
শেখ সাহেব উনার বড় মেয়ে শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে রাখতে চাননি; তিনি শেখ হাসিনাকে এক অরাজনীতিবিদ চাকুরীজীবির সাথে বিয়ে দিয়ে গৃহবধু করে রাজনীতি থেকে দুরে সরায়ে দেন। শেখ হত্যার পর, আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে, নিজেদের মাঝে পার্টির মালিকানা নিয়ে সংগ্রামে লিপ্ত, এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন শেখ হত্যার সাথে জড়িত থাকায়, দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, শেখ হত্যা যে অপরাধ, সেটা বলার জন্যও কোন নেতৃত্ব ছিলো না।
শেখ হত্যার পরদিন, ১৯৭০ সালের বিপ্লবী বাংগালীরা, ১৯৭১ সালের যোদ্ধা বাংগালীরা, ১৯৭৩ সালের আওয়ামী ভোটারেরা কিন্তু বাতাসে মিশে যায়নি; তাদের সামনে নেতৃত্ব ছিলো না; তারা দেশের প্রেসিডেন্ট হত্যাকারীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে! এদের অনেকই শেখ সাহেবের উপর অসন্তষ্ট হয়ে পড়েছিলো; কিন্তু শেখ সাহেবকে হত্যা করে, যারা হাজার মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়ে, শেখ সাহেবকে অপরাধী হিসেবে জাতির সামনে উপস্হিত করছিলো, তারা ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালের মানুষের সামনে কখনো বীর ছিলো না।
শেখ হাসিনা ইউরোপে বসে বাবা ও পুরো পরিবারের নিহত হওয়ার সংবাদ পান; তিনি প্রথমে নিতান্ত অসহায় হয়ে পড়েন, তিনি জানতেন যে, দেশের মিলিটারী ও বিদেশী শক্তি এতে জড়িত, এবং যারা স্বাধীনতা-বিরোধী ছিলো, তারা হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে; তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই অবস্হায়, বাবা ও পরিবার হত্যার বিচার পাওয়া সম্ভব নয়; সর্বোপরি, হত্যাকারীরা দেশের ক্ষমতা যেভাবে দখল করেছে, এটা ৩য় বিশ্বের পরিচিত রাজনীতি; এটার সাথে সংগ্রাম করে দাঁড়ানো এক ভয়ংকর ব্যাপার; তবে, একদিন উনাকে সেটার সন্মুখীন হতে হবে।
দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা সঠিক হয়েছে, এই ধরণের মনোভাব গড়ে তোলা হয়েছিলো দেশে; তারপর, পা্র্লামেন্টে বিল এনে, এই হত্যাকান্ডের বিচার বন্ধ করা হয়েছিলো; এসবের বিপক্ষে লড়ার মতো মনোবল ও শক্তি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছিলো না।
শেখ হাসিনা পরবর্তী ৫ বছর প্রস্তুতি নেন, কি করে বাবার ও দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হত্যাকারীদের মোকাবিলা করতে হয়; তাঁকে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক অবস্হা, সরকারের নীতি, সরকারের শক্তি, দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভক্তি উনাকে হতাশ করেছে। তিনি আওয়ামী লীগকে এক করার কাজে বেশ সময় ব্যয় করেন।
দেশে প্রবেশের আগে তিনি ভারতে অবস্হান করছিলেন; সেখান থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার প্ল্যান নেন; তিনি বুঝতে পারেন যে, সেটা কার্যকরী করতে হলে, তাঁকে দেশের মাটিতে ফিরতে হবে; তাতে প্রাণ গেলে যাক। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে, তিনি নিজের প্রানটিকে হাতে নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন; বাকীটুকু বিএনপি-জামাত অনুভব করতে পেরেছে!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৯ রাত ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



