
প্যালেষ্টাইনের বর্তমান ষ্টেটাস হচ্ছে 'আইনগতভবে দেশ'; জাতি সংঘের ভাষায় "de jure state", দখলকৃত দেশ; প্যালেষ্টাইনকে ইসরায়েল দখল করে রেখেছে; ইসরায়েল থেকে মুক্ত হতে পারলে, এবং ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপ স্বীকৃতি দিলে ইহা স্বাধীন দেশে পরিণত হবে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রাইম মিনিষ্টার এসেছিলো ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে; সেখানে নতুনভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে: পশ্চিম তীরের সেটেলমেন্টগুলো থেকে যাবে, এসব সেটেলমেন্টগুলো এখন থেকে ইসরায়েলের যায়গা; প্যালেষ্টাইনও জেরুসালেমে রাজধানী করতে পারবে। এগুলো প্যালেষ্টাইনের ভুমিকে আজীবনের জন্য দখল করার ঘোষণা।
এই নতুন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্যালেষ্টাইনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন; ভালো কথা, ইসরায়েলের সাথে ও আমেরিকার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে, বাকী কে থাকছে, যার সাথে স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা যাবে, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, গাম্বিয়া?
প্যালেষ্টাইন সরকারের ভুলের জন্য প্যালেষ্টাইন স্বাধীন হচ্ছে না; প্যালেষ্টাইনকে স্বাধীন হতে হলে, ইসরায়েলী শর্তে হতে হবে, প্যালেষ্টাইনীদের শর্তে তা হবে না; এই সত্যটা প্যালেষ্টাইনীরা বুঝতে পারলে, আরো ৫০ বছর আগে স্বাধীন হয়ে যেতো।
আমেরিকা কেন প্যালেষ্টাইকে স্বাধীন করার পদক্ষেপ নেয় না? আমেরিকা মনে করে যে, প্যালেষ্টাইন ঠিক ইয়েমেন, বা লেবাননের মত "ফেইল ষ্টেট"এ পরিণত হবে, এবং ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে যাবে, ইসরায়েল আবারো ইহাকে দখল করে নেবে।
ইসরায়েলের প্রাইম মিনিষ্টার নাতেনিয়াহু কেন আগের চুক্তি ভংগ করে, সেটেলমেন্টগুলোকে স্হায়ীভাবে ইসরায়েলের অংশ করতে চায়? ইসরায়েলের সবাই ইহা চায় কিনা? না, আসলে সব ইসরায়েলীরা ইহা চাহে না, শুধু ধর্মীয় গোঁড়ারা চায়; তারা বিশ্বাস করে যে, তাদের সৃষ্টিকর্তা এই জমি তাদের জন্য রেখেছে। প্রাইম মিনিষ্টার নাতেনিয়াহু সবার চেয়ে বেশী চায়, কারণ উহার জনপ্রিয়তা কমে গেছে।
মাহমুদ আব্বাসকে এসব সোজা ব্যাপারগুলো বুঝতে হবে; চিন্তা না করে আমেরিকান পতাকা পোড়ানো ভুল হচ্ছে; ট্রাম্প আমেরিকান পতাকা পড়ানো পছন্দ করে না। মাহমুদ আব্বাসের বুঝার দরকার, ট্রাম্প আরো ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৬০ ভাগের বেশী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






