
এবার, ২০ লাখ ৩২ হাজার ছেলেমেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। ১০ম শ্রেণীর ফাইনালে পাশ (এসএসসি) করতে না পারা, নিশ্চয় জীবনের প্রথম বড় ধরণের পরাজয়; কেহ ফেল করতে চাহে না, পরিবারও চাহে না যে, তাদের বাচ্চা ফেল করুক; এবং সেজন্য, পরিবারগুলো ও ছেলেমেয়েরা "প্রশ্নফাঁস"কে লুফে নিচ্ছে! গতকাল, বাংলাদেশে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ছেলেমেয়ে ফেল করেছে; এদের ভবিষ্যত কি, নাহিদ সাহেব কি করবেন? আপনি নিজকে নাহিদ সাহেবের স্হলে ভেবে, একটা সমাধান দিন।
বৃটিশ আমলে, স্কুল পাশ করাকে বলা হতো এ্যানট্রেন্স পাশ করা; ১৯৪৭ সালে যারা বৃটিশের অধীনে সর্বশেষ ব্যাচ হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন, তাঁদের বয়স এখন ৮৮ বছর থেকে শুরু করে ৯০ বছরের উপরে; নিশ্চয় আপনার পরিচিতদের মাঝে বৃটিশ আমলের পাশ করা অন ব্যক্তি নেই, আমার পরিচিতদের মাঝেও কেহ নেই। বৃটিশের পড়ালেখার নিয়ম ছিলো সোজা: মা-বাবার পয়সা আছে পড়, ফেল করলে আবার পরীক্ষা দাও, যতবারে পার পাশ কর।
আজকে ২০১৮ সালে, স্বাধীন বাংলাদেশে, ১৪/১৫ বছর এক বাচ্ছার সামনে একই নিয়ম, একই চ্যালেন্জ: "মা-বাবার পয়সা আছে পড়, ফেল করলে আবার পরীক্ষা দাও, যতবারে পার পাশ কর।" আমাদের নাহিদ সাহেব ও ততকালীন কলোনিয়েল ভারতে, বৃটিশের শেষ শিক্ষা-অফিসারের নিয়মের মাঝে কোন পার্থক্য আছে?
আপনি থাইল্যান্ডের মন্দিরগুলোতে যান, ছবি থেকে দেখতে পাবেন, ১৯৪৭ সালের বানরগুলো থেকে এখনকার বানরেরা বড় ও নাদুস নুদুস, মানুষ দেখলে ভয় পায় না, মানুষের সাথে দহরম মহরম; ৭০ বছরে বানরের জীবনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে (চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে বানরের বিলুপ্তি ঘটছে); কিন্তু বাংলার ছেলেমেয়েরা বৃটিশের একই নিয়ম অনুসরণ করে পাশ/ফেল করছে; এসব নাহিদ সাহেবরা চিরিয়াখানায় বানরের দেখাশোনা করলে জীবনে বেশী সুনাম অর্জন করতে পারতেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



