
উপরের ছবিতে যাদের দেখছেন, এরা হন্দুরাসের লোকজন, এরা আমেরিকা আসার জন্য মোটামুটি অনেকটা পায়ে হেঁটে রওয়ানা হয়েছেন; এই দলে এখন ৪ হাজারের কাছাকাছি লোকজন আছেন ,পথে পথে আরো মানুষ যোগ দেবে: দলে, পুরুষ, মহিলা থেকে ছোট বাচ্চারাও আছে; এরা এক সপ্তাহে আগে, হন্দুরাস থেকে যাত্রা শুরু করেছেন; হন্দুরাস আমেরিকার দক্ষিনে অবস্হিত ৩য় দেশ; এই দলের লোকেরা গুয়াতেমালা অতিক্রম করে, মেক্সিকোতে ঢুকেছে আজ; আমেরিকা অবধি পৌঁচতে এদেরকে আরো ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে হবে; এরা দারিদ্রতা থেকে বাঁচার জন্য আমেরিকা আসছে! সাম্প্রতিককালে, ঘোষনা দিয়ে এইভাবে দল বেঁধে আমেরিকায় প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
আমেরিকা মহাদেশে যারা খুবই ভালো আছেন, তারা সবাই কলম্বাসের পরের ইমিগ্রেণ্ট, যারা বেশী খারাপ অবস্হায় আছেন, তাদের সিংহভাগ স্হানীয় আমেরিকান, ও আফ্রিকান আমেরিকান। আমেরিকা (ইউএস) বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও সম্পদশালী দেশ; আমেরিকার উত্তর পাশে আছে কানাডা, সেটাও ধনী দেশ। আমেরিকার দক্ষিণে ১ম দেশ হচ্ছে মেক্সিকো, এটা মোটামুটি দরিদ্র দেশ; মেক্সিকোর দক্ষিণে গুয়াতেমালা, ইহা মেক্সিকো থেকে দরিদ্র; গুয়াতেমালার দক্ষিণে আছে হন্দুরাস, ইহা গুয়াতেমালা থেকে দরিদ্র। কানাডা, ইউএস ও ব্রাজিল বাদে, আমেরিকা মহাদেশের বাকী দেশগুলো মোটামুটি স্পেনিশ ভাষাভাষীদের দেশ; এরা সবাই কমবেশী দরিদ্র; এদের দেশে বসুন্ধরা, সালমান রহমানরা ও বস্তি আছে, মাঝামাঝি কেহ নেই!
আজকে এরা মেক্সিকোতে সামান্য সাহায্য পেয়েছে; মেক্সিকানরা চাইবে যে, এরা আমেরিকার দিকে চলে যাক। এদিকে ট্রাম্প বলেছে,ওরা যদি আমেরিকার দিকে আসে, বর্ডারে রেগুলার সৈন্য মোতায়েন করা হবে, ও আমেরিকান-মেক্সিকান বর্ডার পুরোপুরি সীল করে দেয়া হবে।
মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও হন্দুরাস কেন এত দরিদ্র? এদের মাথাপিছু প্রাকৃতিক সম্পদ আমেরিকানদের সমান; কিন্তু একটি বিষয়ে এরা পেছনে: পড়ালেখা; এদের সরকারগুলো এদের পড়তে দেয় না। আমেরিকানদের গড় মাথাপিছু আয় ৪৮০০০ ডলার, হন্দুরাসের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় ১৬০০ ডলার।
আমেরিকানদের সামনে একটা ছোট সমস্যা: এদের আসতে না দিলে এই মানুষগুলোর প্রতি অমানবিক ব্যবহার হবে; আবার, আসতে দিলে, এরপর, দক্ষিণ আমেরিকার সবগুলো দেশ থেকে মানুষ সবকিছু ফেলে দলে দলে রওয়ানা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


