somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম সময় ও সভ্যতার সাথে তাল মিলিয়ে এতদুর এসেছে

১৪ ই মে, ২০১৯ রাত ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সব ধর্মের মুখবন্ধে আছে, মানুষ সময় সময় তাদের সৃষ্টিকর্তা কর্ত্তৃক প্রদত্ত ধর্মকে ভুলে গিয়ে, কিংবা বাদ দিয়ে, নিজেদের মনগড়া কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ায়, সমাজ পাপ ও অরাজকতায় ডুবে যাবার পর, সৃষ্টিকর্তা বারবার নতুন করে পয়গম্ভর পাঠায়েছেন, নতুন করে পরিত্র গ্রন্হ পাঠায়েছেন।

এই মুখবন্ধটা কার, বা কাহাদের লেখা; ইহা কি সৃষ্টিকর্তা কর্ত্তৃক লিখা, নাকি মানুষের লিখা? আসলে, মানুষ কি সময় সময় তাদের সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গেছে, নাকি মানব সভ্যতা সর্বদা বিবর্তনের মাঝ দিয়ে ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের দিকে গেছে? উদাহরণ হিসেবে, খৃষ্টান ধর্মের উদ্ভবকে একটু এনালাইসিস করে দেখা যাক: ঈসা (আ: )'এর জন্মের কয়েক'শ বছর আগে, পশ্চিম বিশ্বে বেশ কয়েকটি বড় বড় সভ্যতা ছিলো: রোমান, গ্রীক, মিশরীয় ও পারসিক সভ্যতা; সেই সময়ে, কিতাবী ধর্ম ছিলো 'জুডাইজম' (ইহুদী ধর্ম), ইহা মুলত ছিলো জেরুসালেমের আশেপাশে, ইয়েমেনে, মদীনায় ও মিশরে।

ঈসা (আ: )'এর জন্মের ৬৪ বছর আগে, রোমানরা মিশরীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটায়ে, মিশর, জেরুসালেম, সিরিয়া এলাকা(পারর‌্য সাম্রাজ্যের অংশ) দখল করে নেয়; মিসরীয়রা সেই সময়ে আসলে, নিজেদের ধর্ম ও গ্রীক ধর্মে বিশ্বাসী ছিলো; মিশরীয়রা সুর্য মুর্যকে তাদের ভগবান হিসেবে মানতো, ও ক্ষমতাসীন ফেরাউনকে সৃষ্টিকর্তার সন্তান হিসেবে জানতেন, মানতেন; গ্রীকধর্ম ও রোমান ধর্ম ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপকথার ধর্ম। ফলে, মিশরীয়দের জন্য গ্রীক, বা রোমান ধর্ম বিরাট সমস্যা ছিলো না; রোমানদের ধর্ম কিন্তু জুডাইজমের জন্য ভয়ংকর চ্যালেন্জ ছিলো; কারণ, জুডাইজম ছিল ১ম কেতাবী ধর্ম, যাহা এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতো ; এবং তাদের এলাকা ছিল রোমানদের হাতে। যাক, রোমানরা স্হানীয় ইহুদীদের ধর্মের যায়গায় রোমান ধর্মের প্রতিষ্ঠা করেনি।

নবী ঈসার (আ: )'এর মৃত্যুর পর, তাঁর অনুসারীরা খৃষ্টান ধর্ম প্রচার শুরু করেন; এই ধর্মের প্রচারের সুচনায় সেই এলাকার মানুষজন কি সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়েছিল, অত্যাচার, অনাচারে লিপ্ত হয়েছিলো? ইতিহাস বলে যে, ইহুদীরা মিসরীয় ও রোমানদের ভয়ংকর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অত্যাচার সহ্য করেছে, কিন্তু নিজের ধর্মকে ত্যাগ করেনি, তাদের জীবনের মান, ধর্মের মান তারা রক্ষা করেছে, তারা পাপাচারে বা পংকিলতায় ডুবে যায়নি! রোমানরা কি তাদের ডজন ডজন সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়েছিলো? না, ইতিহাস মতে, গ্রীক ও রোমানরাই সভ্যতার ভিত্তি স্হাপন করেছে!

