কারন, ধর্মে কোন লজিক নেই, সবই বিশ্বাস; সহ-অবস্হানের জন্য সামান্য হলেও লজিক্যাল মিল, ও লজিক্যাল কারণ থাকতে হয়; ধর্মগুলো অন্য ধর্মের লোকদের "দোযখের জ্বালানী" হিসেবে দেখে; ওরা বিশ্বাস করে যে, অন্য ধর্মের লোকেরা "ভ্রান্ত পথে" আছে; ভ্রান্তপথ ও সত্যপথ একই গন্তব্যে গিয়ে শেষ হয় না; কারণ, ভ্রান্ত ও সত্য লজিক্যালী একমুখী নয়, বিপরিত মুখী।
তবে, সুখবর হলো, ধর্মগুলো সহ-অবস্হান এলে, বা না-এলেও, তেমন কোন সমস্যা হবে না; কারণ, ধর্মগুলোর বিলুপ্তি ঘটবে বেশ সহসাই; অনেকের কাছেই ভাবতে কষ্ট লাগবে যে, হাজার বছরের ধর্ম কি করে বাস্পের মতো বাতাসে মিশে যাবে! ধর্মগুলো একদিন ঠিক কর্বুরের মতো বাতাসে মিশে যাবে না, ধর্মের রূপান্তর ঘটবে, ধর্মগুলো সামাজিক ট্রেডিশনে পরিণত হবে; যেমন আজকের সুইডেনে, বা আজকের জাপানে।
২০০ বছরের ক্রুসেডে ততকালীন সময়ে কয়েক লাখ মুসলিম ও খৃষ্টানের রক্তে জেরুসালেমের মাটি সিক্ত হওয়ার পর, সালাদীন ও বৃটেনের রাজা রিচার্ড-১ ১১৯২ সালে সহ-অবস্হানের চুক্তি করেছিলো ; কিন্তু সহ-অবস্হান কখনো হয়নি, আজো নেই; কারণ, ধর্মে কোন লজিক নেই, সবাই নিজেদের বিশ্বাসে ফিরে যায় সব সময়। সালাদীন ও রিচার্ড হয়তো সহ-অবস্হানে থাকতে পারতো; কারণ, ধর্মের বাহিরেও, তাদের মাঝে বড় লজিক্যাল মিল ছিলো, ২ জনই জেনারেল।
যারা যেভাবই বলুক না কেন যে, তাদের ধর্মীয় বই'র একটা অক্ষরও বদলায়নি, বা কোনদিনও বদলাবে না; কারণ, যিনি বই দিয়েছেন, তিনি বইয়ের যত্ন নিচ্ছেন; তারপরও বইয়ের সারবস্তু নিয়ে কোটী মতামত হয়ে মুল বিষয় বদলে গেছে, প্রতিদিন আরো বদলে যাবে; কারণ, বইকে সবাই আলাদাভাবে ভালো ব্যাখ্যা করে, এবং সবাই নিজের সমস্ত ভক্তি ও বিশ্বাস দিয়ে উহাকে ভালোর দিকে নিয়ে যায়; যুগে যুগে তারা বইয়ের বিষয়কে এতো বেশী ভালো ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আসল অর্থ আজকে আর নেই; যা আছে, উহা ভালো অর্থ আছে মাত্র।
আমাদের ব্লগেও সেদিন নতুন কিছু যোগ হলো: সুরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিলে নাকি সব রোগ ভালো হয়ে যাবে; ফুঁ দেয়ার পর রোগ ভালো না হলে, নাকি রোগীর ইমান নেই; এতে নবীজির অূস্হতা নিয়ে ভাবতে হয়, উনি অসুস্হ হয়ে পরলোক গমন করেছিলেন, উনি নিশ্চয় সুরা ফাতেহা জানতেন। এভাবে, শুধু একজন ব্লগারই পুরো কোরানকে বদলায়ে দিতে সক্ষম!
আজ থেকে ২ হাজার বছর আগে হযরত আদমের গল্প ঠিক কি রকম ছিলো, বলা মুশকিল; তবে, আজকের মতো সুন্দর ভার্সন হয়তো তখন ছিলো না; এবং বিবিধ লোকালয়ে এই গল্প বিবিধভাবে ছিলো; গত কয়েক'শ বছরে গল্পটির ইনটেগ্রেশান ঘটেছে, এখন ইহা আর বদলাবে না; কিন্তু এখন উহা নিয়ে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে যে, ইহা শুধু গল্পে পরিণত হচ্ছে ক্রমেই। তবে, এই ঘটনাটিই ধর্মগুলোর মাঝে একটা মাত্র মিলের বিন্দু তৈরি করেছে। কিন্তু প্রতিটি ধর্ম হাজারভাবে বিপরিতমুখী হওয়ার কারণে, একা হযরত আদম উনার সন্তানদের মাঝে কোন ভাবেই সহ-অবস্হানের ব্যবস্হা করতে পারবেন বলে মনে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





