
১৪ই ডিসেম্বেরকে 'শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস' হিসেবে পালন করার চেয়ে, যুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মানুষের স্মরণে এই ধরণের একটি দিন পালন করাটাই বেশী লজিক্যাল। ১ হাজার বাংগালীর শহীদ হওয়াকে আলাদাভাবে দেখা ও পালন করার কোন সঠিক লজিক নেই, যেখানে ৩০ লাখ বাংগালীকে হত্যা করা হয়েছে একই কারণে: স্বাধীনতা চাওয়ায়, স্বাধীনতার পক্ষে থাকায়, স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করায়।
গাঁয়ের যেই কৃষক কোনদিন স্কুলে যাবার সুযোগ পাননি, তিনিও স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, আবার ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসরও স্বাধীনতা চেয়েছিলেন; স্বাধীনতায় সবাই অবদান রাখতে চেয়েছিলেন, সবাই ইহার অংশ ছিলেন। গ্রামের কৃষক পরিবারের ১জন মেয়ে, কিংবা শহরের ১ জন ইউনিভার্সিটির মেয়ের একই অপরাধ ছিলো, তাঁরা সবাই স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ ছিলেন।
স্বাধীনতার পরপর, ঢাকায় স্বাধীনতা নিয়ে যারা কথা বলেছেন, যারা বিবিধ প্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা সকলেই শিক্ষিতদের প্রতিনিধি ছিলেন; তাতে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অবদানের কথা খুব একটা আসেনি; ফলে, ৩০ লক্ষ মানুষকে একই সমতলে দেখা হয়নি। আজকে খুবই পরিস্কার যে, মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে, তখনকার সময় অনেক বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি; আজকে সময়ের সাথে এগুলো নিয়ে সঠিকভাবে অনেক পদক্ষেপ নেয়ার দরকার।
দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সব মানুষকে একইভাবে দেখা হয়নি বলে, শহীদ বুদ্ধিজীবি হ্ত্যা দিবসটিক আলাদাভাবে পালন করা হচ্ছে; কিন্তু ৩০ লাখ শীদের জন্য কোন বিশেষ দিন নেই, ইহা অবশ্যই সঠিক ভাবনা নয়; দিবসটিতে সব শহীদকে স্মরণের উদ্যোগ নেয়া হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



