
পুর্ব পাকিস্তানের শেষ বছরগুলো ও বর্তমান বাংলাদেশ পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেজুয়েটদের ভুমিকা বাকী অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক অনেক বেশী; যেহেতু, পুর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভয়ংকর বিশৃংখলা ও অসফলভাবে চালানো হয়েছে, ও হচ্ছে, ঢাকা ইউনিভার্সিটির গ্রেজুয়টদের শিক্ষা ও দক্ষতার মান যে নীচু তা' সহজে অনুমান করা যায়। সময়ের সাথে ঢাকা ইউনিভার্সিটির গ্রেজুয়েটদের মান আরো নীচের দিকে যাচ্ছে ক্রমাগতভাবে।
ভাষা আন্দোলন, ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সবচেয়ে বড় ও প্রথম সফল আন্দোলন হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা; আসলে, সঠিকভাবে ভাবলে, ঐ আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভাবনার সীমাবন্ধতা সজেই ধরা পড়ে; পশ্চিম পাকিস্তানের নিরক্ষর মানুষদের কথা ভেবে, কোন অবস্হায় বাংলাকে প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে দাবী করা উচিত হয়নি; পশ্চিমের নিরক্ষরেরা নিশ্চয় উর্দুকে প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে বাংগালীদের উপর চাপিয়ে দিতে চাহেনি।
ডাকসু: ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, ছাত্রদের নির্বাচিত, ছাত্রদের একটি কমিটি, যা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছাত্রদের অধিকার রক্ষা, এবং সম্ভবমতো ছাত্রদের সার্বিক সাহায্য করার কথা। ১৯২৪ সালে কমিটি প্রথমবার গঠিত হয়, ও ১৯২৫ সালে এই কমিটির গঠনতন্ত্র রচনা করা হয়। গঠনের পর থেকে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার সময় অবধি কমিটির কার্যকলাপ সম্পর্কে তেমন কিছু পরিস্কার নয়; তবে, কমিটি কলোনিয়েল আইনের অধীনে ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষা করেছে, হয়তো।
ডাকসু কোনভাবে রাজনৈতিক নেতা তৈরির কারখানা হওয়া উচিত নয়; ইউনিভার্সিটিগুলো রাজনৈতিক নেতা তৈরি করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়নি; ইউনিভার্সিটিগুলো শিক্ষিত ও দক্ষ প্রফেশানেল তৈরি করার কথা; রাজনৈ্তিক নেতৃত্ব সব সময়ই কর্মজীবি শিক্ষিতদের থেকেই বেরিয়ে আসে। ডাকসু'তে যারা অংশ নেয়, তারা কোন না কোন ছাত্র রাজনীতি, কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতৃতে থাকে; কারো কারো ছেলেমেয়ে ইস্কুল কলেজেও পড়ছে।
ডাকসু'র সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিলো ১৯৯১০-৯১ সালে, সর্বশেষ ভাইস-্প্রেসিডেন্ট ছিলো আমান উল্লাহ আমান; আমান উল্লাহ আমান দেশের একজন অপনেতা, উনার বিপক্ষে হত্যা-মামলা ছিলো; উনার আগে যারা ছিলো, সবাই, রব, বব, মান্না, পান্মা সবাই অপনেতা হিসেবে পরিচয় পেয়েছে।
ডাকসু'তে নির্বাচিত হতো মাফিয়া ধরণের ছাত্ররা, এরা কোনদিন পড়ালেখা করতো না, এরা নিজেরাই জানতো না যে, কোন সাবজেক্টে পড়ে; এরা ইউনিভার্সিটিতে খারাপ উদাহরণ ছিলো সব সময়; এরা ইউনিভার্সিটিগুলোর হলে, সব ধরণের অসামজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকতো। এদের অফিস ও ইউনিভার্সিটি ছিলো মধুর ক্যান্টিন; এরা কেহ কোনদিন পয়সা দিয়ে মধুর ক্যান্টিনে খায়নি, জোর করে এরা দলবল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে খাওয়া দাওয়া করে আড্ডা জমাতো। এসব নেতার কাছে এখনো মধুর ক্যান্টন কোটী টাকা পাবে।
যারা ডাকসু'তে নির্বাচিত হয়েছিলো, এরা এখন দেশের বড় ২/৩ দলে আছে, এরা দেশে অপনেতা হিসেবেই আছে; এবং এরা ডাকসু'কে নেতা তৈরির কারখানা হিসেবে, ডাকসুর নির্বাচন চায়; আসলে, ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের কমিটি ছাত্রদের অধিকার রক্ষা ও ছাত্রদের সাহায্য করার কথা; কিন্তু এরা ইউনিভার্সিটিতে অপরাজনীতি চালু করে, ঢাকা ইউনিভার্সিটি'কে গোয়ালে পরিণত করেছে; সময় এসেছে ডাকসু'র গঠনতন্ত্র বদলায়ে, ইহাকে অরাজনৈতিক কমিটি হিসেবে নির্বাচিত ও পরিচালিত করার।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





