
ব্লগারেরা একটি নতুন জেনারেশনের বাংগালী; ভাবনাশক্তির দিক থেকে এঁরা মুক্তমনা মানুষ: জীবন, সমাজ, জাতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে এঁদের ভাবনা আধুনিক; এরা রক্ষণশীল বাংগালী হিসেবেই ব্লগে আসেন, সময়ের সাথে ব্লগ এঁদের বদলায়ে দেয়, ২/৩ বছরের মাঝে প্রায়ই ব্লগারের মাঝে বিশাল পরিবর্তন আসে, অনেক ব্লগার হয়তো নিজের বিবর্তনকে লক্ষ্য করেন না; কিন্তু সব ব্লগারের মাঝেই পরিবর্তন আসে। অনেক ব্লগার অন্য ব্লগারকে মুক্তমনা বলে পরিহাস করেন, কারণ, তাঁরা নিজকে রক্ষণশীল হিসেবে ভাবেন; কিন্তু নিজেই যে, মুক্তমনায় পরিণত হয়েছেন, সেটা হয়তো নিজের কাছে ধরা পড়ে না।
মুক্তমনা নিয়ে অনেক ডেফিনেশন আছে: সময়, স্হান ও জাতি বেদে উহার ডোমেইন ছোট, বড় হয়ে থাকে; কোন বিষয়ের উপর প্রতিষ্টিত বিশ্বাস, ধারণা ইত্যাদি লজিক্যাল কারণে বদলায়ে গেলে, নতুন ধারণাকে ধারণ করাই মুক্তমনার একটি গুণ। এক সময়, মানুষের ধারণা ছিলো যে, বজ্রপাত হয় শয়তানকে শারীরিক শাস্তি দেয়ার জন্য, এখন মানুষ জানে ব্যাপারটা কি! মানুষ এখন ঠিকভাবে বুঝে যে, বজ্রপাত মানুষকে হত্যা করতে পারে, বজ্রপাত শয়তানের গায়ে লাগে না; কারণ, মানুষ দেখেছে যে, মানুষের মৃত্যু হলেও শয়তানের মৃত্যু হয় না, সে মানুষের মনের মাঝে, কথায়, সাহিত্যে, ধর্মের মাঝে বেঁচে থাকে!
বাংলাদেশের মানুষ বিশাল বিশাল ভুল ধারণার লালনকারী রক্ষণশীল জাতি; এদের একটা বড় রক্ষণশীলতা হলো, সন্তানের শিক্ষা পরিবারের দায়িত্ব! ভারতে আধুনিক শিক্ষা এনেছিলো ইংরেজ জাতি; কিন্তু কলোনিয়েল শক্তি হিসেবে তারা শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা শুধু ধনী পরিবারগুলো যাতে শিক্ষার সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্হা নিয়েছিলো। আজ ২০০ বছর পরেও বাংগালীরা বিশ্বাস করে যে, শিক্ষা পরিবারের ব্যাপার, এই ভুল ধারণা বাংগালীকে ২০০ বছর পেছনের কলোনিয়েল সিষ্টেমে আটকায়ে রেখেছে। আমি ব্লগে আগে প্রায়ই দেখতাম, প্রায়ই ব্লগার অন্য ব্লগারের সাথে লেগে গেলে, শিক্ষাদীক্ষা, স্বভাব ইতয়াদি নিয়ে পরিবারকে টানতো; এটা ক্রমেই কমে আসছে ব্লগে; কিন্তু জীবিত আছে! ব্লগের বাহিরে, সারা বাংলায়, পরিবারকে টানা অনেকটা হাদিসে সমান বাণী।
ইউরোপ, আমেরিকা, মানে পশ্চিম খুবই দ্রুত পরিবর্তনশীল; শিক্ষাই তাদেরকে এতো গতিশীল করেছে; আজকের পশ্চিমে রক্ষণশীল শব্দটাও নতুন অর্থ বহন করছে; রক্ষণশীল শব্দটা আজকে পশ্চিমে বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনীতিতে; যারা জাতির চলমান ট্রেডিশনকে ধরে রাখার পক্ষপাতি, তারাই পশ্চিমে রক্ষণশীল। পশ্চিমের অর্থনীতি ক্যাপিটেলিজম, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা গণতান্ত্রিক; ইহাকে প্রচলিত ট্রেডিশন হিসেবে ধরে রাখতে চাইলে সমাজের খুব একটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই; কিন্তু পশ্চিম মনে করে, মুক্তমনারাই সমাজকে ভালোর দিকে টানছেন।
বাংলাদেশে মুক্তমনাদের এখনো পরিহাস করা হচ্ছে, রক্ষণশীলতাকে উৎসাহিত করছে সমাজ; কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণশীলতা পুরাতন ভুল ধারণার উপরেই প্রতিষ্ঠিত: বজ্রপাত মানে শয়তানকে শাস্তি দেয়া, বা শিক্ষার ভার পরিবারের উপর, এসব ভুল ধারণা পোষণ করাটা রক্ষণশীলতা নয়, বেকূবীকে ধারণ করা মাত্র।
বাংলাদেশের শিক্ষাংগন মুক্তমনা তৈরির চেয়ে রক্ষণশীল শিক্ষিত প্রস্তুত করছে; ব্লগে এদের দেখা মিলে; কিন্তু ব্লগের বিশাল প্রভাব হলো, বাংগালীকে তাদের ভুল রক্ষণশীলতা থেকে মুক্ত করছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




