
*** আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল ভোটের অফিসিয়েল ফাইন্যাল দিন হচ্ছে, নভেম্বর মাসের ৩ তারিখ, মংগলবার। কিন্তু অনেক রাজ্যে প্রায় ২ মাস আগের থেকেই ভোট দেয়া যায়; ইহা হতে পারে সশরীরে, কিংবা ডাক যোগে; আজকে(১৯শে সেপ্টেম্বর) ৬ রাজ্যে মানুষ সশরীরে ভোট দেয়া শুরু করেছেন। ভোটের মাঝেই সুপ্রীমকোর্টের ১ জাজের মৃত্যু হয়েছে; নতুন জাজ বানানো নিয়ে বেশ সমস্যা হবে ২ দলের মাঝে। ***
ট্রাম্পের পরাজয়ের সম্ভাবনা এখন শতকরা ৫৪ ভাগের মতো; ২টি সুইং রাজ্য: উইসকনসিন ও ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে; করোনা টিকা নিয়ে ট্রাম্পের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে যে, টিকা নিয়ে সে খেলছে, সে টিকা আগে আনার জন্য অসৎভাবে চাপ দিচ্ছে; মানুষ এটা পছন্দ করার কথা নয়।
গতকাল, আমেরিকান সংবাদ মিডিয়া, এবিসি'এর ব্যবস্হাপনায় ট্রাম্প এক টাউনহল মিটিং'এ মানুষের সাথে কথা বলেছে; সাংবাদিক'এর মধ্যস্হতায় ট্রাম্প নাগরিকদের প্রশ্নের জবাবে যেসব কথা বলেছে, এগুলো ছিলো ট্রাম্পের আসল স্বরূপ; তার উত্তরগুলো, তার প্রেসিডেন্সিয়েল কর্মকান্ড, ভাবনা ও মনোভাব প্রকাশ করেছে সঠিকভাবে, এবং তার এই মনোভাব তাকে আগামী ভোটে অবশ্যই পরাজিত করার জন্য যথেষ্ঠ।
করোনার সময় বিশ্বে ৪ টি দেশে সরকারের বিশৃংখলায় জাতিগুলো পুরোপুরি বিশৃংখলায় নিমজ্জিত হয়েছে, এই দেশগুলো হচ্ছে: আমেরিকা, ব্রাজিল, বাংলাদেশ ও ভারত। আমেরিকায় প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে আরো ২ লাখের বেশী মানুষের মৃত্যু হবে সহজেই।
আমেরিকার সম্পদ, শিক্ষার লেভেল, স্বাস্হ্যসেবার সুযোগের কারণে, এই দেশে সঠিক পদক্ষেপ নিলে, ২ শ'তের বেশী মানুষের মৃত্যু হওয়ার কথা নয়; সেখানে জাতি করোনা নিয়ে এনার্খীর মাঝে আছে এখনো। ট্রাম্পের ভুল রেসকিউ প্যাকজের কারণে, বড় ও মাঝারি কর্পরেশনগুলো ২ ট্রিলয়ন ডলার অকারণে পেয়ে গেছে, ৬ কোটি মানুষের চাকুরী চলে গেছে।
গত মাসে, ১ মিলিয়ন কারখানার শ্রমিক কাজে ফেরত গেছে; ট্রাম্প বলেছে যে, সে "নতুন ১ মিলিয়ন চাকুরী" সৃষ্টি করেছে; ইহা ভয়ংকর অসততা। আমেরিকানরা কিছু কারণে তাকে রেখে দেয়ার কথা ভাবছিলো: (১) দেশের ক্যাপিটেলিষ্ট সিষ্টেম ম্যানুফেকচারিং কাজ নিয়ে গেছে চীনে (২) সফটওয়ার ও অনেক ডাটা-নির্ভর কাজ চলে গেছে ভারত ও বিভিন্ন দেশে (৩) এইচ-১ ভিসার কারণে আমেরিকান নতুন গ্রেজুয়েটদের চেয়ে বিদেশীরা বেশী চাকুরী পাচ্ছিলো; সর্বোপরি, ডেমোক্রেটদের শক্ত প্রার্থী নেই।
জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কালো আমেরিকানকে পুলিশ নির্মমভাবে হত্যা করার পর, সারা আমেরিকা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে; এতে বড় শক্তি ছিলো সাদা আমেরিকা; ট্রাম্প, তার রেসিষ্ট মনোভাবের কারণে এই প্রতিবাদের বিপক্ষে চলে যায়। প্রতিবাদ চলে ২ মাস; এখনো ছোট আকারে চলছে; প্রতিবাদকে দুর্বল করে দেয় কালো কিছু নাগরিকের লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ; ট্রাম্প লুটপাট ও অগ্নি সংযোগকে পুঁজি করে আগাচ্ছে; ইহা সমস্যা, তবে ইহা তাকে জয়ী করার জন্য যথেষ্ট নয়।
বেশীরভাগ আমেরিকান বুঝতে পেরেছে যে, ট্রাম্প আমেরিকাকে ডুবায়ে দিয়েছে; যদিও ডেমোদের প্রার্থী শক্ত নয়, তবুও ট্রাম্প আমেরিকা ও বিশ্বের জন্য বিষাক্ত একজন ব্যক্তি, আমেরিকানরা ইহা বুঝার শুরু করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




