
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রটারী বলেছেন যে, বিএনপি'র অভিমান ভাংগিয়ে, আদর করে, তাকে ভোটে ডেকে আনা হবে না; সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, এটা মোটামুটি অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। দল হিসেবে বিএনপি'র শুরু, ক্ষমতায় থাকার সময়ের আচরণ, বিরোধীদলে থাকার সময়ের আচরণ, সংসদে না থাকার সময়ের আচরণ, সাম্প্রতিক সময়ের আচরণ, সব পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ, সব মিলিয়ে দেখছে; এবং এই ধরণের ঘোষণা দিচ্ছে।
রাজনীতির দিক থেকে, আওয়ামী লীগ নিজেই আদর্শ দলের উদাহরণ নয়; তাদের একমাত্র পুঁজি, তারা স্বাধীনতার সময়ের দল; বলতে গেলে, ১৯৭২ সালের শুরু থেকেই তারা জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে; স্বাধীনতার পর, আওয়ামী লীগের আচরণে মানুষ হতাশ হয়েছিল। সেই হতাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে, আওয়ামী লীগের বেশ পরিমাণ সাপোর্টার বিএনপি'কে সাপোর্ট দিয়েছিল; সেটা আওয়ামী লীগের মান সন্মানের জন্য ক্ষতি হয়েছিল; এর বেশী বাইরে যা ঘটেছিল, সেটা জাতীর উপর দিয়ে গেছে, জাতীয়-ঐক্য ভেংগে গিয়েছিল, যা আর কোনদিন জোড়া লেগেনি।
মানুষ আওয়ামী লীগকে শাস্তি দিতে চেয়েছিল; সেই শাস্তির সুযোগটা এক সময় জনতার কন্ট্রোলের বাহিরে চলে গেছে; সেটাকে কাজে লাগায়েছে মিলিটারী, জামাত ও পাকিস্তানী মিলিটারী। শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর, আওয়ামী লীগ তাদের দল নিয়ে ব্যস্ত ছিল, মানুষ নিয়ে তেমন চিন্তিত ছিলো না কোনদিন। তারা মানুষকে দলে টেনে ক্ষমতায় যেতে পারেনি, তাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বিএনপি'র বদনাম হওয়া অবধি, এগুলো রাজনীতি নয়।
মিলিটারী বেগম জিয়াকে ব্যবহার করে, জোড়াতালি দিয়ে ২০০৬ সাল অবধি ক্ষমতা দখল করে রাখতে সমর্থ হয়েছিল; তারা মানুষের কথা পুরোপুরি ভুলে গিয়ে দলের লোকদের জন্য দেশ চালায়েছিলো। এখন তারা আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে ধরা খেয়েছে; এই মহুর্তে, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই তাদের বিপক্ষে যাচ্ছে; দলের এই মর্মান্তিক অবস্হায়, বিদেশে অবস্হানরত, শাস্তিপ্রাপ্ত অপক্ক লোককে তারা সভাপতি বানায়েছে।
২ দিন আগে, মির্জা সাহেব শেখ হাসিনাকে কড়া ভাষায় বলেছেন যে, বিএনপি সঠিক কাজ করেছে, তারেক জিয়াকে সভাপতি বানায়ে; আজকে, মির্জা সাহেব আওয়ামী লীগকে অনুরোধ করছেন "ডায়ালগে" বসতে; এগুলো কি এভাবে কাজ করে; এগুলো কি রাজনীতি?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৮ সকাল ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



