
আমাদের যুদ্ধকালীন প্রাইম মিনিষ্টার, তাজউদ্দিন সাহেব বাকশাল করেননি, আজীবনের জন্য তথাকথিত ফেরাউন হতে চাননি, উনার মন্ত্রীত্বও ছিলো না; এবং দলেও উনার নিজ পদের দায়িত্ব থেকেও উনাকে অলিখিতভাবে দুরে রাখা হয়েছিলো ১৯৭৫ সালে; এরপর কেন উনাকে হত্যা করা হয়েছিলো? শেখ হত্যার পর যারা ক্ষমতা দখল করেছিলো, তাদের জন্য শেখের পর তাজউদ্দিন সাহেব ছিলেন বড় ধরণের বাধা; এবং তাজউদ্দিন সাহেব জীবিত থাকলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব উনার হাতে চলে যেতো। তাজউদ্দিন সাহেবের হাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চলে গেলে, জিয়া সুবিধা করতে পারতো না।
অনেক বাংগালী শেখ-বিরোধী ছিলো ও আছেন, তাদের অভিযোগের শেষ ছিলো না: শেখ সাহেব দেশকে ধর্ম-নিরপেক্ষ করেছেন, আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট হয়ে গিয়েছিলেন, বাকশাল করে বাকীদের রাজনীতি বন্ধ করেছন, ব্ল ব্লা; ঠিক আছে, ধরলাম শেখ সাহেব অনেক অপরাধ করেছিলেন; কিন্ত তাউদ্দিন সাহবেকে কেন হত্যা করা হয়েছিলো, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো কখনো এসব লিলিপুটিয়ান?
জে: জিয়া সাধারণ মানুষকে রাজনীতি থেকে হটিয়ে দিয়েছেন কৌশলে; জে: জিয়া থেকে শুরু করে, পাকিস্তান, মিশর, বার্মার জেনারেলরা মানুষকে রাজনীতি থেকে দুরে রেখেছে ও রাখছে। জিয়া প্রকাশ্যেই বলেছিল যে, রাজনীতিকে কঠিন করে দেবে; এবং সে সেটাই করেছে। সে ৭ বছরেই জাতিকে কক্ষচ্যুত করেছিল ও মানুষের রাজনীতি করার পথ রুদ্ধ করেছিলো কৌশলে; যাক, সে বার্মার বা মিশরের মিলটারীর মতো অতো বেশী সময় পায়নি।
বাংগালীরা আধুনিক রাজনীতি আগেও বুঝতেন না, এখনো বুঝেন না; গত সপ্তাহে বার্মায় সামরিক ক্যু হয়েছে, বাংলাদেশে যারা জিয়ার সাপোর্টার ছিলো, তারাও কিন্তু বার্মার সামরিক শাসনের বিপক্ষে কথা বলছেন; ইহাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞাটা বিশাল, জিয়া হলেন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক, শুধু বর্মার জেনারেলরা অপরাধী।
বাংগালীদের রিপাবলিকান রাজনৈতিক ধারণা দিয়েছিলো বৃটিশ; বৃটিশের ভাবনাচিন্তা ছিলো আধুনিক, তারা ভারতে 'রাজতন্ত্রের' পতন ঘটায়েছিলো দখলের মাধ্যমে; ১৮৫৮ সাল থেকে বৃটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নেয়ার পর, তারা ইহাকে ক্রমেই কলোনিয়েল শাসন ব্যবস্হায় আনে, এবং ভারতের মানুষজন প্রথম কোন পশ্চিমা সরকারের অধীনে কাজ করার সুযোগ পায়, আধুনিক রাজনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
আজকে, বাংগালী জাতিকে রাজনীতি থেকে দুরে ঠেলে দিয়েছেন বর্তমান প্রাইম মিনিষ্ঠার শেখ হাসিনা; উনি প্রাশাসন ও দলকে এমনভাবে পরিচালনা করছেন যে, সরকার গঠনে, ও দেশ পরিচালনায় মানুষের কোন মতামতের দরকার নেই। সরকার গঠনে যদি মানুষের ভুমিকা না থাকে, মানুষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারায়ে ফেলেন, মানুষ রাজনীতি-চর্চা করতে উৎসাহ পান না। উনার দলেও রাজনীতি নিয়ে উৎসাহ আছে বলে মনে হচ্ছে হচ্ছে না; উনার দলটি অনেকটা পিরামিড মডেলের ব্যবসায়ী দলে পরিণত হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


