somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসে একদিনের ঘটনাপন্জী

২৩ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২০১৭ সাল, ট্টাম্প ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকে আমি বেশ লম্বা সময় চোখের সমস্যায় ভুগেছি; সেই শীতে আমি বারবার জ্বরেও ভুগছিলাম; সেই সময়ের একদিনের একটি ছোট ঘটনা:

কয়েকদিন জ্বর, ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো না; যখন ৫ দিনেও জ্বর থামলো না, ভয় পেলাম, ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে। সাদা আমেরিকান, বা ইহুদী ডাক্তারদের এপয়েন্টমেন্ট সাথে সাথে পাওয়া যায় না, বাংগালী বা ভারতীয় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ইচ্ছে নেই; এক ফিলিপাইনের ডাক্তারের এপয়েমেন্ট পেলাম, কাছেই মাইল দু'য়েক হবে। জ্বরে শরীর কিছুটা দুর্বল, ভাবলাম হেঁটেই যাই, হাঁটা হবে, লোকজনের সাথে দেখাও হবে। স্পেনিশ এলাকা হয়ে হাঁটছি, মাইলখানেকের মাঝে মানুষতো দুরের কথা কুত্তার দেখাও পেলাম না; ট্রাম্পের ভয়ে মনে হয়, কেহ রাস্তায় বের হয় না। একটু ক্লান্তিও লাগছিল, বাস নিলে ভালো হবে; কোন রাস্তা দিয়ে বাস যায় কে জানে! এক স্পেনিশ মেয়ে হনহন করে আমার পাশ দিয়ে একই দিকে হেঁটে যাচ্ছে, বললাম,

-হ্যালো, কেমন আছ! এখানে কোন রাস্তা দিয়ে বাস চলাচল করে?
-ভালো আছি, আমি ইংরেজী জানি না।
- তুমি তো ইংরেজী উত্তর দিচ্ছ, আশেপাশে বাস আছে নাকি?
-ইংরেজী জানি না বললাম না! তুমি কি ইংরেজী কম বুঝ? এই বলে সে দ্রুত চলে যাচ্ছিল। আমি বললাম,
-তুমি এভাবে পালিয়ে যাচ্ছ কেন, মানুষ টানুষ খুন করেছ নাকি, নাকি কিছু চুরি টুরি করেছ?
-তুমি কি এই সকালবেলায় সমস্যায় জড়াতে চাচ্ছ? মেয়ে মোটামুটি ক্ষেপেছে, এবং তার চোয়ালের হাড্ডি মাড্ডি শক্ত হয়ে উঠেছে।
-সামনে পুলিশের গাড়ী আছে, ওগুলো ট্রাম্প সাপোর্টার, ওরা হিসপানিকদের ভালোবাসে না, হুশিয়ারে যাইও।
-চিন্তিত হয়ো না, আমার স্বামী পুলিশে চাকুরী করে; বরং তোমার একটু হুশিয়ার হওয়ার দরকার আছে!
-স্বামী পুলিশে? কত নম্বর স্বামী, নম্বরটা মনে আছে তো?
সে রাস্তা ক্রস করে অন্য পাশে চলে গেলো।

ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে দেখলো, শেষে একটু চিন্তিত হয়ে গেলো; ডাক্তারকে চিন্তিত দেখলে ভালো না লাগার কারণ আছে। ডাক্তার বললো নীচে গিয়ে রক্ত দিতে; আমি বললাম,
-তাড়াহুড়ো কেন?
-মনে হচ্ছে, একটা সমস্যা আছে; আজকেই রিপোর্টটা পেলে ভালো হবে।
-মরে টরে যাচ্ছি নাতো?
-হয়তো আজকে মরতেছ না, তবে টেস্টটা জরুরী।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো। রক্ত দিলাম। হাঁটার ইচ্ছে ছিলো না আর; ল্যাবের লোকটার থেকে জেনে নিলাম, সামান্য কয়েক ব্লকের পর ট্রেন আছে। ৩/৪ ব্লক ব্লক হাঁটলাম, ট্রেনের নাম গন্ধও নেই; আরেকজনকে প্রশ্ন করে জানলাম আরও ৩ ব্লক সামনে; মন খাট্টা হয়ে গেলো। রাস্তাঘাট ফাঁকা; এক দোকানের সামনে এক সাদা মেয়ে সেলফোন টিপছিলো; কোন হ্যালো মেলো ব্যতিতই তাকে প্রশ্ন করলাম,
-ট্রেন কোথায়?
মেয়েটা এদিক ওদিক তাকিয়ে দিলো দৌড়; দৌড়ে রাস্তার কোণায় গিয়ে পেছনে ফিরে আমাকে দেখলো। পাশে একটা সাদা ছেলে ছিলো, সেও হতবাক। সে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-তোমার হাত কোথায়?

আমার ডান হাতটা বুক বরাবর ওভারকোটের ভেতরে ঢুকানো ছিল; জ্বরে ঠান্ডা লাগছিলো, একটা বোতাম খুলে হাতটাকে কোটের ভেতর রেখে একটু গরম করছিলাম। ছেলেটা বললো,
-মেয়েটা মনে করেছে, তোমার হাতে অস্ত্র থাকতে পারে। ছেলেটির অনুমান সঠিক, মনে হলো।
ছেলেটি ট্রেন দেখায়ে দিলো; আমি ১ ব্লক বেশী এসে গেছি, পেছনে যেতে হবে।

ট্রেন ফাঁকা, সকালে কাজের লোকেরা কাজে চলে গেছে, এখন বেকার ফেকাররা ঘুরতে বের হচ্ছে। পুরো ট্রেনে ক্যানের পঁচা টুনা মাছের গন্ধ; আমি জোরে চিৎকার করে বললাম,
-বিড়ালের খাদ্য কে খাচ্ছে?

একটা সাদা মেয়ে মনে হলো বেশ মজা পেয়েছে, সে আংগুল দিয়ে ট্রেনের বগির অন্য প্রান্তের দিকে দেখালো। অবশ্যই, এক চীনা মিয়া সস্তা টুনাকে ২ রুটির মাঝখানে রেখে, তথাকথিত স্যান্ডউইচ খাচ্ছে, পুরো ট্রেনে গন্ধ। চীনা মিয়াকে লক্ষ্য করে বললাম,
-কি ব্যাপার, টুনা কেমন লাগছে?
সে খুশী, মাথা নেড়ে আবার এক কামড় নিলো। এক আফ্রিকান আমেরিকান মেয়ে আমার এই হাবভাব পছন্দ করেনি; সে শক্ত গলায় বললো,
-মিস্টার, ট্রেনটা কি তুমি কিনেছ? ভালো না লাগলে নেমে যাও!

বুঝলাম, বেশী করা হয়ে গেছে, আজকের জন্য যথেষ্ট; সামনের স্টেশনে নেমে অন্য কামরায় চলে গেলাম।



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৯:৪২
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×