছে। কিন্তু তিনি অপর বাড়ীটি ফেরত দিয়ে নিজের বড় হৃদয়ের পরিচয় দেননি; সেই বেগম জিয়া রোহিংগাদের রিলিফ দিচ্ছেন, ব্যাপারটা লজিক্যালী ভাবতে কঠিন হচ্ছে!
২০১৫ সালে বেগম জিয়ার দেয়া ১ দফা হয়তো এখনো চলছে; ১ দফার ফলাফল ছিলো, উনাকে মাঠের বাহিরে চলে যেতে হয়েছিল; রোহিংগা রিলিফের নামে তিনি এইবার প্রথম মাঠে নামলেন, পায়ে মাটি লাগালেন। তিনি গাড়ীতে গিয়েছেন মাঠে নামার জন্য; উনার গাড়ীর বহরে হামলা হয়েছে, সেটা হিসেবের মাঝে অবশ্যই ছিলো; তিনি অতটুকু রিস্ক নিয়েছেন; এই বয়সে এতটুকু রিস্ক নেয়া কিন্তু সোজা ব্যাপার নয়। উনার গাড়ীর উপর হামলা নিয়ে পুলিশ কোন কেইস করেছে কিনা, কিংবা বিএনপি থানায় গিয়েছে কিনা মিডিয়া থেকে এখনো জানা যায়নি। এই ধরণের আক্রমণ হিসেবের বাইরে হলে, রিএ্যাকশন হতো অনেক বেশী।
রোহিংগাদের জন্য সরকার এখনো মানুষের দান খয়রাত চাহেনি; সাড়ে ৫ লাখ রোহিংগার খাবারের টাকা দিয়ে যাচ্ছে জাতি সংঘ, ৫০ হাজারের খাবারের টাকা দিচ্ছে তুরস্কের এনজিও; ফলে, সরকার মরিয়া হয়ে উঠার কোন কারণ নেই, সেজন্য সরকার চুপচাপ। বেগম জিয়া বিএনপি'র ৭০ লাখ টাকার রিলিফ নিয়ে সেখানে গেছেন রাজনৈতিক মাঠে নামার জন্য; আসলে, এটা রিফিফ ফিলিফ কিছু নয়, উহা মাঠে নামার সেলামী।
তবে, রোহিংগাদের নাম ব্যবহার করে মাঠে নামার কৌশল জাতির জন্য ভালো ফলাফল দিবে না; রোহিংগারা কালচারের দিক থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামী, চরিত্রের দিক থেকে বার্মিজ, এদের নিয়ে রাজনীতি করলে, উহার ফলাফল জাতির জন্য ভয়ংকর হবে; বিএনপি বাংলার মানুষকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেনি, রোহিংগাদের নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করার কথা নয়।
১৯৯৩ সালে বিএনপি'র আমলে আসা ৩ লাখ রোহিংগা বাংলাদেশে থেকে গেছে সরকারের কারণে; ততকালীন সরকারের অংশ হিসেবে জামাত ওদেরকে রেখে দেয়ার পক্ষে ছিলো, সেটাই ঘটেছে; জামাতের মীর কাশিম আলী আরবদেশগুলো থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার নিয়ে এসেছিল রোহিংগাদের নামে; জামাতের অনেক ব্যবসার মুলধন সেখান থেকে এসেছে; বিএনপি সেই টাকার ভাগ পেয়েছে অবশ্যই।
এবারও আমেরিকা, কানডা ও ইউরোপে বিপুল পরিমাণে টাকা উঠানো হয়েছে রোহিংগাদের নামে; সেই টাকা শেখ হাসিনার সরকার পাবার কথা নয়; দেখা যাক সেই টাকা কোথায় যায়।
রোহিংগারা বাংলাদেশে আসাতে বেগম জিয়ার মাঠে নামার জন্য একটা ইস্যু পাওয়া গেছে, উনি রিস্ক নিয়ে নেমেছেন, এখন দেখতে হবে, উহা উনাকে কতটুকু সাহায্য করে, ও জাতিকে কতটুকু সাহায্য করে; তবে, তিনি সাহায্য, সহায়তা, দয়া, দানশীলতার প্রতীক নন; উনার দরকার ছিলো মাঠে নামা।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ভোর ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


