somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে পারতো:

১. দেশে প্রায় আড়াই হাজার সেতু বা কালভার্ট আছে যাদের সংযোগ সড়ক নেই বা ব্যবহার অনুপযোগি। সেগুলো ব্যবহার উপযোগি করলে অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলত।

২. চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে যদি ফলের জন্যে হিমাগার বা সংরক্ষনাগার তৈরী করা হত, তার সরাসরি প্রভাব সামনের অর্থবছরে পাওয়া যেত।

৩. এই অর্থবছরে ঢাকা, চট্রগ্রাম ও বরিশাল সিটির পানি ও পয়োনি:ষ্কাশনের কাজ এমন ভাবে শেষ করা বা রিডিজাইন করা উচিত ছিল, যাতে সামনের বর্ষায় সুফল পাওয়া যায়।

৪. দেশে প্রায় ১০০টার মত সুইচ গেটে বিকল, যার কারনে খালে পানি ঢোকে না, বা বর্ষায় বন্যার পানি ঢুকলে বের হয় না অথবা জোয়ার ভাটার প্রাকৃতিক সুবিধা কৃষকরা পায় না। সেগুলো মেরামত করে সচল করা যেত। কম খরচায় কৃষিতে ভূমিকা রাখা যেত।

৫. সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চিংড়ি ঘের তৈরী বন্ধ করা যেত। যেখানে সরকারের ইনভেস্ট দরকার নেই। তাই বাজেটের উপর প্রভাব পড়ত না। বরং বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর সফলতার একটা সহজ উপায় বের হত ভূমি দখলমুক্ত করার মাধ্যমে।

৬. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে, চুরি ঠেকানোর ব্যবস্থা করলেই বরং সাশ্রয় হত। একেতো সরকারের তহবীলে টাকা জমতো আর সাধারন মানুষ স্বস্তিতে থাকত। তাই এই দুই সেক্টরে জনবল বাড়িয়ে তদন্ত ও জরিপ বাড়াতে হতো। যত ফাইন, তত তহবিল। যত চোরাই সংযোগ কর্তন, তত টাকার বর্ধন।

৭. দেশের যত উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেক্স আছে, সেখানে ডাক্তার নার্স বা অফিস সহকারীদের উপস্থিতি ও সেবা নিশ্চিত করুন। শহরের হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকের উপর চাপ কমবে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হবে, তত তার আর্থিক চাপ কমবে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে কাজে যোগ দেবে, তত তাড়াতাড়ি দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। এখানেও সরকারের তেমন ইনভেস্ট লাগবে না। কারন সরকার ইতোমধ্যে জনবল নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জন্যে। কিন্তু তারা সেখানে শ্রম না দিয়ে শহরে চেম্বার খুলে বসে থাকে।

৮. সরকারী সদর হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, টয়লেট ও ময়লা আবর্জনা অব্যবস্থাপনা। সাথে আছে, ওষূধ চুরি এবং শুক্রবার শনিবার ডাক্তার নার্সদের অঘোষিত ছুটি। কিন্তু কাগজ পত্রে ওনারা ডিউটিতে থাকেন। সরকারের নতুন হসপিটালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ন হল, যেগুলো আছে সেগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য অধিক লোক নিয়োগ দেয়া এবং সকল কর্মচারীদের দায়ীত্বের ব্যাপারটি জবাবদিহিতার আওতায় আনা। যে কোন অকেজো যন্ত্রাংশ সরিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরবারাহ নিশ্চিত করা। তাহলে দেশের টাকা ভারত বা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার নামে মানুষ রেখে আসবে না।

৯. ঢাকার আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ড না সরিয়ে আগে বিকল্প সার্ভিস নিশ্চিত করুন। বর্তমানে প্রত্যেক বাসে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বসান। রুট ফিক্স করে দিন। কতবার শহর প্রদক্ষিন করতে পারবে সেটা স্থির করে দিন। প্রত্যেক রাস্তা থেকে হকার, বাজার বসানো বা চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিন। যত্রতত্র স্টপেজ বন্ধ করান। এগুলো করলে শুধু ঢাকা নয়, যে কোন শহরে যানযট কমতে বাধ্য। কর্মঘন্টা বাঁচলে অর্থনীতির উপর চাপ কমবে।

১০. ঢাকা শহরে রিক্সা/অটো/তিন চাকার যান না তুলে রোড মার্ক করে দিন। ধরুন যদি লাল মার্কের রোড হয়, তাহলে সে রোডে রিক্সা/অটো/তিন চাকার যান শুধু চা্লানো নয়, সেই রোড়ের মোড়ে পার্কিং করাও নিষিদ্ধ, নিয়ম করে দিন। লিঙ্ক রোডে চলুক।

১১. দেশে কার্ড সুবিধা দেবার আগে যদি, সরকারী / বেসরকারী শিক্ষদের পেনশনের টাকা যেগুলো ঝুলে আছে ২ বছরের বেশী সময় ধরে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়, তবে সেটা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হতো। সোয়া লাখ সংখ্যাটা খুব একটা ছোট না। শিক্ষকরা জাতী গড়তে সবচেয়ে শক্তিশালী চাবিকাঠি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় কবি নজরুলের চিরন্তন আহ্বান

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০৪

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একই সঙ্গে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে শুধু “বিদ্রোহী কবি” বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না;... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×