
আগামী ভোটে বিএনপি'র জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে; উল্টো, এই ভোটকে কেন্দ্র করে, বিএনপি-নেতৃত্বের একাংশ কি অন্য দলগুলোর মাঝে বিলীন হয়ে যেতে পারে? কিছু নেতা কি মাহী চৌধুরীর 'বিকল্প পার্টি', কর্ণেল ওলির এলডিপি, জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি, কেহ কেহ জামাতে চলে যাবার সম্ভাবানা আছে নাকি?
জেনারেল জিয়া বিএনপি গঠন করেছিলেন উনার গুরু আইয়ুব খানকে অনুসরণ করে, উনার বেলায় সেটা কাজ করেছে; উনি জীবিত থাকাকালীন বিএনপি'র সবাই জানতেন যে, দলের মালিক জেনারেল জিয়া, তারা সবাই উনার অনুসারী। এটা ঠিক যে, জেনারেল জিয়া মিলিটারীর বাইরে কাউকে নেতা বা মানুষ হিসেবে গণ্য করতেন না; তিনি তাদেরকে শ্রমিক মৌমাছি হিসেবে জানতেন। বিএনপি'র অনুসারীদের কোন আদর্শ, উদ্দেশ্য ছিলো না; তাদের মাঝে একটি মিল ছিলো, সবাই শেখ সাহেব বিরোধী।
জেনারেল জিয়া জীবিত থাকাকালীন কোন নেতা বিএনপি'তে নিজের ভুমিকা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, তিনি নিজে আসলে বিএনপি'র কে, এবং তাকে কি করতে হবে; কাজ করেছেন ক্যাপটেন ওলি, জেনারেল মীর শওকত আলী, মেজর হাফিজ, জেনারেল এরশাদ ও শতশত মিলিটারী অফিসার; ডা: বদরুদ্দোজারা নেতার অভিনয় করতেন। ১৯৮১ সালে, জেনারেল জিায়র মৃত্যুর পর, প্রথমবারের মতো বিএনপি'র লোকেরা জানলেন যে, তারা সেই দলের মানুষ।
১৯৯১ সালে বেগম জিয়া প্রাইম মিনিষ্টার হওয়ার পর, আবারো দল চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে; দল আছে, নেতারা আছেন, সবই আছে, আবার কিছুই নেই। এখন বিএনপি মোটামুটি মিলিটারী নেতৃত্বের বাহিরে একটি দল; কিছু ব্যবসায়ী ইহাকে চালু রেখেছেন; বেগম জিয়া জেলে যাবার পর, ইহা প্রায় মালিকানাহীন; সবাই আছেন, আবার কেহ নেই।
মিলিটারী নেতৃত্ব বিহীন বিএনপি কোন রাজননৈতিক দল নয়, এটা এমনি একটি দল, যাদের মাঝে কিছু মিল আছে; কোন রাজনৈতিক আদর্শ নেই, কোন এজেন্ডা নেই; একমাত্র এজেন্ডা সরকার চালানো। এভাবে একটা দল টিকে থাকার কথা নয়; এখন একমাত্র কমন মিল হলো, সবাই শেখ হাসিনা বিরোধী; সময়ের সাথে শেখ হাসিনা বিরোধিতা করা কঠিন হয়ে গেছে; ফলে, অনেকে আশাহত হচ্ছেন; বুঝতেছেন যে, বিএনপি'তে থেকে শেখ হাসিনাকে কিছু করা হয়তো সম্ভব হবে না। বেগম জিয়া না থাকলে, কেহ যে দলের ভার নিয়ে উহাকে চালু রাখবে, সেই রকম কেহ বিএনপি'তে আপাতত: নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


