somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা পরীক্ষার "ব্যাখ্যা" অংশ নিয়ে আমাদের ক্লাসে হাসির ফোয়ারা বইতো

১৭ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সময়, ৬ষ্ট শ্রেণী থেকে শুরু করে, ১০ম ক্লাশ অবধি, বাংলা পরীক্ষায় ১০ নম্বরের একটি প্রশ্ন থাকতো, "ব্যাখ্যা লিখ"; হয়তো এখনো আছে। আমি একই শিক্ষকের কাছে ৬ষ্ট শ্রেণী থেকে শুরু করে ১০ম শ্রেণী অবধি বাংলা পড়েছি; তিনি খুবই হাসিখুশী মানুষ ছিলেন; বাংলা পরীক্ষার কাগজ ফেরত দেয়ার দিন, ব্যাখ্যা নিয়ে হাসির হাট বসতো ক্লাশে, গড়ে কমপক্ষে ১০/১২ জন ব্যাখ্যা অংশে এমন আজগুবি কিছু লিখতো, তা পুরো ক্লাশের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠতো; স্যার ওদের খাতাগুলো শেষ পর্যায়ে দিতেন, পুরো ক্লাশ আনন্দে মেতে উঠতো!

ব্যাপারটা শুরু হয়েছিলো ৬ষ্ট শ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা থেকে: আমাদের মাঝে হারাধন চক্রবর্তী নামে একজন ছাত্র ছিল; সে পড়ালেখায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি কোনদিন। বাংলা পরীক্ষায়, কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের একটা কবিতার ২ লাইন তুলে ব্যাখ্যা লিখতে বলা হয়েছিল, কবিতার ১ম দু'লাইন ছিলো:

"যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি"

যারা আজগুবি ব্যাখ্যা লিখেছিলো, তাদের মাঝে হারাধনেরটা ছিলো ভয়ংকর আজগুবি; সে লিখেছিলো: এক গ্রামে এক দরিদ্র বুড়ি বাস করতেন, দুনিয়াতে তাঁর আর কেহ ছিলো না; তিনি একটা ভাংগা কুড়েঘরে থাকতেন, পয়সার অভাবে কেরোসিন তেল কিনতে পারতেন না; তাই তিনি মোমবাতি জ্বালাতেন ঘরে। এক শীতের রাতে তিনি মোমবাতি না নিবিয়ে ঘুমায়ে পড়েন; মোমবাতি থেকে প্রথমে কাঁথায় ও পরে ঘরে আগুন লেগে যায়। যাক, গ্রামবাসী আগুন নিভিয়ে ফেলে, বুড়িও প্রাণে রক্ষা পান।

স্যার হারাধনকে কাগজটা ফেরত দেন ও তার ব্যাখ্যা জোরে জোরে পড়ে শোনাতে বলেন; ব্যাখ্যা শুনে পুরো ক্লাশ হাসিতে ফেটে পড়ে, অনেক আনন্দ হয়, অনেক কমেন্ট হয়; স্যার নিজেও হাসেন অনেকক্ষণ; হারাধন নিজেও হাসিতে যোগ দেয়; বিশেষ করে মেয়েরা হারাধনকে তার গল্পটি বারবার পড়তে অনুরোধ করে; হারাধনও উয়য়সাহিত হয়ে বেশ কয়েকবার পড়ে শোনায়!

হারাধনের সুনাম পুরো স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে, উপরের ক্লাশের অনেকেই তাকে দেখতে এসেছিলো। এই কাহিনী শুনে অংকের ক্লাশে শিক্ষক হারাধনকে নির্বোধ ডাকে, এতে আমাদের পুরো ক্লাশ মনোকষ্ট পেয়েছিলো। সবচেয়ে খারাপ ঘটনা ঘটলো পরেরদিন ইংরেজী ক্লাশে, ক্লাশে প্রবেশ করেই আমাদের প্রধান শিক্ষক এটা নিয়ে অনেক্ষণ হাসাহাসি করলেন, একটু পর, হারাধনকে বেতের একাট ঘা দেন; পুরো ক্লাশ স্তব্ধ! হারাধন আমার পাশে বসেছিলো, আমার চোখে পানি এসে গেলো!

মেয়েদের মাঝ থেকে বীণা মজুমদার উঠে বললো, "স্যার আপনি এটা ঠিক করেননি"। স্যার রেগে গিয়ে বীনাকে দাঁড় করায়ে রাখলো। পুরো ক্লাশ নিস্তব্ধ, স্যার বেরিয়ে গেলেন; সবাই চুপচাপ, বীণা এসে হারাধনের গায়ে হাত বুলায়ে দিলো। কিছুক্ষণ পরে, আমাদের বাংলার স্যার এসে বাংলা পড়ানো শুরু করলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৩৩
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×