
**** যাঁরা আমার পোষ্ট পড়ছেন, কমেন্ট করছেন, তাঁদের পোষ্ট পড়ে ২/১টা কমেন্ট করা আমার দায়িত্বের মাঝে পড়ে, ইহা ব্লগিং'এর অলিখিত নিয়ম; আমি কমেন্ট ব্যানে আছি, আপনাদের পোষ্ট পড়ছি, কিন্তু কমেন্ট করতে পারছি না ****
শেখ সাহবেকে হত্যা করেছিলো সিআইএ; তাদের ধারণা হয়েছিলো যে, শেখ সাহেব দেশে 'বাকশাল'(সমাজতন্ত্র ) করে, সোভিয়েত ব্লকে (ওয়ারশ ফ্যাক্ট দেশসমুহের দল ) চলে যাচ্ছেন, উনি ফিদেল ক্যাষ্ট্রো ও মার্শাল টিটোর বুদ্ধিকে গ্রহন করেছেন। সিআইএ তাদের প্ল্যানকে কার্যকরী করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মিলিটারীকে ব্যবহার করে। সিআইএ মেজর জিয়ার ইগো ও ক্ষমতার লোভকে কাজে লাগিয়ে, এবং সেনাবাহিনীর বাকী কিছু জেনারেলকে ক্রয় করেছিলো। হত্যা করার জন্য তারা কিছু মেজর, ক্যাপ্টেনদের ২ পয়সায় কিনে নিয়েছিলো।
সিআইএ গত শততে যেসব দেশের জাতীয়তাবাদী নেতাদের হত্যা করেছে, কিংবা ক্ষমতা থেকে সরায়ে দিয়েছে, তরা তা করেছে খুবই শক্ত পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে; প্রায় সব যায়গায়ই তারা স্হানীয় মিলিটারী অফিসারদের কিনে নিতো ও ক্ষমতায় নিয়ে আসতো।
পাকিস্তান ছিলো আমেরিকার জন্য একটা খেলনার দেশ; জেনারেল আইয়ুব খানকে কাজে লাগিয়ে সিআইএ ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানকে তাদের পক্ষে নেয়। সেই সময় পৃথিবী ২ ভাগে বিভক্ত ছিলো: (১) ন্যাটোর সদস্য সমুহ (ক্যাপিটেলিষ্ট ব্লক) (২) ওয়ারশ ফ্যাক্ট দেশসমুহ (সোস্যালিষ্ট ব্লক ); এরা বিশ্বের নিরপেক্ষ দেশগুলোকে নিজেদের দলে টানার জন্য যা যা দরকার সবই করতো, ইহা ছিলো "কোল্ড ওয়ারের" সময়ের একটা বড় ধরণের কাজ।
পাকিস্তানকে আমেরিকা ভালোবাসতো ও চাইতো যে, খয়রাতী জাতি হিসেবে তাদের সাথে থাকুক; ইহার দরকারও ছিলো; কারণ, ভারত কোন দলে না যাওয়াতে আমাদের এলাকায় আমেরিকানদের পোষ্য কেহ ছিলো না। পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশ হওয়ার পর, আমেরিকা আশা করেছিলো যে, বাংলাদেশেও খয়রাতী দেশ হিসেবে আমেরিকার দলে থাকবে; কারণ, আওয়ামী লীগ ও শেখ সাহেব ক্যাপিটেলিজমে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু শেখ সাহেব যখন কিউবা যাচ্ছেন, যুগোশ্লাভিয়া যাচ্ছেন, বাকশাল ( সর্বদলীয় প্লাটফরম ) গঠন করছেন, তখন আমেরিকা মনে করেছিলো যে, শেখ সাহেব সোস্যালিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন, তিনি সোভিয়েত ব্লকে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু ইহা ছিলো সিআইএ'এর ভুল, শেখ সাহেব সোস্যালিজম বুঝতেন না।
