somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মান ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১. উপক্রমনিকা: বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা প্রায় সকল নদী বাংলাদেশের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণের বঙ্গপোসাগরে পতিত হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সকল নদী টইটুম্বুর হয়ে অথবা উজানের বাধগুলোতে অতিরিক্ত পানির চাপ রুখতে না পেরে সকল জলকপাট হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ার কারনে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা ও নদী ভাঙ্গন। আজকে এ প্রসঙ্গ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
২. বাংলাদেশের প্রধান নদী সমুহের উৎস: তিব্বতের কৈলাস শৃঙ্গ হতে উৎপত্তি হয়ে ভারতের ভুখন্ড পার হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানা হয়ে বাংলাদেশে পতিত হয় ব্রহ্মপুত্র নদ নামে প্রবাহিত হয়ে পরে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তিস্তার সাথে মিলিত হয়ে যমুনা নদী নামে ব্যপক প্রসারিত নদী হিসাবে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে ব্যপক পানি ও পলি নিয়ে বঙ্গপোসাগরে পতিত হয়।
৩. ভারতের পানি আগ্রাসন ও আকষ্মিক বন্যার কারণ: ভারত বর্ষা মৌসুমের ব্যাপক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল সহ্য করতে না পেরে তাদের তৈরিকৃত সকল বাধের জল কপাট খুলে দেওয়ার কারনে বাংলাদেশে ব্যাপক বন্যা ও নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাইলের পর মাইল কৃষি জমি, বাড়ি-ঘর, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ রাস্তা ঘাট নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। প্রায় প্রতি বছরের চিত্র এটি। আকষ্মিক বন্যার ফলে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমির ফসল নস্ট হয়ে কৃষকের সর্বনাষ হয় এবং হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়ে।
৪. সমন্বিত নদীর বাঁধ ও অর্থনেতিক অঞ্চল গঠন:
(ক) তিস্তা নদীর প্রবেশ মুখস্থল নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ ও লালমনির হাট জেলার দহগ্রাম এলাকা থেকে শুরু করে তিস্তা ব্যারেজ হয়ে চিলমারী পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তাসহ টেকসই বাধ নির্মান করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
(খ) কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী ও রৌমারী জেলা দিয়ে প্রবেশকৃত ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পার থেকে শুরু করে যমুনা নদী হয়ে যমুনা সেতু হয়ে গোয়ালন্দ পর্যন্ত নদীর দুই ধার পরিকল্পিত প্রসস্থতা রেখে টেকসই বাধ নির্মান ও আট লেনের রাস্তা নির্মান করে নদীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদী ভাঙ্গন রোধে টেকসই বাধ নির্মান করা।
(গ) রাজশাহী ও চাপাইনবাগঞ্জের পদ্মা নদীর প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে গোয়ালন্দ পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তা নির্মান ও টেকসই বাঁধ নির্মান করা।
(ঘ) গোয়ালন্দ থেকে শুরু করে চাঁদপুর পর্যন্ত পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তা নির্মান ও টেকসই বাঁধ নির্মান করা।
৫. সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মান হলে ফলাফল সমূহ:
উপরোক্ত সকল অঞ্চলের সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে সেই সাথে সেকল এলাকার কৃষিজ পন্য পরিবহন ও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হবে কল কারখানা হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।
৬. ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে দুইটি ডবল ডেকার সেতু নির্মান:
(ক) এই সকল নদী সমুহের সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মানের পর যমুন নদীতে বাহাদুরাবাদ ও বালাসী ঘাট অভিমুখে একটি রেল ও বাই রোড সেতু নির্মান করা হলে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ উন্নয়ন হবে।
(খ) আরিচা-গোয়ালন্দ ও আরিচা-কাজিরহাট ত্রিমুখী রেল ও সড়ক সেতু নির্মান করা হলে ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-পাবনার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। সেই সাথে মানিকগঞ্জ নতুন রেল লিংকে সংযুক্ত হবে। সড়ক ও রেল পথে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া যাতায়াত সহজ হবে এবং ঢাকা থেকে পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ নিকটে হবে।
৭. উপসংহার: উপরোক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নয়ন সাধিত হবে উত্তর বঙ্গ ও দক্ষিণ পশ্চির বঙ্গের সাথে সকল ব্যবসা বানিজ্য ও কৃষিজ পন্যের সরবরাহ বাড়বে। আশাকরি সরকার এই বিষয়ে দ্রুত দৃষ্টি দিবেন।


পরিকল্পনাকারী ও লেখক
সামসউদ্দীন হাওলাদার
গুঠাইল, ইসলামপুর, জামালপুর
ই-মেইল: [email protected]












সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেম বয়সের বাধা মানে না!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

প্রেমের ক্ষেত্রে বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করেছেন বিশ্বের অনেক নামী দম্পতি। পুরুষরা তাদের চেয়ে কম বয়সী নারীদের বিয়ে করবেন - এমন সামাজিক প্রথা ভেঙে অনেক প্রভাবশালী নারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×