
দেশের সাধারণ মানুষ যখন সরকারকে এড়িয়ে চলে, সরকারের উপর কোন আস্হা রাখে না, ভরসা রাখে না, সরকারকে ভয় পায়, সরকারী লোকদের থেকে দুরে থাকতে চায়, নিজের পরিবারকে রক্ষা ইত্যাদি নিজের দায়িত্বে নেয়, ইহা নৈরাজ্য, এনার্খী। এনার্খীর অন্য একটি লক্ষন হলো, ধনী ও ক্ষমতাশালীরা দেশের সরকারকে কেয়ার করে না; দেশে এনার্খী দেখা দিলে, উহা সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেনে পরিণত হয়।
করোনার ফলে, প্রায় লাখ'খানেক পরিবার নিরবে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে, এদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে; এরা মানব বন্ধন করেনি, প্রেস ক্লাবের সামনে আসেনি, রাস্তায় মিছিল করেনি, সরকারের কাছে কোন রকম সাহায্য চাহেনি; কারণ, সরকারের উপর এদের কোন আস্হা নেই, কোন ভরসা নেই, এদের হয়ে কোন রাজনৈতিক দল কথা বলেনি; আওয়ামী লীগ প্রতিবাদী দল ছিলো এক সময়ে, এই ধরণের ঘটনায় তাদের রাস্তায় বামার কথা ছিলো; কিন্তু তারা ইহাকে সমস্যা হিসেবে দেখেনি। কিন্তু এই ধরণের ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক স্বাস্হের কথা বলছে, ইহা এনার্খী।
করোনা সমস্যা সমাধানে দেশের মানুষের সহযোগীতা দরকার; সরকারী নিয়ম, প্রটোকল মানার দরকার, না'হয় করোনা থেকে যাবে; বাংলাদেশের মানুষ এখন করোনা নিয়ে সরকারী সংস্হা, হাসপাতাল থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করছে; মানুষ সরকারী ডাক্তার, হাসপাতালের উপর আস্হা হারায়েছে, ইহার রাজনৈতিক মুল্য আছে।
করোনার ফলে উদ্ভুত পরিস্হিতি মানুষের ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির উপর আঘাত করেছে; ইহা যে সমস্যা, ইহার সমাধানের দরকার আছে; করোনাকে কন্ট্রোলে এনে স্বাভাবিক ফাইন্যালসিয়াল জীবন ফিরিয়ে আনা; এই নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ ঘোষণা করার দরকার, সরকার চুপ, যেন করোনা কিছুই করেনি, কিছুই ঘটেনি। সরকার ও আওয়ামী লীগ মানুষের আস্হা হারিয়ে দেউলিয়া হচ্ছে।
সরকারের এই দুর্বল অবস্হা ও আওয়ামী লীগের দৈন্যতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের বিধ্বংসীশক্তি রাজনীতিতে ফেরেশতা হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নেবে। "মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী" নুরের পান্জাবীর পকেটে করে জামাত শিবির ঢুকবে আবার, মানুষ ওদেরকে ত্রাতা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশেকে ইয়েমেন বানাবে; শেখ হাসিনা দেশকে গুটিয়ে নেবার সুযোগ পাবেন বলে মনে হচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




