somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগারদের বইপড়া নিয়ে

১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'৭১'এর জেনারেশনের বাংগালীরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গৌরব করেন, ব্লগের বাংগালীরা বইপড়া নিয়ে মাঝে মাঝে গৌরব করেন: কেহ কেহ লেখেন যে, তিনি বইপোকা ছিলেন; বইপোকা নিয়ে আমার বিরাট সমস্যা আছে: আমার বাবার কেনা একটি মাত্র বই স্মৃতি হিসেবে ছিলো, কবি নজরুল ইসলামের "সন্চিতা"; আমার মা উহাকে যত্ন করে বেশ উঁচু একটি তাকে রাখতেন; একবার ৬ মাস উহা পড়া হয়নি, আমার বড় ভাই উহাকে নামিয়ে দেখেন যে, বইটির সুন্দর কাভার ও কিছু পাতাকে উইপোকা খেয়ে ফেলেছে; আমার মা ও ভাই অনেক মনোকষ্ট পেয়েছিলেন। বই খেয়েছে বলে আমার মন খারাপ হয়নি, বাবার স্মৃতি নষ্ট করার কারণে আমিও উইপোকার উপর ক্ষেপে ছিলাম কিছু সময় ধরে। এখন কেহ নিজকে বইপোকা হিসেবে পরিচয় দিলে, আমার খালি উইপোকার কথা মনে পড়ে।

আমি টেক্সট বইয়ের বাইরে তেমন কোন বই কখনো পড়ার চেষ্টা করতাম না, আমার কাছে জ্ঞান থেকে আমার চোখের দাম বেশী ছিলো; এবং ইহা কাজও করেছে, আমি বাংলায় ভালো নম্বের পেতাম। সাবজেক্ট হিসেবে বাংলায়, ক্লাশে আমরা সবাই একই বই পড়তাম, কেহ কেহ ফেল করতো, ৩৩ নম্বর পেতো না; বইগুলোতে কিছু গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা থাকতো, এই ছাতা মাথা পড়ে কেন যে, ১০০ নম্বরের মাঝে ৩৩ পেতো না, আমার মাথায় ঢুকতো না।

যেকোন সাবজেক্টে আমার প্রশ্নোত্তরগুলো হতো ছোট, আমি অল্প কথায় লিখতাম, আজো চেষ্টা করি; কিছু কিছু শিক্ষক বলতেন, একটু ব্যাখ্যা ম্যাখ্যা করে, উদাহরণ টুদাাহরণ দিয়ে বড় আকারে লিখার জন্য; আমার এসব অকারণ বকবক লেখা কখনো ভালো লাগতো না। আমি ইংরেজী ও বাংলায় কমফ্রিহেনশনেও ভালো করেছি মোটামুটি; অনেকে কমফ্রিহেনশন পড়ে কি ঘোড়ার ডিম বুঝতো কে জানে, আধাপাতা পড়ে ২/৩ পাতা লিখে ফেলতো, কিন্তু ১০'এ ৩ থেকে বেশী পেতো না। ব্লগে যাদের লেখা লম্বা হয়, তাঁদের লেখা আমার পক্ষে পড়া সম্ভব হয় না; সামুতে কিছু ব্লগার আছেন, উনাদের কমেন্ট ও কমেন্টের উত্তর দেখে আমার খালি মহাভারতের কথা মনে পড়ে।

কেহ আমাকে "আরো পড়া লেখা করার" কথা বলে উপদেশ আমার গায়ে আগুন লাগে; আমি গিয়ে তাদের কয়েকটা পোষ্ট পড়ি; বেশীর ভাগই দেখি, দুনিয়ার বকবক লিখে ভরায়ে রেখেছেন।

রাজিব নুর মাঝে মাঝে কিছু বইয়ের লিষ্ট টিষ্ট দিয়ে বলেন, সেগুলো সবার পড়া উচিত। উনার যত লিষ্ট আমি দেখেছি, উহার মাঝে আজ অবধি ১টা বই আমি পড়েছি, "সুর্য দীঘল বাড়ী", ইহা ছিলো পাঠ্য বই, না'হয় উহাও পড়া হতো না। আমি রাজিবকে কিছু বলি না, উনি অনেক পড়েন, অনেক লেখেন। কিন্তু যারা মোটেই ভালো লেখেন না, তারা বইয়ের লিষ্ট দিলে, আমার চিন্তা শুরু হয়, ইনি কি স্কুলে বাংলায় পাশ করেছেন, নাকি ফেল করতেন।






সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১০:১৬
৩৩টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×