সময়ের সাথে, গ্রীক, রোমান ও মিশরীয় ধর্মের সম্পুর্ণ বিলুপ্তি ঘটে, এরা সবাই মোটামুটি খৃষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হন; তা'হলে, দেখা যাচ্ছে যে, ধর্মের ভালো বিবর্তন ঘটেছে; রূপকথার ধর্ম থেকে এরা বেরিয়ে এসে, এক সৃষ্টিকর্তার ধর্মকে গ্রহন করেছেন। এরা ইহুদী ধর্মে গেলো না কেন? ইহুদীরা নিজেদের গোত্রের বাহিরের লোকদের ইহুদী ধর্ম নিতো না, তারা ধর্ম প্রচার করতো না।

তা'হলে, যেইভাবে ধর্মগুলোর মুখবন্ধে বলা হয়েছিলো যে, মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়ে অত্যাচার অনাচারে লিপ্ত হয়েছিলো, সেটার প্রমাণ নেই; খৃষ্টান ধর্মের বিকাশের ফলে, সভ্যতার ধারক, বাহক গ্রীক, রোমান ও মিশরীয়রা তাদের রূপকথার ধর্মের বদলে এক সৃষ্টিকর্তার ধর্ম গ্রহন করেন; সেই সময়ে রাজত্ন্ত্রের সমস্যা ব্যতিত অন্য কোন জানা সমস্যায় রোমান, গ্রীক ও মিশরীয়রা ছিলো না; তারা অন্ধকারে নিপতিত জাতি ছিলো না; আসলে, তারাই ছিলো সভ্যতার ধারক ও বাহক। সময় ও সভ্যতার সাথে তাল মিলানো হচ্ছে বিবর্তন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৮
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলোমেলো ডায়েরী: শৈশবের ৯ টি সবচেয়ে স্বস্তির, মজার মুহূর্ত! আমার সাথে আপনারটা মেলে কি? :) :)

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৫



পূর্বের পর্বগুলো: এলোমেলো ডায়েরি: ঈদ ইন বিদেশ ভার্সেস বাংলাদেশ। দেশীয় ঈদের যে ৬ টি জিনিস প্রবাসে সবচেয়ে মিস করি!
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/samupagla007/30250594|এলোমেলো ডায়েরী (২): ৭ টি গা জ্বালানি বাংলাদেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার মনিটরিং স্টেশন এর নিরবতাঃ কিসের আভাস?

লিখেছেন আর্কিওপটেরিক্স, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২২


৮ই আগষ্ট রাশিয়ান মিলিটারি টেস্টিং ফ্যাসিলিটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেকে রাশিয়ার ৪টি নিউক্লিয়ার মনিটরিং স্টেশন থেকে ডেটা ট্রান্সমিশান বন্ধ হয়ে গেছে। এই মনিটরিং স্টেশনগুলো বাতাসে রেডিয়েশান লেভেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমন্বিতা

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:২০



সাহেবকে বলে আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বার হলাম। নাহ আজ আর অন্য কোথাও যাব না, তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরতে হবে। দ্রুত পা চালিয়ে স্টেশনে গেলাম। বেশিক্ষণ দাঁড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাটিতে পুতা কুরবানীর পশুর চামড়াই ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে ঝাপিয়ে পড়ুক চামড়াশিল্পের অশুভ সিন্ডিকেট বিনাশে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:০৭


ছবি সুত্র : Click This Link

পর্ব-১ : চামড়া শিল্পের পতনকে চামড়ার চাবুক মেরেই প্রতিকার

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে। কোরবানির চামড়ার বাজারে ধ্বস নামার নেপথ্য কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×