
রোহিংগা হত্যাকান্ড, তাদের বার বার পালিয়ে যাওয়া; বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নর-পিশাচে পরিণত হওয়া; অগাধ সম্পদ থাকার পরও বার্মিজ মেয়েদের আরবদেশে যাওয়া, সবকিছুর মুলে হলো বার্মার ৫৫ বছরের (১৯৬২-২০১৮) মিলিটারী শাসনের ফল। শুধু রোহিংগা নয়, আরো ৪/৫টা জংগোষ্ঠীকে বার্মার মিলিটারী শাসন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে যে ২ জন জেনারেল পংগুত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের ১ জন এখনো লিলিপুটিয়ান নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে, "বিশেষ দুত" হয়ে জাতীর কাঁধে আরব্য উপন্যাসের দৈত্যের মতো বসে আছে। আরেকজনকে উনার ভ্রাতারা সরানোর পর, ড: এমাজুদ্দিন, ড: মইন খান, ব্যুরোক্রেট আনোয়ার সাহেব, ডা: বদরুদ্দোজা, একাউন্টটেন্ট সাইফুর রহমানেরা এখনো কাঁদে; এসব পিগমীরা রোহিংগাদের জন্যও কাঁদে!
গত আগষ্ট থেকে, আরাকানে যুদ্ধ করার জন্য লাখ লাখ বাংগালী ফেইসবুকে পোষ্ট লিখেছেন; সামুতেও যু্দ্ধের ব্ল-প্রিন্ট এসেছিল; কিভাবে যুদ্ধ থেমে গেছে, বুঝা যায়নি; যাক, তলায়ে দেখলে দেখা যাবে যে, এদের অনেকেই বাংলাদেশের ২ জেনারেলের সমর্থক ছিলেন, ও আছেন; এরা জানে না যে, এরা কি বলছেন, কি করছেন; জাতি কোথা থেকে কোথায় পোঁছেছে, এবং ভবিষ্যত কি!
বার্মা আয়তেনের দিক থেকে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৪ গুণ থেকে বেশী, মাত্র ৬ কোটী লোক বসবাস করে; তেল, গ্যাস, মুল্যবান পাথর, কয়লার মত খনিজে ভরপুর দেশটি; মুল্যবান গাছ, ধানের জমি, ঘাসের মাঠ, মাছ সবই আছে; তারপরও বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান থেকে বার্মার মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক নীচে। বার্মার সম্পদ, মানুষের সামাজিক জীবনের বিবর্তনের ইতিহাস দেখলে বুঝা যায় যে, এরা মালয়েশিয়া থেকে ভালো থাকার কথা। কেন হচ্ছে না? একমাত্র সমস্যা মিলিটারী শাসন।
বার্মার সামরিক শক্তি বাংলাদেশ থেকে আড়াই গুণ বেশী।
আমাদের জাতির বড় অংশ মানুষ, পাকিস্তানী মিলিটারীর হাতে নিজ পরিবার, কিংবা বর্ধিত পরিবারের কাউকে না কাউকে হারায়েছে; আইয়ুব ও ইয়াহিয়ার বিপক্ষে সংগ্রাম ও যুদ্ধই বাংগালী জাতির ইতিহাস; এরপরও এদের এক বড় অংশ আমাদের ২ জন জেনারেলকে ভোট দিয়ে, সাপোর্ট দিয়ে ১৯৭৫ সাল থেকে আজ অবধি ক্ষমতায় রেখেছে; এরা নিজেরা ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে, সাথে পুরো জাতিকে বিশালভাবে পেছনে নিয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ ভোর ৫:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




