somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

৩১ শে মে, ২০২১ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী পাওয়ার পর, কিছুটা গন্ডগোল লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম; কিন্তু তাতেও সুবিধা করতে পারিনি, এটা সেই কাহিনী।

আমার কাজে যাবার ২টি পথ আছে: প্রথমটি, সাবওয়ে ট্রেন ও লংআইল্যান্ড ট্রেইন নিয়ে যাওয়া-আসা; অন্যটা হলো সাবওয়ে ও এক্সপ্রেস বাস নিয়ে যাওয়া-আসা; প্রথটিতে সময় কম ভাড়া বেশী।

আমি কাজে যাবার সময়, ২টি সাবওয়ে ট্রেন বদলায়ে, অবশেষে লংআইল্যানডের ট্রেন ধরে কাজে যেতাম; ফেরার সময়ও একই পথে; কাজে দেরী হলে, সন্ধ্যার দিকে ট্রেন ঘন ঘন আসতো না; কোনদিন ২/১ মিনিটের জন্য ট্রেন হারালে, আমি পরের ট্রেনের জন্য বসে থাকতাম না, বাস ষ্টেশনে গিয়ে, এক্সপ্রেস বাস ধরে জামাইকা এসে, সেখান থেকে সাবওয়ে ট্রেন ধরে বাসায় ফিরতাম, এই পথে সময় কিছুটা বেশী লাগতো।

সন্ধ্যায় জামাইকা থেকে ট্রেনে ফেরার মাঝে একটা আনন্দ ছিলো, পেছনের ৩/৪ বগী সব সময় একেবারে খালি থাকতো, ৬/৭ ষ্টেশনে পেছনের বগীগুলোতে কেহ উঠতো না, রাতে খালি বগীতে উঠতে মানুষ ভয় পায়। আমি সাবওয়ে ট্রেনে কখনো বসতাম না। অনেকটা পথ একা একা আসতে ভালো লাগতো; আমি বগীর ভেতর হাঁটতাম, নিজে নিজে জোরে জোরে কথা বলতাম।

এক শরতের সন্ধ্যায়, আমি পেছনের বগীতে উঠে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি, ট্রেন ছাড়ার বেল বাজছে, স্লাইডিং দরজা বন্ধ হচ্ছে, দেখি এক নারী ২ হাতে বাজারের অনেকগুলো ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ঝড়ের গতিতে নামছে; সে নামার আগে দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমি পা দিয়ে আটকায়ে দিলাম, সে উঠলো। পুরো বগী খালি, সে ব্যাগগুলো রেখে, ভালো করে বসলো; তারপর, আমার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকালো। মাঝারি গঠন, বয়স ৩০'এর মতো হবে, ড্রেস প্যান্ট ও কোট পরা, ভালো স্বাস্হ্য, কমনীয় চেহারা।

আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, আশা করছি, সে ধন্যবাদ বলবে, সে ঠান্ডা চোখে আমাকে বললো,
-তুমি দরজা ধরে রেখে আমাকে সাহায্য করেছ; ইহার কোন দরকার ছিলো না, এভাবে ট্রেন আটকায়ে রাখা বেআইনী।
-তুমি যেভাবে নামছিলা, আমি তো মনে করছিলাম, তুমি ফ্লাইট মিস করছো!
-কেহ ফ্লাইট মিস করলেও ট্রেনের সেইফটি রুল ভংগ করে, আর কোনদিন ট্রেন থামাইও না; এভাবে এ্যাকসিডেন্ট হয়।
-ঠিক আছে, আমি বুঝেছি, আর লেকচারের দরকার নেই।
-আমি তোমার ভালোর জন্য বলছি।
-বললাম তো বুঝেছি, এখন লেকচার বন্ধ করে বস; না'হয়, তোমাকে সামনের ষ্টেশনে নামিয়ে দেবো।

সে হো হো করে হেসে উঠলো,
-তুমি আমাকে নামিয়ে দিবে, কিভাবে?
-সোজা ব্যাপার, হাতে ধরে টেনে প্লাটফরমে নামিয়ে দেবো; তোমার বাজার টাজার সবই ট্রেনেই থেকে যাবে।
-তুমি আমার সাথে পারবে?
-কি যে বলো, তুমি মেয়ে, নাকি পুরুষ?
-আমি মেয়ে, তুমি আমাকে টেনে সীট থেকেও তুলতে পারবে না।
-তুমি আমাকে হাসাচ্ছ!
-শেষ হাসি কিন্ত আমিই হাসবো।

-শক্তি ব্যতিতও আমার সাথে এটাসেটাও আছে! দেখালে, তুমি ভয়ে বাপ ডেকে নিজেই পালিয়ে যাবে।
-তাই? দেখাও তো, তোমার সাথে কি আছে! আমি তোমার পা থেকে মাথা সব জরীপ করে ফেলেছি, তোমার সাথে কোন অস্ত্র ইত্যাদি নেই। তুমি বরং এখন আমার দিকে তাকাও, দেখ, এটা কি!

সে তার কোট সরায়ে বাম বাহুর নীচে দেখালো, রিভলবার ঝুলছে! আমি বললাম,
-ব্যাপার কি?
-আমি পুলিশের ডিটেকটিভ, জামাইকাতে কাজ করি। তোমাকে এই ট্রেনে অনেকবার দেখেছি।
-তাই?
-বাহাদুরি করে মেয়েদের ভয় লাগাতে গিয়ে শেষে শ্রীঘরে চলে যাইও না; আজকে তুমি পরপর ২টি ভুল করেছ। আমি সামনের ষ্টেশনে নেমে যাবো; সামনের দিনগুলোতে এসব এ্যাডভেন্চার আর করিও না, তোমার বয়স হয়েছে!
-তোমাকে ব্যাগ নামিয়ে দিয়ে সাহায্য করতে হবে?
-ধন্যবাদ, লাগবে না, আমি অভ্যস্ত! ৮ ঘন্টা কাজের পর, বাসায় গিয়ে রান্নাও করতে হবে; ভালো থেকো, দেখা হবে।
-দেখা হবে।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২১ দুপুর ২:৪০
২৯টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×