somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছিলো যে, যুদ্ধে দেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৭২ সালে দেশের সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত ছিলেন , স্বাক্ষরতার হার ছিলো শতকরা ১৭ জন ( নাকি ১২ জন, মনে পড়ছে না ); এই ১৭ জন কিন্তু ততকালীন জাপানী বা ইহুদীদের মতো শিক্ষিত ছিলেন না; কেহ কেহ নিজের নাম লিখতেন ছবি আঁকার মতো করে, তাঁরাও এই ১৭ জনের মাঝে ছিলেন; এখন ভেবে দেখেন, কতজন অর্থনীতি বুঝতেন? কারা বলেছে যে, দেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে! আমাদের এলাকার এমপিদের পরিবার ছিলো ব্যবসায়ী, তাঁদের ব্যবসায়ের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিলো; পুরো চট্টগ্রামে মানুষের অনেক বাড়ীঘর ও কিছু হাটবাজার পোড়ায়ে দিয়েছিলো পাকিস্তানী বাহিনী।

যুদ্ধের পর, সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ক্যাশ নিশ্চয় ছিলো না; পাকিস্তানী বাহিনীর পতনের শেষ সপ্তাহে তারা সব ব্যাংক থেকে ক্যাশ সরায়ে পাকিস্তান নেয়ার সুযোগ পায়নি; সবচেয়ে বড় কথা, ক্যাশ না থাকলে, ক্যাশ চাপানো কোন সমস্যা ছিলো না। পাকিস্তানী বাহিনী কয়েকটা গুরুত্বপুর্ণ ব্রীজ ভেংগে দিয়েছিলো শেষ সময়ে, সমু্দ্রগামী ৮/১০টা জাহাজ, নেভীর জাহাজ, কয়েকটা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিমান নিয়ে গিয়েছিলো, এই হলো সম্পত্তি হারানো ও বিধ্বস্তের হিসেব।

মুল ক্ষতি হয়েছিল পারিবারিক লেভেলে: পরিবারের আয়ের লোকটিকে হত্যা করা হয়েছে, অনেক পরিবারের আয়ের লোক কাজের থেকে পালিয়েছিলো; অনেক পরিবারের ছোট ব্যবসা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো, বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো; মানুষ ছিলো আতংকের মাঝে।

যুদ্ধ বিজয়ের পর, মানুষ যেভাবে পুলকিত হয়েছিলো, যেভাবে উৎসাহিত হয়েছিলো, সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ উৎসবে মানুষকে ডাকা হয়নি; ফলে, মানুষের বিজয় আনন্দ আধাদিনই (১৬ই ডিসেম্বর, '৭১ সাল )ছিলো; তাজউদ্দিন সাহেব দেশে আসেন দেরীতে, ততদিনে মানুষ ঠান্ডা হয়ে গেছেন। শেখ সাহেব ফিরে আসেন জানুয়ারীর ১০ তারিখ, মানুষ সেদিনও আনন্দে ফেটে পড়েছিলেন; কিন্তু শেখ সাহেব মানুষের সেই আনন্দকে ভীতিতে পরিণত করেন: তিনি কেঁদেকেটে শুধু বলতে ছিলেন যে, দেশ ধংস হয়ে গেছে! তিনি ৯ মাস পর মুক্তি পেয়েছেন, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, এসব ইমোশান থেকে কান্না আসা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটাকে প্রাপ্তির কান্নার মতো মতো মানে হয়নি, মনে হয়েছে যে, তিনি হারানোর শোকে কাঁদছেন।

এরপর, উনি আসলে কোন বিজয়ের ভাষণ দেননি, মানুষের অপরিসীম ত্যাগ, কষ্ট, স্বজন হারানোর শান্ত্বনা উনার মুখ থেকে মানুষ শোনেননি। একই সাথে আওয়ামী লীগের লোকজনের কথায়, বক্তৃতায় মনে হচ্ছিল যে, শেখ সাহেব একাই স্বাধীনতা এনেছেন, মানুষ নিজেদের ৯ মাসের ভুমিকাকে আর খুঁজে পাচ্ছিলো না, আজো মানুষের ভুমিকা নেই আওয়ামী লীগের মুখে। এরপর থেকে সরকারের সকল অদক্ষতার সাফাই হিসেব প্রতিষ্ঠিত হলো যে, যুদ্ধে দেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে! এই বিধ্বস্ততার ধুলাবালিতে বসুন্ধরা, আলম ব্রাদার্স, বেক্সিমকো, খুলনা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, শিকদার ব্রাদার্স ও ৫০টা ইউনিভার্সিটি ও ১০০০ প্রাইভেট হাসপাতাল জন্ম নিয়েছে; ওদের জন্য কিছু বিধ্বস্ত হয়নি।




সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫৮
২৬টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×