
এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের মা-বাবারা টাকা জমিয়ে রেখেছিলো, এডুকেশন মিনিষ্ট্রির লোকজন প্রশ্ন বের করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলো, যারা প্রশ্নের উত্তর লিখে দেয়, তারা বইয়ের গুরুত্বপুর্ণ অংশ রিভিশন দিচ্ছিলো; ছেলেমেয়েরা প্রস্তুত ছিলো উত্তরপত্র দেখে পরীক্ষা দেয়ার জন্য, কিন্তু সরকারের পন্ডিতদের বহুমুখী প্ল্যানের সামনে সবাই কুপোকাত: কোন টাকা হস্তান্তর হয়নি, কারো কলম থেকে একফোঁটা শহীদের রক্ত ঝরেনি, প্রশ্ন বিক্রয় করে কেহ এপার্টমরেন্ট, গাড়ী কিনেনি, প্রশ্নফাঁস হয়নি, জাতি ঘুরে দাঁড়ায়েছে; অনেক যুগের পর জাতির মুখের কালিমা মুছলো; শিক্ষামন্ত্রীর মুখ উ্জ্বল, জাতি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো; করোনাই অবশেষে জাতিকে বুদ্ধিমান করে তুলেছে,পরীক্ষা না নিয়ে প্রশ্নফাঁসকে পরাজিত করেছে জাতি।
এত বড় সরকার, এত বড় প্রশাসন, লাখের বেশী শিক্ষক, এইচএসসি পরীক্ষাটা নিতে পারলো না; ১৩ লাখ ছেলেমেয়ের পরীক্ষা নেয়াটা এত কঠিন কাজ যে, উহা বাদ দিতে হলো; এই জাতি কিভাবে নিজ পায়ে দাঁড়াবে? ১ লাখের বেশী শিক্ষক বসে বসে বেতন নিলো, সামান্য জুতা আবিস্কার করতে পারলো না!
পৃথিবীর প্রায় সবাই পরীক্ষা নিয়েছে; হয়তো, ইয়েমেন কিংবা আফ্রিকার ঝামুন্ডা পরীক্ষা নেয়নি। পরীক্ষা নিলে করোনায় কারো মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো না। বাংলাদেশ প্রথম ৩/৪ মাসে করোনাকে বুঝতে পারার পর, পরীক্ষা নিতে পারতো; সারাদেশে ২ কোটীর বেশী ছাত্রছাত্রী বসার মতো টুল, বেন্চ, চেয়ার, টেবিল ও ক্লাশরুম খালি ছিলো। আগে যেখানে এক রুমে ৫০ জন বসতো, সেখানে ৫ জন বসালেও যায়গার অভাব হতো না।
স্কুল, কলেজ, উনিভার্সিটিতে না গিয়ে, পরীক্ষার্থীরা নিজ বাড়ীতে বসেও পরীক্ষা দিতে পারতো; ১৩ লাখ ছেলেমেয়ের জন্য ১৩লাখ পরীক্ষক নিযুক্ত করলে, পরীক্ষা নেয়া খুবই সহজ হয়ে যেতো; রবী ঠাকুরও জীবিত নেই, জুতা আবিস্কার করার লোকজনও নেই।
জাতির কেহ প্রতিবাদ করেনি; ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাংগীর নগর, রাজশাহীসহ মিলে ৩৯ টি পাবলিক ইউনিভার্সিটির ১০ হাজার পিএইচডিরা একটা টু শব্দও করেনি। আমাদের ব্লগার নুরু সাহবেও ছুটিতে; ফলে, সামু থেকে কেহ বাদ, প্রতিবাদ করেনি। সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে, কেহ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ করতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


