
১৯৭৫ সালে বিএনপি ছিলো না, বিএনপি'র বাবা ছিলো, একা; সে একাই আওয়ামী লীগকে চুরমার করে দিয়েছিল; যেই আওয়ামী লীগ আইয়ুব খানকে দরজা দেখায়ে দিয়েছিল, উহারা উঠোনেও ছিলো না, চারিদিকে ছড়ায়ে পড়েছিল; তারা জেনারেল জিয়াকে বাদ দিয়ে নিজেদের মাঝে মারামারিতে ব্যস্ত ছিলো। জিয়া ভেবেছিল যে, আওয়ামী লীগের একাংশ উনার সাথে আসবে, সেটা কিন্তু ঘটেনি; জিয়া তাদের টানতে না পেরে বাকীদের নিয়ে বিএনপি গঠন করেছে; অবশ্য বাকীরা জানতো না যে, তারা কার দলে যাচ্ছে; কারণ, জিয়ার সাথে তাদের গরমিল ছিল ১৮০ ডিগ্রি, জিয়া মুক্তিযোদ্ধা, উনারা অমুক্তিযোদ্ধা; ঘটনা সেইদিকেই গিয়েছে, হাত ধুয়ে খালি প্লেট নিয়ে অপেক্ষা; প্লেটে মাংস এসেছে ১৯৮১ সালের পর।
জিয়ার দলে আওয়ামীদের অনুপস্হিতি, আগামীদিনে বিএনপি ও আওয়ামীদের মাঝে যে একটা সংঘাতের জন্ম দিবে, সে সম্পর্কে কিছুটা ইংগিত শুরু থেকেই দিয়েছে।
সেই সংঘাত ঠিক সময়ে জন্ম নিয়েছে, এবং ক্রমেই বড় হয়েছে: ১৯৯৬ সাল, ২০০১ সাল, ২০০৬ সাল, ২০১৩ সাল, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে। এবার একটা ফাইনাল সংঘাত হবে, নাকি শুধু গলাবাজি হবে?
আওয়ামী বিএনপি সংঘাতটা রাজনৈতিক হয়নি, হয়েছে পেশীগত; কারণ, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী রাজত্বের অবসান হয়েছে হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে, রাজনৈতিকভাবে নয়।
বিএনপি'তে রাজনীতিবিদ ছিলো না কোনকালে, আর আওয়ামী লীগে আছে ছাত্ররাজনীতিবিদ; বিএনপি এখনো সুযোগে বিশ্বাসী, আওয়ামীরা পেশীতে বিশ্বাসী; বাংলাদেশের পটভুমিতে দুটোই ভালো ফল দিয়ে আসছে ১৯৭২ সাল থেকে।
এবার যদি ফাইন্যাল সংঘাত হয়, দুটোকেই পেশী নিয়ে নামতে হবে; কারণ, ২০১৫ সালের সংঘাতে বিএনপি সামান্য পেশী নিয়ে নেমে ১০০ ভাগ পরাস্ত হয়েছে; এরপর তারা রাজনীতি নিয়ে উপস্হিত হয়নি, সুযোগও নেই, মইনরোড বেদখলে।
বিএনপি জানে যে, তাদের ছোট্ট একটা পেশী আছে, জামাত; সেটা দিয়ে শুরু করলে; যদি আওয়ামী-বিরোধী জনতা নামে, কাজ হবে; বিএনপি জয়ী হবে না, তবে আওয়ামীদের পতন হতে পারে; বিএনপি জয়ের আশায় নামবে না, একমাত্র আশা, যদি আওয়ামী দুর্গের পতন হয়, সেটাই বিজয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




