
গতকাল, শেখ হাসিনা উনার মন্ত্রীসভার লোকদের নিয়ে বসে চা খেতে খেতে নাকি নতুন এক "ডিজিটাল আইন" আবিস্কার করেছেন, ইহা নাকি ৫৭ ধারা থেকেও কঠিন! উনি মনে হয়, রাজা হবুচন্দ্রকে পছন্দ করেন; হবু আইন করেছিল, যা কিছু ঘটুক না কেন, রাজ্যের সব নাগরিককে হাসতে হবে! শেখ হাসিনা হাসতে হবে বলছেন না, কিন্তু সব নাগরিককে বলতে হবে, "উনার সরকার ভালো করছেন, উনার সরকার ভালো করছেন"; কোন ব্যাপারে সমালোচনা করা যাবে না; করলেই লালঘরে ঢুকাবেন।
উনি ছোট একটা ব্যাপার ভুলে যাচ্ছেন যে, গল্পের হবুচন্দ্র "রাজা" ছিলেন; কিন্তু তিনি (শেখ হাসিনা) রাজা বা রাণী নন, বাংলাদেশের প্রাইম মিনিষ্টার মাত্র। গল্পের হবুচন্দ্র নিজেই শুলে চড়েছিলেন; উহা গল্পের জন্য খারাপ না; কিন্তু আজকের বাংলাদেশ গল্প নয়, উহা বিশ্বের অন্য দেশসমুহের মতই একটি দেশ; এবং বাংগালীদের কিছু ইতিহাস আছে, এরা ভালুকের মতো ঘুমায়ে থাকে, জেগে উঠলে খবর হয়ে যায়, আইয়ুব-ইয়াহিয়ারাও টিকেনি।
তিনি বাংলাদেশের ৪৭ বছরের মাঝে সবচেয়ে সাহসী দলনেত্রী হিসেবে নিজকে প্রতি্ষ্ঠিত করেছেন, ৩৬ বছর উনাকে কেহ চ্যালেন্জও করেনি; ফলে, উনি ধরে নিয়েছেন যে, উনি মানেই বাংলাদেশ, আর বাংলাদেশ মানেই উনি; এটা সঠি নয়।
ফ্রান্স বিপ্লবের পর, বিশ্বে নতুন রাজনীতি চালু হয়েছে, মানুষ নিজকে নিজেই শাসন করছেন, ভালো থাকছেন; বাংগালীদের সময় লাগছে বেশী; তাই বলে বাংগালীরা কিন্তু হবুর দেশে নেই; মানুষ নিজেদের লোকজন থেকে নিজেদের সরকার গঠন করবেন: আলাপ হবে, আলোচনা হবে, সমালোচনা হবে; এটাই আজকের বিশ্বের রাজনীতি; মুখ বন্ধ করার রাজনীতি শুধু আফ্রিকায় চলতে পারে, বাংলাদেশে চলার কথা নয়।
যারা মানুষের কথা শুনলে ভয় পায়, তারা সরকার চালানোর জন্য উপযুক্ত নন; যারা বেঠিক কথা বলে, কেহই তাদেরকে দাম দেয় না; রিজভী সাহেব, কিংবা ড: হাছান মাহমুদ কি বলে, সেটা নিয়ে কেহ মাথা ঘামায় না; কিন্তু নাগরিকদের বলার অনেক কিছু আছে, সেগুলো বলতে না দিলে, সব কথা জমে যাবে; জমে জমে পটেনশিয়াল এনার্জির সৃস্টি করবে, শেষে সব বাঁধ ভেংগে বেরিয়ে আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




