
বাস, ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মানুষ মারা গেলে, এবং জনতা যদি উহাকে আটকাতো পারতো, বিশেষ করে ড্রাইবারকে পিটায়ে কিছু রাখতো না; কিছু কিছু ঘটনায় গণপিটুনীতে ড্রাইবার মারাও গেছে; এরপর মানুষ ঐ যানটিকে ভেংগে টেংগে দিতো। চাকায় পিষ্ট হয়ে ছাত্র মারা গেলে, একই অবস্হা হতো; তবে, তারা অন্য বাস, ট্রাকও ভাংগতো, আগুন লাগায়ে দিতো; তারপর, সড়ক দখল করে, যান-বাহন চলাচল বন্ধ করে দিতো; এক সময়ে বাড়ী চলে যেতো।
এবার রাজিব ও দিয়া খানম চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করার পর, দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা, সরকার কাঁপিয়ে দিয়েছে; সরকার এখও ভালুকের মত কাঁপছে। যেখানে, সাধরণত: ছাত্ররা রাস্তায় কয়েক ঘন্টা থাকে, এবার তারা ৮ দিন ছিল, আরো থাকার চেষ্টা করছে; এত দীর্ঘ সময় তারা থাকছে কেন? এবারের ঘটনায় এভাবে তারা পুরো শহরে নামলো কি করে?
ছাত্ররা প্রমাণ করেছে যে, ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট থেকে, ২৫ বিলিয়ন ডলার বেতন হিসেবে যেসব সরকারী চাকুরে নিচ্ছে, তারা কাজ করে না দেশের জন্য; ফলে, দেশে কোন কিছুই ঠিক মতো হয় না; যানবাহন চলে বেপরোয়াভাবে, এতে প্রানহানী হচ্ছে অকারণে; সরকারের লোকেরা কাজ করলে, ৯৮% এ্যাকসিডেন্ট কম হতো, যানযট এত হতো না।
ছাত্ররা রাস্তায় নামার পর, কিছু বাস ভেংগেছে, কয়েকটায় আগুন লেগেছে; মালিকেরা যত খারাপ হোক না কেন, তারা বাস হারাতে পারবে না, এটাই তাদের সম্পদ; সুতরাং, বাস চলাচল বন্ধ; শহরে, বাস বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়, সব স্হবির হয়ে যাবে ক্রমেই। ছাত্ররা রাস্তায় থাকলে অনেক কারণেই রাস্তায় বাস চলতে দিচ্ছে না মালিকেরা; আবার ছাত্ররা বাড়ীও ফেরছে না; এই অবস্হায় সমাধান কি?
ছাত্ররা ৯ দফা দাবী দিয়েছে, ধারণা করা হয়েছিলো, যা মানলে ছাত্ররা রাস্তা ছাড়বে; ৯ দফা মানলেন শেখ হাসিনা; এখন কথা উঠলো, ৯ দফা যিনি মেনেছেন, তাঁকে বিশ্বাস করা যায় না; কারণ, তিনি কোটা আন্দোলনে কথা দিয়ে কথা রাখেননি। ঠিক আছে, উনাকে বিশ্বাস করা যাবে না, ভালো; কিন্তু সমাধান কি, রাস্তায় থেকে যাওয়া, নাকি শেখ হাসিনাকে বাদ দেয়া?
ছাত্রেরা যখন উঠছে না, আবার শেখ হাসিনাকেও বাদ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, এটা নতুন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। এটার সমাধান কি, এবং কারা এটার সমাধান করবে?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