শেখ সাহেব কেন "বাকশাল" নামের রাজনৈতিক প্লাটফরম গঠন করলেন? শেখ সাহেব বিশাল মাপের চিন্তাবিদ ছিলেন না; কিন্তু ১৯৫২ সাল থেকে বাংগালীদের মাঝে যে জাতীয়তাবাদের একটা চারাগাছ বড় হচ্ছে, সেটা উনি সঠিকভাবে অনুমান করতে সমর্থ হয়েছিলেন; তিনি সেটাকে কাজে লাগানোর জন্য ৬ দফা বের করেন; বাংগালীরাও যেকোন মুল্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। সেই ৬ দফার আন্দোলনের ঐক্য দেশকে স্বাধীন করে ফেলে। স্বাধীনতা ছিলো বড়ই কষ্টকর: ৯ মাসের যুদ্ধ, জাতির মানসিক দৃঢ়তা, ঐক্য, সাহস ও বীরত্ব কাজ করেছে। কিন্তু এই ৯ মাসের যুদ্ধের সময় শেখ সাহেব যুদ্ধক্ষেত্রে না থাকাতে তিনি মানুষের অবদান দেখেননি, তাঁদের কষ্ট ও বীরত্ব দেখেননি, তাঁদের স্বপ্নকে অনুধাবন করতে পারেননি।
দেশের স্বাধীনতার মুল্য উনার কাছে ও উনার দলের ঘনিষ্টদের কাছে যেভাবে ছিলো, ৯ মাস যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী জনতার কাছে সেইরূপ ছিলো না; জনতার কাছে ইহা ছিলো নতুন জীবনের শুরু, বিশাল স্বপ্নের বাস্তবায়নের সুযোগ। শেখ সাহেব ও তাঁর দলে এই নতুন দেশকে ঠিক পাকিস্তানের পুরানো মডেল চালাতে শুরু করেন; তাঁরা পাকিস্তানের সেই পুরানো, পঁচা ব্যুরোক্রেসীর মেশিনকে দেশ চালানোর কাজ দিলেন; মানুষের স্বপ্নে লাথি মেরে গতকালের পাকিস্তানের প্রশাসনযন্ত্র নতুন দেশকে তাদের আগের পাকিস্তানের মতো চলাতে থাকে; ফলাফল, ভয়ংকর বিশৃংখলা, দারিদ্রতা ও স্বপ্নভংগ।
বিশৃখলা ও স্বপ্নভংগের মাঝ দিয়ে ৩ বছর কেটে গেলো; শেখ সাহেব বুঝতে ছিলেন, কিছু একটা করার দরকার; কিন্তু কি করতে হবে সেটা তিনি জানতেন বলে মনে হয় হয় না; যাক, একটা দিক তিনি সোজা করতে চাইলেন, সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটা "সর্বদলীয় সরকার" গঠন করার জন্য মনস্হির করলেন; এখানেও তিনি একটা ভুল করলেন, এই প্রচেষ্টাকে ভুল নাম দিয়ে, ভুলভাবে সংগঠিত করলেন, বললেন "এক দল" হতে হবে, এবং নাম হবে "বাকশাল"; উহা আসলে এক দল হওয়ার দরকার ছিলো না, দরকার ছিলো "সর্বদলীয়" হওয়ার, এবং নামটা স্বাভাবিকভাবে "সর্বদলীয়" হলেই বুঝতে সহজ হতো; ঢাকায় অবস্হিত বিমান বন্দরের নাম "ঢাকা বিমানবন্দর" হলেই ভালো, "হযরত শাহজালাল বিমান বন্দর" দেয়া মানেই একটা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা।
যাক, নামটা ও উনার অভিপ্রায় জাতির কাছে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তাটা উনি বোধ করেলেন না; জাতি বিভ্রান্ত, আমেরিকা বিভ্রান্ত; বিভ্রান্ত আমেরিকা ঠিক করলো যে, এই নেতাকে সরায়ে, এই নতুন দেশকে ২য় পাকিস্তান বানানোর দরকার; তারা সেনাবাহিনীর অফিসারদের ২ পয়সায় কিনে, তাহাই করলো।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




