somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগার নুরু সাহেবের অভিশাপ লেগেছে নিশ্চয়ই

১৫ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাকুরী পেয়েছি বাসা থেকে ৮০ মাইল দুরে; বাস মাস, ট্রেন ম্রেন কোনকিছুই কাছাকাছি যায় না; ড্রাইভিংই যাওয়া আসার একমাত্র উপায়। চোখের সমস্যার কারণে, ডাক্তার আড়াই বছর আগেই ড্রাইভ করতে না করে দিয়েছে: সন্ধ্যার পর, আমি সামনের গাড়ীগুলোর পেছনের লাল লাইট ২টি ব্যতিত গাড়ীর বাকী অংশ দেখি না; আসল সমস্যা কিন্তু এর থেকে সামান্য বড়, আমি গাড়ীগুলোকে ডবল দেখি, কোনটা কোনলাইনে চলছে কে জানে! তদুপরি, আমার চোখ সামনের গাড়ীর দুরত্বও মাপতে পারে না, উহা কি কাছে, নাকি দুরে, আমি সহজে বুঝতে পারি না।

শীতের সময় কাজ থেকে বের হলে, অন্ধকার দেখে মনে হয় মাঝরাতে রাস্তায় বের হয়েছি; আমি আমার গাড়ীর হাযার্ড লাইট (ব্লিংকিং লাইট) জ্বালিয়ে ৬৫ মাইল স্পীডের যায়গায় ৩৫ মাইলে চালিয়ে আমি নিজকে বিপদমুক্ত রেখে চালিয়ে যাচ্ছিলাম ভালোই; আমার পেছনের ড্রাইবারেরা আমার হাযার্ড লাইট দেখে পাশ কেটে চলে যায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে সমস্যায় পড়লাম; সেদিন একজন প্রায় ১০ মিনিট আমার গাড়ীর পেছনে গাড়ী চালাচ্ছিল; আমার সন্দেহ শুরু হলো, কিছু একটা সমস্যা আছে; শেষমেষ আমার সন্দেহই সত্য হলো, পুলিশ; উহা আমাকে সিগন্যাল দিলো থামার জন্য। আমি গাড়ী থামালাম, সাথে সাথে হ্যান্ড ব্রেকটা সামান্য টেনে দিলাম

-স্যার, ড্রাইবার লাইসেন্স ও গাড়ীর রেজিষ্ট্রেশন বের করেন। আপনি হাযার্ড লাইট দিয়ে কেন গাড়ী চালচ্ছেন, গাড়ীর সমস্যা কি?
-সমস্যা বুঝতে পারছি না, গাড়ীর স্পীড বাড়ছে না; গাড়ীর ঠান্ডা লেগেছে মনে হয়!
-এটা জোকের ব্যাপার নয়, হাইওয়েতে সমস্যাপুর্ণ গাড়ী চালানো বেশ যুঁকির ব্যাপার; এজন্য টিকিট দেয়া হয়।

আমি চোখের সমস্যার কথা বলতে পারি না; বললে, যদি আমাকে গাড়ী চালাতে না দেয়, সেটা হবে বিশাল সমস্যা; আমাকে টিকেট দিয়ে ডাক্তারের কাছেও পাঠিয়ে দিতে পারে; তা'হলে আমার বোরোটা বেজে যাবে। পুলিশ অফিসার গাড়ীর চারিপাশ ঘুরে দেখে বললো,
-গাড়ী তো পুরাতন নয়, ইহার স্পীড কেন কম?
-শীতের কারণে হতে পারে নাকি?
-না, শীতে ইন্জিন ঠান্ডা থাকে, সেটা গাড়ীর জন্য ভালো।

পুলিশ অফিসার দরজার কাছে দাঁড়ি্যে গাড়ীর ভেতরে দেখলো কিছুক্ষণ; হঠাৎ বললো,
-গাড়ীর ডেশবোর্ডে "ব্রেক" সাইন কেন?
-আমি ব্রেকে পা দিয়ে রেখেছি।
-তাতে কি "ব্রেক" সাইন দেখায়? গাড়ীর গিয়ার পার্কিং'এ দেন।

আমি তাই করলাম, ব্রেক সাইন জ্বলছে ডেসবোর্ডে। অফিসার বললো,
-আপনি গাড়ীটাকে ধ্বংস করছেন! গাড়ীর হ্যান্ডব্রেক রিলিজ না করেই গাড়ী চালাচ্ছেন, সেজন্য গাড়ীর স্পীড নেই; উহা রিলিজ করে, চলে যান।

অফিসার চলে গেলো। নিজের উপর ভয়ানক খুশী হয়ে পথে থামলাম, একটু হাঁফ ছাড়ার দরকার। সার্ভিস ষ্টেশনটা মোটামুটি খালি; একটা খাবার দোকানে ঢুকে প্লেটে এক টুকরো সেমনমাছ ও সামান্য শাক নিয়ে পয়সা দিতে ক্যাশে গেলাম। ক্যাশিয়ার ৩ জন, মাঝের ক্যাশিয়ার ও ১ জন তরুণী ক্রেতা কি নিয়ে তর্ক করছে, বাকী ২ জন শুনছে, আমাকে নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই, আমি লাইনের মাথায় দাঁড়িয়ে আছি; ২ বার হাত দেখালাম, খবর নেই। শেষে বিনা অনুমতিতেই, নিজেই ১ম ক্যাশিয়ারের সামনে গেলাম। মেয়েটা একটু বিরক্ত হলো; খাবারটা ওজন করে ক্যাশের কি-বোর্ড পান্চ করছে, এমন সময় তর্করত তরুণী (ভিয়েতনামী হতে পারে) ক্রেতা আমার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে বললো,
-অন্ধ নাকি, আমার কুকুরকে পায়ের নীচে মাড়াচ্ছ কেন?
-কোথায় কুকুর?
-নীচের দিকে দেখ!

