
চীনের শি জিন পিং আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকার জন্য নিযুক্তি পেয়েছে; ইহা কি বর্তমান বিশ্বে কোন জাতির রাজনৈতিক ভাবনার অংশ হতে পারে? আসলে চীনে যা ঘটছে, ইহা রাজনীতি নয়, মানুষের জীবনটা মেকানিক্যাল হয়ে গেছে, কাজ করো, আয় করো; চীনের মানুষের সামজিক জীবন, পারিবারিক জীবন কাজ ও কম্প্যুটারের সাথে মিশে যাচ্ছে ক্রমেই; মানুষ মানুষ থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। চীনের অর্থনীতি পুরোটাই শি জিন পিং'এর দলের হাতে। ৩ মাস আগে, চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, জ্যাক মা চীন সরকারের নাম নেয়ায় কয়েক মাসের জন্য আটকা পড়েছিলো। একই মনোভাব নিয়ে চীন ৩য় বিশ্বকে দেখছে, এরা ৩য় বিশ্বের সরকারগুলোকে ১০০ ভাগ দুর্নীতিবাজ করে তুলছে; বার্মাতে সেটাই ঘটেছে; চীন এক সময় বার্মার মিলিটারী সরকারকে দখল করে বার্মাকে চীনের অংশ করে ফেলতে পারে।
মিলিটারী বিবিধ চুক্তির অধীনে সু চি'কে সরকারে রেখেছিলো; সু চি'কে গ্রেফতার করে, মিলিটারী সব ক্ষমতা নিজের হাতে নেয়া মানে, সু চি দেশের মিলিটারীর অমতে বর্মিদের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিলো; এতে মিলিটারী ও তাদের বন্ধু চীন হয়তো ক্ষেপে গেছে।
বার্মার লোকসংখ্যা আমাদের ৩ ভাগের ১ ভাগ ( সোয়া ৬ কোটী ); দেশের আয়তন আমাদের দেশের থেকে ৪ গুণ বা তার চেয়ে বেশী; মানুষজন কাজ করে খায়; তাদের বড় অংশের জীবন যাত্রার মান আমাদের চেয়ে নীচু। ১৯৬২ সাল থেকে মিলিটারী ক্ষমতায়, মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি; মিলিটারী আসলে, বর্মিদের নিজ দেশে চীনাদের দাস বানায়েছে; গ্যাস, তেল, গাছ, পাথর, চাষ এখন চীনাদের হাতে; বর্মিরা চীনাদের অধীনে কাজ করছে।
সু চি'কে বাংগালীরা পছন্দ করেন না; কারণ, সু চি রোহিংগাদের ফেরত নেয়ার কোন পদক্ষেপ নেয়নি; তবে, বাংগালীরা নিশ্চয় জানার কথা যে, সু চি রোহিংগাদের দেশছাড়া করেনি, ওদেরকে দেশছাড়া করেছে: সেই দেশের মিলিটারী, আরাকান রোহিংগা সালভেশান আর্মি'র (ARSA ) জংগি পদক্ষেপ ও রোহিংগাদের অপরাধ-প্রবন চরিত্র।
গত ভোটে ও তার আগের ভোটে সু চি মেজোরিটি পেয়েছিলো; কিন্তু মিলিটারী সরকার ছাড়েনি, জোর করেই সরকারে আছে; কারণ, দেশের ধনী ও ধনী ব্যবসায়ীরা মিলিটারীর পক্ষে; তাদের মিলিটারী আবার বাংলাদেশের চেয়ে ৪ গুণ বড় হবে ( ৭ লাখের বেশী); মিলিটারী পরিবার, প্রশাসনের লোকজন ও ধনী ব্যবসায়ীরা হচ্ছে মিলিটারীর শক্তি। সু চি যখন জেলে ছিলো, দেশের বড় অংশ মানুষ এক সময়ে মিলিটারীর পক্ষে ছিলো; বাংলাদেশের অনেক মানুষের সাথে মিল আছে।
সু চি কেন রোহিংগাদের নিতে চায়নি, উহা এখনো পরিস্কার নয়; তবে, সে নিজ জাতির জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করছে। সু চি হয়তো মিলিটারীর কারণে রোহিংগাদের নেয়ার পক্ষে কিছু বলতে পারেনি; কিংবা, এও হতে পারে যে, সে রোহিংগাদের পছন্দ করে না; রোহিংগাদের পছন্দ না করার পক্ষে অনেক কারণ আছে।
সে রোহিংগাদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলে একবার ভোট নিয়েছিলো; সে কখনো রোহিংগাদের না নেয়ার পক্ষে কথা বলেনি, নেয়ার কথাও বলেনি; এবারের নতুন ক্যু' দেখে মনে হচ্ছে যে, সে মিলিটারী থেকে দেশ পুরোপুরি মুক্ত করতে পারেনি কখনো!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


