
ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারত দখল করেছিল রাজতন্ত্রের যুগে; শেষের দিকে, ভারতের শাসন ব্যবস্হা পরিচালিত হয়েছে বৃটিশ কলোনিয়েল সিস্টেমে, ইহা রাজতন্ত্র থেকে অনেক উন্নত সিষ্টেম; তারা যাবার সময়, ভারতে ২টি গণতান্ত্রিক রিপাবলিকের জন্ম দিয়ে গেছে। নতুন ২ রিপাবলিকের মাঝে ভারত ক্রমাগতভাবে গণতন্ত্র চর্চা করে, গণতন্ত্র ভালোই শিখেছে; পাকিস্তান বেশ কষ্টের মাঝ দিয়ে কোনভাবে অগ্রসর হচ্ছিল; কিন্তু ১৯৫৮ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে বরখাস্ত করে সামরিক আইন জারী করেন আইয়ুব খান; উনি ক্ষমতা দখল করার পর, পাকিস্তানের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগকে দখল করে "বেসিক গণতণ্ত্র" নামে এক শাসন ব্যবস্হা চালু করেন, যা আসলে ছিল ডিক্টেটরশীপ।
বাংলাদেশ হওয়ার পর, আমাদের মিলিটারীর একাংশ দেশে সামরিক ক্যু করে, আইয়ুব খানের মতো, একই প্রোটোটাইপের শাসন ব্যবস্হা চালু করে ১৯৭৫ সালে; এবার নাম দিয়েছিলেন, "বহুদলীয় গণতন্ত্র"; এবারের নায়ক, জেনারেল জিয়া মনেপ্রাণে আইয়ুব খানের শিষ্য ছিলেন।
আইয়ুব খান শুরু থেকে শেষ অবধি খুবই পপুলার ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে; ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ক্রমেই পুর্ব পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন; এবং বাংগালীদের বিরোধীতার কারণে ১৯৬৯ সালে তিনি অন্য এক জেনারেল, জেনারেল ইয়াহিয়ার হাতে ক্ষমতা দিয়ে সরে যান। সরে যাবার সময়ও পশ্চিম পাকিস্তানে উনার জনপ্রিয়তা বেশ ভালো ছিল। আমাদের বাংগালী জেনারেল টিকেছিল প্রায় ৬ বছরের কাছাকাছি; উনার জীবনাবসানের সময়ও তিনি জনপ্রিয় ছিলেন, উনার ব্রান্ডও জনপ্রিয় ছিলো।
আইয়ুব খানকে সরানোর পর, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ক্রমাগতভাবে জটিল হয়ে, জেনারেল ইয়াহিয়ার সময় উহা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়; বাংগালীরা যুদ্ধ করে নিজেদের জন্য নতুন দেশের জন্ম দেন। পাকিস্তান ভেংগে, বাংলাদেশের দেশের জন্মের পেছনে, আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের ডিক্টেটরশীপই (গনতন্ত্র) দায়ী। ইয়াহিয়া শুরু থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সমীহ করে নির্বাচন দেন, নতুন সংবিধান প্রনয়ন করান; একজন জেনারেল থেকে আর কতটুকু গণতন্ত্র আশা করা যায়? শেষে কিন্তু গণহত্যা চালায়েছে ইয়াহিয়া! এ হলো জেনারেলদের নিজস্ব ব্রান্ডের গণতন্ত্র!
আইয়ুবের বেসিক গণতন্ত্রকে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষেরা সাপোর্ট করেছে; একই সময়ে, প্রথমদিকে বাংলার মানুষও সাপোর্ট করেছিল; আইয়ুবের পর, ইয়াহিয়া ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অবধি গণতন্ত্রের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা দেখায়েছেন। জেনারেল জিয়ার ব্রান্ড আজও পপুলার।
জেনারেল জিয়ার "বহুদলীয় গণতন্ত্র" যতটুকু পপুলার ছিলো, উনার মৃত্যুর পর আরো পপুলার হয়ে গেছে, এবং ২০০৬ সাল অবধি চালু ছিল; ২০০৭ সালে মিলিটারী এসে জোর করে এই ব্রান্ডটি থামিয়ে দেয়। মিলিটারী ভোট দিয়ে সরে যাবার পর, ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ; ইহাদের নিজস্ব গণতন্ত্র আছে; ইহার ব্রান্ডনাম নেই, মনে হচ্ছে, ইহা কোন এক ধরণের "জেনেরিক গণতন্ত্র" হবে; ইহাকে "উন্নয়নের মহাসড়কের গণতন্ত্র" নাম দিলে মানবে হয়তো, হাজার হলেও রাস্তাঘাটের গণতন্ত্র!
জেনারেল জিয়ার হারিয়ে যাওয়া "বহুদলীয় গণতন্ত্র"কে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে পুনরুদ্ধার করা হবে, বলেছেন মির্জা ফখরুল; তিনি গতকাল জেনারেল জিয়ার জন্মদিনে জেনারেলের কবরে ফুল দিচ্ছিলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




