
১৯৭২ সালে দেশের সাধারণ মানুষ অশিক্ষিত ছিলেন , স্বাক্ষরতার হার ছিলো শতকরা ১৭ জন ( নাকি ১২ জন, মনে পড়ছে না ); এই ১৭ জন কিন্তু ততকালীন জাপানী বা ইহুদীদের মতো শিক্ষিত ছিলেন না; কেহ কেহ নিজের নাম লিখতেন ছবি আঁকার মতো করে, তাঁরাও এই ১৭ জনের মাঝে ছিলেন; এখন ভেবে দেখেন, কতজন অর্থনীতি বুঝতেন? কারা বলেছে যে, দেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে! আমাদের এলাকার এমপিদের পরিবার ছিলো ব্যবসায়ী, তাঁদের ব্যবসায়ের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিলো; পুরো চট্টগ্রামে মানুষের অনেক বাড়ীঘর ও কিছু হাটবাজার পোড়ায়ে দিয়েছিলো পাকিস্তানী বাহিনী।
যুদ্ধের পর, সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ক্যাশ নিশ্চয় ছিলো না; পাকিস্তানী বাহিনীর পতনের শেষ সপ্তাহে তারা সব ব্যাংক থেকে ক্যাশ সরায়ে পাকিস্তান নেয়ার সুযোগ পায়নি; সবচেয়ে বড় কথা, ক্যাশ না থাকলে, ক্যাশ চাপানো কোন সমস্যা ছিলো না। পাকিস্তানী বাহিনী কয়েকটা গুরুত্বপুর্ণ ব্রীজ ভেংগে দিয়েছিলো শেষ সময়ে, সমু্দ্রগামী ৮/১০টা জাহাজ, নেভীর জাহাজ, কয়েকটা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিমান নিয়ে গিয়েছিলো, এই হলো সম্পত্তি হারানো ও বিধ্বস্তের হিসেব।
মুল ক্ষতি হয়েছিল পারিবারিক লেভেলে: পরিবারের আয়ের লোকটিকে হত্যা করা হয়েছে, অনেক পরিবারের আয়ের লোক কাজের থেকে পালিয়েছিলো; অনেক পরিবারের ছোট ব্যবসা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো, বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো; মানুষ ছিলো আতংকের মাঝে।
যুদ্ধ বিজয়ের পর, মানুষ যেভাবে পুলকিত হয়েছিলো, যেভাবে উৎসাহিত হয়েছিলো, সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ উৎসবে মানুষকে ডাকা হয়নি; ফলে, মানুষের বিজয় আনন্দ আধাদিনই (১৬ই ডিসেম্বর, '৭১ সাল )ছিলো; তাজউদ্দিন সাহেব দেশে আসেন দেরীতে, ততদিনে মানুষ ঠান্ডা হয়ে গেছেন। শেখ সাহেব ফিরে আসেন জানুয়ারীর ১০ তারিখ, মানুষ সেদিনও আনন্দে ফেটে পড়েছিলেন; কিন্তু শেখ সাহেব মানুষের সেই আনন্দকে ভীতিতে পরিণত করেন: তিনি কেঁদেকেটে শুধু বলতে ছিলেন যে, দেশ ধংস হয়ে গেছে! তিনি ৯ মাস পর মুক্তি পেয়েছেন, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, এসব ইমোশান থেকে কান্না আসা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটাকে প্রাপ্তির কান্নার মতো মতো মানে হয়নি, মনে হয়েছে যে, তিনি হারানোর শোকে কাঁদছেন।
এরপর, উনি আসলে কোন বিজয়ের ভাষণ দেননি, মানুষের অপরিসীম ত্যাগ, কষ্ট, স্বজন হারানোর শান্ত্বনা উনার মুখ থেকে মানুষ শোনেননি। একই সাথে আওয়ামী লীগের লোকজনের কথায়, বক্তৃতায় মনে হচ্ছিল যে, শেখ সাহেব একাই স্বাধীনতা এনেছেন, মানুষ নিজেদের ৯ মাসের ভুমিকাকে আর খুঁজে পাচ্ছিলো না, আজো মানুষের ভুমিকা নেই আওয়ামী লীগের মুখে। এরপর থেকে সরকারের সকল অদক্ষতার সাফাই হিসেব প্রতিষ্ঠিত হলো যে, যুদ্ধে দেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে! এই বিধ্বস্ততার ধুলাবালিতে বসুন্ধরা, আলম ব্রাদার্স, বেক্সিমকো, খুলনা পাওয়ার, সামিট পাওয়ার, শিকদার ব্রাদার্স ও ৫০টা ইউনিভার্সিটি ও ১০০০ প্রাইভেট হাসপাতাল জন্ম নিয়েছে; ওদের জন্য কিছু বিধ্বস্ত হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



