
আফ্রিকায় এখন করোনার নাকি ৩য় ঢেউ চলছে; আসলে কত নম্বর ঢেউ চলছে, উহার হিসেবটা কে রেখেছে কে জানে! হয়তো, ইউরোপের কোন দেশ, কিংবা কোন এনজিও রাখতে পারে! আফ্রিকানরা নিজেরা এসব কঠিন কাজ করতে পারার কথা নয়।
জি-৭ মিটিং'এ বাইডেন বলেছে, ৩য় বিশ্বকে ১ বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হবে আমেরিকার পক্ষে থেকে, এবং আরো ১ বিলিয়ন ডোজ দেয়া হবে ইউরোপ থেকে; তবে, উহা দেয়া হবে ২০২২ সালে; এই বছরের ৭ মাসে যারা মরবে, তাদের জন্য কিছু করা যাবে না। হয়তো দোয়া মাহফিল অবধি করা সম্ভব হবে।
ভিক্ষার টিকা দেরীতে আসছে শুনে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট উওয়েরি মুসেভেনি রাগ করেছেন, তিনি বলেছেন যে, ইউরোপ ও আমেরিকা আফ্রিকার মানুষকে অবহেলা করছে। তবে, তিনি এবং আরো কিছু আফ্রিকান নেতা একটি ভালো পদক্ষেপের কথা বলেছেন, এখন থেকে আফ্রিকা নিজের টিকা নিজেরাই ম্যানুফেকচারিং করবে।
সবই ভালো ছিলো, কিন্তু সালের কথা শুনে আমি হতভম্ভ, ইহা ঘটবে নাকি ২০৪০ সালে মাঝে! ভাবছি, ২০৪০ সালেও প্রেসিডেন্ট উওয়েরি মুসেভেনি কি ক্ষমতায় থাকবেন? এই বছর থেকে ম্যানুফেকচারিং করতে কে বাধা দিচ্ছে? ইদি আমিন নেই, উনি থাকলে টিকার দরকার হতো না, যার করোনা হতো, উহাকে খেয়ে ফেললে, করোনা রোগী থাকতো না উগান্ডায়।
এযাবত, গড়ে আফ্রিকার শতকরা ১ ভাগ মানুষ টিকা পেয়েছেন। টিকা আবিস্কারের ৮ মাস পর, শতকরা মাত্র ১ ভাগ পাওয়ার কাহিনী কি? কাহিনী সোজা, ভিক্ষা! কিন্তু আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ ইরোপের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে কয়েক গুণ। আফ্রিকার অনেক দেশে হীরা, সোনা, রূপা, অনেক ধরণের ধাতু, সিমেন্ট, সীমিত পরিমাণে তেল, কফি, কলা, সবই আছে।
বাংলাদেশের সরকারও ভিক্ষার টিকার জন্য বসেছিলো; মনে হয়, এখনো আশা ছাড়েনি; কিন্তু আফ্রিকানদের চেয়ে একটু চতুর: ভিক্ষার জন্য আফসোস করে, নিজেদের ভিক্ষকত্ব প্রকাশ করছেন না; এবং রেগেমেগেও বলছেন না যে, ২০৫০ সালে আমারা নিজেদের টিকা নিজেরাই ম্যানুফেকচারিং করার শুরু করবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




