somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষা আন্দোলন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র বেকুবীর ঐতিহাসিক প্রমাণ

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভারত ভুখন্ডে ১ম বার ভোট হয়েছিলো ১৯২০ সালে, ইহাই ছিলো একই সাথে প্রজাতন্ত্র ও গণতন্ত্রের শুরু; ভারতের মানুষ প্রথম জানলো, দেশের সরকার গঠনে মানুষের অধিকার ও উহার প্রয়োগের কথা। ১৯৪৭ সালে কলোনী থেকে ভারতে ২টি প্রজাতন্ত্রের সৃষ্টি হওয়ার পর, মানুষের দরকার ছিলো, শিক্ষা ও চাকুরী; সরকারের দরকার ছিলো জাতি গঠনের; ২ দেশেই সরকারী ভাষা ছিলো ইংরেজী।

প্রয়োজন ছিলো দেশের মানুষের জন্য চাকুরী সৃষ্টি করা ও তাদের পড়ালেখার জন্য তাদেরকে স্কুল কলেজে যেতে দেয়া; নতুন করে স্কুল কলেজ, ইউনিভার্সিটি সৃষ্টি করা, দেশের ইনফ্রাষ্ট্রাকচার তৈরি করা; কিন্তু জিন্নাহ'এর মাথায় ছিলো ভাষা সমস্যা; লোকটা ভয়ংকর বেকুব ছিলেন। উনি দীর্ঘদিন বাঁচেননি, বাঁচলে বাংলাদেশ দেখে যেতে পারতেন।

১৯৪৫ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর, বিশ্বের পরিস্হিতি দ্রুত বদলায়েছে; বৃটিশ কলোনীর সব দেশগুলো স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছিলো; সারা ভারতে, ছাত্ররা ছিলো স্বাধীনতার পক্ষে। যদিও ততকালীন সময়ে যেই সামান্য পরিমাণ বাংগালীরা পড়ালেখা করতেন, তাদের বেশীরভাগই কোন না কোনভাবে, ততকালীন সময়ের ধনী পরিবারের ছেলেমেয়ে ছিলেন; ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েরা আন্দোলন ইত্যাদিতে খুব বেশী একটা বেশী যোগ দিতো না।

কিন্তু পুর্ববাংলা এলাকায় ধনীদের সংখ্যা ছিলো নগণ্য, জমিদারেরা ও তাদের অধীনে যারা চাকুরী বাকুরী করতেন, এদের ছেলেমেয়েরাই পড়ালেখার সুযোগ পেতো; এরা ভারতের অন্য এলাকার তুলানয় দরিদ্র ছিল; ফলে, এরা স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত ছিলো। জিন্নাহ সাহেব যখন অপ্রয়োজনীয় কাজ, ভাষা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করলেন, বাংলার ছেলেমেয়েরা, যারা বৃটিশের বিপক্ষে আন্দোলনে হাত পাকিয়েছিলো তারা জিন্নাহের বিপক্ষে সহজেই সংগঠিত হলো।

ছাত্রদের এই দু:সাহস দেখে, এদিকে জিন্নাহের মাথায় রক্ত উঠলো, তিনি কংগ্রেসের সাথে ৫০ বছর সংগ্রাম করে 'মুসলমানদের জন্য দেশ' আনলেন, আর এসব সামান্য ছেলেমেয়েরা উনার কথা শোনে না! তিনি নিজের বেকুবী বুঝার চেষ্টা না করে একরোখা হয়ে উঠলেন।

এইবার, ২০২১ সালে শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে যদি জিন্নাহ'র বেকুবীটা বুঝতে পারেন, তিনি নিজকে শোধরাতে পারবেন; উনি সম্প্রতি জিন্নাহ সাহেবের মতো অনেক বেকুবী করছেন, ও জিন্নাহ সাহেবের মতো একরোখা হয়ে গেছেন।


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:০৫
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×