
১৯৫২ সালে, কি ধরণের পরিবারের ছেলেমেয়েরা ঢাকা মেডিক্যাল, আহসান উল্লাহ ইন্জিনিয়ারিং, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন? আপনাদের পরিবারের কয়জন ছিলেন তখন ঢাকা মেডিক্যালে, আহসান উল্লাহ ইন্জিনিয়ারিং'এ, বা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে? আমাদের গ্রামের, পাশের গ্রামের, আমাদের ইউনিয়নের কেহ ছিলো না। যারা ১৯৫২ সালে এসব স্কুলে পড়েছেন, সবাই পরে, পাকিস্তানে ও বাংলাদেশে বড় বড় পোষ্টে চাকুরী করেছেন, দেশ চালায়েছেন, লাখ লাখ মিটিং'এ বক্তৃতা করেছেন, ভাষা সৈনিক হিসেবে সন্মানিত হয়েছেন।
আমি দেশের ভেতরে ও বাহিরে এঁদের বক্তব্য শুনেছি, এদের মাঝে যাদের সাথে সামনাসামনি কথা হয়েছে, তাঁরা হলেন: আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, গাজীউল হক, মতিন সাহেবে। এদের বক্তব্যে পাকিস্তান সরকারকে গালি দেয়া, পুলিশের গুলি, পাকিস্তান সরকারের বাংগালী নেতাদের বদনাম ছিল; নিজেদের বীরত্বের কাহিনী ছিলো।
এদের বক্তব্যে যে ব্যাপারটা একবারও আসেনি, এবং কোনদিন আর আসার সম্ভাবনা নেই, গরীবদের পড়ালেখার ব্যাপারটা, ফ্রি পড়ালেখার ব্যাপার, সরকারী উদ্যোগে সবাইকে 'বাংলা'য় নাম লেখা শেখনোর দাবীটা। এরা সবাই সরকারের বড় বড় চাকুরী করেছে, এরাই সিএসপি, বিসিএস হয়ে দেশ চালায়েছে, অন্যের কিশোরী মেয়েদেরকে ঘরে চাকরাণী করে তাদেরকে পড়ালেখা থেকে বন্চিত করেছে, নিজের ছেলেমেয়েকে উচ্চশিক্ষা দিয়েছে বিদেশে; এরা 'ভাষা সৈনিক' ছিলো না, ছিলো জাতীয় গল্পকার।
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সরকারী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অবধি প্রতিবাদটা সঠিক ছিলো; বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা দাবী করা ছিল অন্যায়; পশ্চিম পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের পক্ষে বাংলা শেখার কোন সম্ভাবনা ছিলো না; উর্দুর পক্ষে কথা বলে জিন্নাহ সাহেব যেই ভুল করেছিলেন, আমাদের ৩ বিখ্যাত স্কুলের ছাত্ররা একই ভুল করেছিলেন; ইংরেজী ছিলো তখনকার প্রশাসনের ভাষা, সেটাই ছিলো সঠিক ভাষা; ততকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যালে ও আহসান উল্লাহ ইন্জিনিয়ারিং'এর ছাত্রদের সীমিত ভাবনাশক্তির প্রতিবাদের ফলে ৪ জনের বেশী তরুণ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, আবদুল গাফফার সাহেব গান লিখে প্রসিদ্ধ হয়েছেন; আজ অবধি শ'তে ৪০ জন বাংলায় লিখতে পড়তে পারেন না। এদের বক্তব্য শুনেছি শতবার, প্রতিবারই মনে হয়েছে যে, উনাদের বক্তব্যগুলো মোটামুটি হাউকাউ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
