
রোহিংগাদের নিয়ে বাংগালীদের যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা'থেকে সহজে বুঝা সম্ভব, কেন রাখাইনরা তাদেরকে আরাকানে দেখতে চাহে না; রোহিংগা নারী, ছেলেমেয়ে ও শিশুদের জন্য সহানুভুতি রলো । আসলে, ওদের বর্তমান জাতীয় আচরণ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ওরা শুধুমাত্র পাকিস্তানে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। পাকিস্তান বা বার্মা ব্যতিত, যেকোন জাতির জন্য তারা বোঝা হবে, এবং যেকোন জাতি তাদের উপস্হিতিতে শংকিত হবে। ওদের চরম দুর্দিনে ওরা বাংলাদেশে এসে যেই ধরণের আচরণ করছে, তাদের ভবিষ্যত খুবই অন্ধকার।
বার্মার এক মন্ত্রী, টিন্ট সুয়ী জাতিসংগে খুবই সুন্দর বক্তব্য রেখেছেন, তারা রোহিংগাদের ফেরত নেবে বলেছে, এই ব্যাপারে তারা বাংলাদেশের সাথে কাজ করবে; তারা রোহিংগাদের এক ধরণের 'জাতীয় পরিচয়পত্র' দেয়ার কথা বলেছে, যেটা রোহিংগাদের সেই দেশে বসবাসের অধিকার দেবে, তারপর সময়ের সাথে তারা নাগরিকত্ব পাবে; যারা নাগরিত্ব পাবে না, তারা এই ধরণের পরিচয় পত্র বহন করে বার্মায় বসবাস করতে পারবে।
রোহিংগারা কিন্তু কোন ধরণের অধিকার আদায় করার জন্য, বা তাদের নাগরিকত্ব আদায়ের পক্ষে প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশে পালায়ে আসেনি; তারা পালিয়ে এসেছে "গণহত্যা" থেকে প্রাণ বাঁচাতে। ২০১৭ সালের গণহত্যা নিয়ে বার্মা সরকার তেমন কিছু বলেনি, তবে রোহিংগাদের মাঝে জংগী লোকজন আছে, সেই কথা বলেছে; মন্ত্রী এদের পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কথা বেশী বাড়ায়নি, আরসা'র কথা তোলেনি; মনে হয়, তারা আরসা আক্রমণের পর, রোহিংগাদের উপর ভয়ংকর হত্যাকান্ড চালানোর কারণে, এই ব্যাপারে বেশী কথা বলতে চাহেনি।
বার্মার মন্ত্রী বলেছে যে, রোহিংগা সমস্যায়, তারা বাংলাদেশ ব্যতিত তৃতীয় কোন দেশের হস্তক্ষেপ চাহে না। বার্মার এই সমস্যা আছে, তারা যদিও চীনাদের পেটের ভেতরে চলে গেছে, কিন্তু ওরা কারো আদেশ নির্দেশ মানে না। বাংলাদেশের জন্য রোহিংগা সমস্যা এত বেশী বড় যে, বাংলাদেশ একা ইহাকে হ্যান্ডলিং করতে পারছে না সঠিকভাবে।
বার্মা যে ভাষায় জাতিসংঘে কথা বলেছে, এবং তারা যদি নিজেদের কথার উপর স্হির থাকে, তাতে মনে হয়, রোহিংগা সমস্যার সমাধান হবে, কিন্তু সময়ের দরকার, বাংলাদেশের জন্য ধৈর্যের ব্যাপার; অবশ্য, এর বাহিরে বাংলাদেশের জন্য খুব বেশী অপশানও নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



