
১৯৫৩ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও শেরে বাংলার নেতৃত্বে প্রজাপার্টি মিলে "যুক্তফ্রন্ট" নামে একটি কোয়ালিশন গঠন করেন; তাঁরা ১৯৫৪ সালের পুর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে মুসলীম লীগের বিপক্ষ জয়ী হন; পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছিল মুসলিম লীগের নেতৃত্বে; পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার ৭ম বছরেই মুসলীম লীগকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট।
আজকে ঢাকায়, ডা: বদরুদ্দোজা, আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী ও মাহমুদুর রহমান মান্না মিলে একটি কোয়ালিশন গঠন করেছেন, নাম দিয়েছেন সেই বিখ্যাত ব্রান্ড নাম, "যুক্তফ্রন্ট"। এরা এই নামটি ব্যব হার করার কেহই নয়, এরা শেরে বাংলার বা মওলানার মত বাংগালী নন, দেশ-প্রেমিক নন। প্রথমত: এদের রাজনীতিবিদ বললে, রাজনীতিকে অপমান করা হবে; আমি এদেরকে কমেডিয়ান রাজনীতিবিদ বলতে চাই। যুক্তফ্রন্ট একটি ঐতিহাসিক ব্রান্ড নাম, যার সাথে যুক্ত আছে শেরে বাংলা ও মওলানা ভাসানীর নাম, বাংলার সাধারণ মানুষের সাধারন রাজনীতিবিদ, এবং বাংগালীদের প্রথম বিজয়! এই কমেডিয়ানরা নামটাকে পরাজয়ের খাতায় লিখাবে।
ডা: বদরুদ্দোজাকে খুঁজছিলেন জেনারেল জিয়া বিএনপি গঠন করার জন্য; ডাক্তার সাহেব রাজনীতি করতেন না; মুক্তিযুদ্ধের সময়, বাংলাদেশকে সাপোর্ট করেননি, চাননি পাকিস্তান ভেংগে যাক, ভারত লাভবান হোক। জিয়ার সাথে কি মিল আছে? মিল হলো এতটুকু, যুদ্ধের ভেতর ডা: বদরুদ্দোজা যদি দেশের ভেতরে মেজর জিয়ার অবস্হান জানতেন, পাকীদের খবর দিতেন; জিয়া কি এটুকু বুঝতেন না? অবশ্যই বুঝতেন, কিন্তু জিয়া এই ধরনের লোকদের নিতে বাধ্য হয়েছিলেন; কারণ, তিনি আইয়ুবের মতো ভাগ্যবান ছিলেন না; আওয়ামী লীগ জেনারেল জিয়ার পক্ষে যায়নি। এর পরের ইতিহাস আপনারা জানেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা ডা: সাহেবের গায়ের উপর মটর সাইকেল তুলে দিচ্ছিল; উনি বিএনপি'র বিকল্প বের করেছেন।
রব এক সময়ের খলীফা; পরে ১ দিনে সোস্যালিষ্ট; নিজ গুরু শেখ সাহেবকে নাজেহাল করেছেন জাসদ করে; জাসদ গণবাহিনী করে এমপি হত্যা করেছে, ব্যাংক লুট করেছে। শেখ হাসিনা সব মাফ করে দিয়ে মন্ত্রীও বানায়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন রব, মুক্তিযোদ্ধাদের বিপরিতে প্রতিবিপ্লবী দল গঠন করেছিলেন, বিএলএফ; এখন বিএলফদের বাচ্ছারা সব "কোটা" ভোগ করছে, উনিও রাজনৈতিক কোটায় আছেন।
কাদের সিদ্দিকী, যুদ্ধের বিরাট নায়ক; যুদ্ধের পরে খল নায়ক, টাংগাইলের অর্ধেক দখল করেছিলো। শেখ সাহেব উনার থেকে টাংগাইল মুক্ত করেছেন। উনার অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ; উনি ২২ হাজারকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন; এখন কন্টাক্ট্রর, পার্ট-টাইম কমেডিয়ান রাজনীতিবিদ।
মান্নার জেল থেকে বের হয়ে এসেছেন; ২০১৫ সালের ঢাকার মেয়র পদে জিতার জন্য বুদ্ধি নিচ্ছিলেন ক্রিমিন্যাল মেয়র খোকা থেকে; জেল থেকে বের হয়েছে, এখন রাজনীতি করবেন; দেখা যাক। বিডি-নিউজ-২৫ এ রাজনৈতিক প্রবন্ধ লিখতেন আগে; আমার মতে, লিলিপুটিয়ান স্টান্ডার্ডের লেখা, গরুর রচনা।
শেরে বাংলা ও মওলানা ভাসানীর ব্রান্ড নামটাকে এসব কমেডিয়ানরা পরাজয়ের খাতায় নিয়ে যাবে, এই নামটি বাংগালীদের ১ম বিজয়ের চিহ্ন ছিলো এতদিন; এসব যকমেডিয়ানের উচিত নয় শেরে বাংলা ও মওলানার ব্যবহৃত নামটি ব্যবহার করার।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