দেখলাম, খুবই ছোটাকারের একটা কুকুর মেয়েটার পায়ের কাছে দাঁড়ায়ে আমার দিকে ভীত চোখে তাকিয়ে আছে; আমার পায়ে কি একটা যেন সামান্য লেগেছিলো বলে মনে হয়।

-স্যরি, আমি দেখিনি।
-স্যরি মরি কম বলিও, চোখ খুলে হাঁটিও, তাতে সমস্যা কমবে, ঠিক আছে? নাকি তুমি অন্ধ?

মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো, স্যরি বললাম, তারপরও এসব ম্যাঁওপ্যাঁও! তরুণীকে বললাম,
-কুকুর আর মালিকের আকার তো সামানুপাতিক; সেইজন্যই আমার চোখে পড়েনি হয়তো!
-কি বললে, আমার আকার নিয়ে তুমি কথা বলছ? দেখ, তোমাকে আমি কি করি!

কি জঘন্য অবস্হা! স্যরি বলে আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমি বিনা আহবানে ক্যাশে আসায় ক্যাশের মেয়েটা আমার উপর খুশী ছিলো না; সে একটু ঘি ঢেলে দিলো:
-তুমি মানুষের আকার নিয়ে কেন কথা বলছ?
-আমি চুপ হয়ে গেছি, দেখছ না?
-চুপ হয়ে গেলে কি অপরাধ মাফ হয়ে যায়?
-ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি! আমি দরজার দিকে যেতে মেয়েটা বললো, তোমার খাবারের পয়সা?
-আমি তোমার থেকে খাবার কিনে খাবো না।
-তোমাকে খেতে বলছি না, পয়সা দিতে বলছি।
-আমি যা খাইনা, সেটার জন্য পয়সাও দিইনা।
-মালিককে ডাকবো?
-ডাকো।

মেয়েটা কোন এক মার্ককে ডাক দিলো; ক্যাশের পেছনের পেছনর দরজা হয়ে একটা লোক বেরিয়ে আসলো, আমার বয়সী হবে। মেয়েটা আমার নামে নালিশ করলো; লোকটা বললো,
-মিষ্টার, আপনি খাবার নিচ্ছেন না কেন?
আমি বাংলায় বললাম, "আমার কাছে পয়সা নেই"।
-কি বললেন?
-আমার কাছে পয়সা নেই।

লোকটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
-এই লোক ইংরেজীই জানে না, সে আবার কিসের খাবার কিনবে? সে হয়তো দরিদ্র, খাবারটা ওকে দিয়ে দাও।
-সে এতক্ষণ ইংরেজী বলছিলো।
-বলুকগে, খাবারটা এদিকে দাও।

লোকটা খাবারটা নিয়ে আমাকে দিয়ে বললো,
-মন খারাপ করবেন না, ইয়ং মেয়েরা আজকাল কাজের থেকে অকাজ বেশী করে।
আমি বাংলায় বললাম, "ধন্যবাদ"।

ভিয়েতনামী (হয়তো) মেয়াটা বললো,
-এই লোক ইংরেজী জানে।
মালিক বললো, "ইংরেজী জানলেও ক্ষুধা লাগে"।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৪:৩২
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে জিয়াউর রহমানকে ছোট করার চেষ্টা করেন তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী নয়।

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২৫ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:১১



শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এদেশের কারোর কাছে নায়ক, কারোর কাছে মহানায়ক আবার কারোর কাছে পুরাই খলনায়ক, তিনি যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসতেন মনে হয় তাকে নিয়ে এতকিছু হত না। স্বাধীনতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষকদের জন্য যা যা করা যেতে পারে

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৫ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

যে-কোনো মূল্যে আমাদের কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমরা টেকনোলজিক্যালি যত উন্নতই হই না কেন, আমরা কোনো সফটওয়্যার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো না, বা না খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য কোনো সফটওয়্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নুরু সাহেব কবি নজরুল ইসলামের উপর পোষ্ট টোষ্ট দিয়েছেন নাকি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২১



আমাদের কবি নজরুল ইসলাম ১৯০৮ সালে, মাত্র ৯ বছর বয়সে দরিদ্র ছিলেন, রুটির বেকারীতে কাজ করেছেন, লেটো গান রচনা করেছেন, মসজিদের মোয়াজ্জিন হয়েছিলেন; উনি ১৯১৭ সালে, ১৮ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

খ্যাতিমানদের রম্য কথন -৩

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২৫ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২০



বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম



বাংলা সাহিত্যে দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মূলত তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শনিবার সন্ধ্যা

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ২৫ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:১৭




আজ শনিবার।

অর্ণব সকাল থকেই অস্থির হয়ে আছে। কোন কাজে মন বসছে না। চোখ কিছুটা লাল, নিচে কালি। সারারাত ঘুম হয় নি । আজ কি হবে , কি হবে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×