
আগামীকাল, ১০ই মে বাংলাদেশের ১ম স্যাটেলাইট আকাশে যাবার সম্ভাবনা আছে। গত কয়েকমাস বারবার চেষ্টা করেও উহাকে আকাশে পাঠানো সম্ভব হয়নি; মনে হয়, উহা নাসির উদ্দিন হোজ্জার গাধার মতো, ইচ্ছে হলে বোঝা টানে, ইচ্ছা হলে শুয়ে থাকে! আগামীকাল নাকি পাঠানো হবেই হবে; আজকের ভেতর প্রাইম মিনিষ্টারের ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আসবে উহাকে ঠেলে আকাশে তোলার জন্য; এবার হয়তো উড়বে। আপনারা যারা দেখতে যাবেন, নিজ খরচে হেলমেট কিনে নিবেন।
ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স ও অংকের পরীক্ষার সময়ে প্রশ্নফাঁস চলছে; আবার, সেই দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে আমেরিকার ফ্লোরিডায় চলছে রাজনৈতিক ক্যাডারদের সন্মেলন, হোটেলগুলোতে নাকি রুম পাওয়া যাচ্ছে না। আমি মনে করেছিলাম, নারায়নগন্জের জিনজিয়ায় তৈরি হয়েছে স্যাটেলাইট; এখন দেখা যাচ্ছে, উহা আসলে ফ্রান্সের এক কোম্পানী তৈরি করেছে, আমেরিকা থেকে উৎক্ষেপণ হবে, বাংগালীদের কাজ হবে হাতে তালি দেয়া।
স্যাটেলাইটের দরকার আছে, তবে অ আ না শিখে, ৩০০০ কোটী টাকা খরচ করে, আকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করাটা কেমন যেন বেক্ষাপ্পা মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ উহাকে কন্ট্রোল করে, কাজে লাগিয়ে কত টাকা বাঁচাবে, সেটা নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছিল কিনা কে জানে! যেভাবে উহাকে কিনে, আকাশে পাঠাচ্ছে, তাতে আমাদের দেশের কেহ কিছু শিখেছে কিনা কে জানে? শিখলে ভালো, না হয়, ঘুড়ি উড়ানোর আনন্দ পাওয়া যাবে।
সরকার অনেক কিছুই করছে, মানুষ জানে বলে মনে হয় না; এগুলো কি দরকারী, নাকি ব্যবসায়ীদের কারসাজী বুঝা মুশকিল; কারণ, দেশে এইসব নিয়ে সরকারের বাহিরে, ইউনিভারসিটি বা ইন্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন ইত্যাদিকে সাথে নিয়ে কোন জাতীয় কমিটি টমিটি গঠন হয়েছে বলে মনে হয় না। ইহা কি আসলে দরকারী কোন জিনিষ নাকি বড় আকারের বাংলাদেশী ঘুড়ি, তা মানুষকে জানালে ভালো হতো। ইহাকে আকাশে দেখে, আমাদের ছেলেরা হয়তো পড়ালেখায় মন দেবে, হয়তো ফাঁসকরা প্রশ্নের আর দরকার হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



