
আমাদের জাতিকে বর্তমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অরাজকতা থেকে বের করে আনার জন্য একটা রোডম্যাপ দরকার, এবং সেটা আমাদের সরকার ও পার্লামেন্ট থেকে আসার দরকার। আমাদের জাতির উপর দিয়ে আমেরিকা, ব্রাজিল, ইতালী, স্পেনের মতো ঝড় বয়ে যায়নি, সামান্য বাতাস লেগেছে মাত্র; মাঠে শস্য ছিলো না বলে বাতাস যে বইছে উহা চোখে পড়েনি, খালি মাঠে বাতাস বইলে ঝড়ের গতিবেগ বুঝা যায় না।
মানুষ বুঝতেছেন, করোনার আগে দেশে যেই ধরণের বেহাল অবস্হা ছিলো, এখন সেটা আরো খারাপ আকার ধারণ করবে; সরকারের নীরবতা মানুষের মাঝে আরো হতাশা যোগ করবে।
কত কম সময়ে সরকার কমপক্ষে ৮/১০ কোটী মানুষকে টিকা দিতে পারবে, ১৩ লাখ এইচএসসি পাশ ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ব্যবস্হা করতে পারবে; কখন, কিভাবে নতুন করে চাকুরী সৃষ্টি করতে পারবে; করোনার সময়ে যাদের চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করার কথা ছিলো, তাদের জন্য সরকার কি ব্যবস্হা নেবে, কখন সব ব্যবসা বাণিজ্য চালু হওয়ার সম্ভাবনা, কখন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি চালু হবে, সরকারের হাতে কি পরিমাণ ক্যাশ আছে, এগুলোর পুরো একটা চিত্র ও প্ল্যান মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার।
করোনা থেকে বের হওয়ার জন্য ও দেশের অচল-অর্থনীতিকে গতি দেয়ার জন্য আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন; সাথে সাথে বিভক্ত জাতিকে একত্রিত-করণের জন্য বিরোধীদলের সাথে আপোষের চেষ্টা শুরু করেছেন। ট্রাম্প জাতিকে ভয়ংকরভাবে বিভক্ত করে গেছে, এবং সেই বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকাকে ভুল পথে ধরে রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে; তবে, ইহা মোটামুটি অনিশ্চিত এখনো। নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটা রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন, সেগুলোকে কার্যকর করার জন্য ২৫টি'র বেশী এক্সেকিউটিভ অর্ডারে সাইন করেছেন ও কংগ্রেস অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে; এই প্যাকেজে কমপক্ষে ২ ট্রিলিয়ন ডলার থাকবে, যা দেশকে আগের অবস্হানে ফেরত নিতে পারবে বলে ধারণা করছে আমেরিকান কংগ্রেস।
আমাদের সরকারের লোকেরা ও প্রাইভেট কর্পোরেশনগুলো আমেরিকা ও ইউরোপের তৎপরতা দেখছে; আমেরিকা ও ইউরোপকে অনুসরণ করে, আমাদের সরকার জাতিকে বর্তমান সমস্যা থেকে বের করার জন্য একটি রোডম্যাপ দিতে পারে; ইহা খুবই দরকারী পদক্ষেপ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


