somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদে আমাকে একখানা কাপড় কিনে দিও

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের পাশের গ্রামের ১টি কিশোরী খুবই কম কথা বলতো; কেহ কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তর দিতো না; কিন্তু আমি কথা বললে, সে আমার সাথে হেসে কথা বলতো; এটি সেই মেয়েটির কথা।

আমাদের বাড়ীর পুর্ব পাশে ধানের মাঠ; মাঠের দক্ষিণ পুর্ব পাশে আমাদের একটি ছাড়া-বাড়ি ছিল; বাড়ীটাকে আমরা খামার বাড়ীর মতো ব্যবহার করতাম, মোটামুটি নির্জন, আশপাশের বাড়ীগুলো বেশ দুরে ছিল; বাড়ীতে প্রচুর জংগল ছিল, বর্ষায় মাঠের সব সাপ এখানে এসে আশ্রয় নিতো। আমাদের কাজের বুড়োমিয়া সাপের ভয়ে থাকতেন, এবং জংগল পরিস্কারের কথা বলতেন; আমি পরিস্কার করতে দিতাম না; কারণ, বাড়ীর পুর্বাংশের জংগলে বড় কয়েকটা গর্ত করে, এক শিয়াল দম্পতি থাকতো কয়েক বছর ধরে। গ্রামের মানুষের একটা বেদরকারী কর্তব্য ছিল: শিয়াল, বনবিড়াল ও সাপ মেরে ফেলা; আমি সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমাদের এই বাড়ীতে ঢুকে কেহ যেন কোন প্রাণী মারার চেস্টা না করে।

বাড়ীতে মাত্র ৩টি আম গাছ ছিল, যেটি ছোট সেটিতে বেশী আম ধরতো ও খুবই সুস্বাদু ছিল; আমি আর বুড়ো মিয়াই এগুলো খেতাম; দশম শ্রেণীর বছর, ছোট গাছটায় আম পাকা শুরু করেছে; সকালে পাকা আম দেখি, বিকেলে নেই, কে নিয়ে যাচ্ছে! বাড়ীতে একটি ছোট, সুন্দর কুঁড়েঘর ও গরুঘর ছিলো, বর্ষা ও গরমে আমি ওখানেই থাকতাম। বুড়োমিয়া কাজে ব্যস্ত, আম কে নিচ্ছে কে জানে! পরদিন আমি দুপুর বেলা ঘরের মাঝে চুপচাপ বসে পড়ছিলাম; দেখি, পাশের গ্রামের একটি ১২/১৩ বছরের পরিচিত মেয়ে একটি বাঁশের সাহায্যে আম পাড়ছে; আমি গেলাম, সে ভয় পেয়ে গেলো! মেয়েটার সামান্য সমস্যা ছিল, সে কারো সাথে কথা বলতো না; ওদের পুকুর পাড় দিয়ে রাস্তা গেছে, স্কুলে যাবার সময় দেখতাম, সে পুকুর-ঘাটে থালি-বাসন মাজছে; আমি কিছু বললে সে উত্তর দিতো, অন্যদের সাথে সে তেমন কথা বলতো না।

তাকে ভীত দেখে আমি কিছুই বললাম না; সে চলে যাচ্ছিল, আমি বললাম
-ফাতেমা, আম নিয়ে যা!
সে রেগে গেলো,
-তোামাদের এত আম, আমি ২টা আম পাড়ছি, তাতে তুমি ঘর থেকে বের হয়ে এসেছ! আম তুমি খাওগে।
আমি থামাতে চেস্টা করলাম, সে কেঁদে ফেললো; চলে গেলো।

দুইদিন পর, ওর চাচাতো বোনকে দেখলাম মাঠ থেকে ছাগল নিতে এসেছে; আমি একটি থলেতে কিছু আম দিলাম, বললাম,
-তুই কিছু নিস, বাকীগুলো ফাতেমাকে দিস।
মেয়ে রহস্যময় হাসি হেসে বললো,
-এই তোমার অবস্হা?

যুদ্ধের সময় ওদের বাড়ী পোড়ায়ে দিয়েছিল; ওরা ২ গ্রামের পরের গ্রামে মামার বাড়ীতে ছিল; দারিদ্রতার কারণে এখানে আর বাড়ী তুলতে পারেনি, আর ফিরে আসেনি গ্রামে।

তারপর এত বছর কেটে গেছে, আমাকে চলে যেতে হয়েছে দুরে, ফাতেমার কোন খবর আমি জানি না। সেদিন খামার বাড়ীতে বসে সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলাম; এখন এটি বাড়ীতে পরিণত হয়েছে, আমার বড় ভাই পরিবার নিয়ে এই বাড়ীতে থাকেন। ভাবী বললেন,
-একজন মহিলা এসেছে তোমার সাথে দেখা করার জন্য, পাক ঘরে বসেছে।
পাক ঘরে ঢুকে দেখলাম মহিলাটি ফাতেমা; গায়ের জীর্ণ শীর্ণ কাপড় দেখে অবস্হা বুঝতে পারলাম; সে আমাকে জড়ায়ে ধরলো; কুশলাদি জামলাম; একত্রে চা খেলাম। সে চলে যাবে, হাতে কিছু টাকা দিলাম, বললাম রাতে খেয়ে যেতে; সে থাকলো না; শুধু বললো,
-ঈদে আমাকে একখানা কাপড় কিনে দিও।
-ঠিক আছে, তুই আমার মনে আছিস আজীবন; আমি তোর খবর নেবো।

ভাবী ও ভাইয়ের বড় মেয়ে হতবাক, এই মহিলা কিভাবে আমাকে জড়ায়ে ধরলো; বড়ভাইয়ের মেয়ে বললো,
-মহিলা তো একটু পাগল ধরণের, কথা বলে না।
-না, সে পাগল ছিলো না, একটু অন্য রকম ছিলো।








সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২৮
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×