somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘তুমি কান্নার রঙ, তুমি জোছনার ছায়া’

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‘পাগল রাগ করে চলে যাবে ফিরেও পাবে না
পাগল কষ্ট চেপে চলে যাবে ফিরেও আসবেনা’





৪৪ বছর!!
মাত্র ৪৪ বছরের জীবন! অথচ এই সময়টুকুই যথেষ্ট!
লম্বা চুল! ঘোর লাগা চোখ!
ক্ষণজন্মা, মেধাবী আর অসম্ভব সৃষ্টিশীল একজন মানুষ!
তিন বছর আগে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আমাদের ফেলে চলে গিয়েছিলেন এই অসাধারণ মানুষটি!

মৃত্যুর খবরটি যখন শুনেছিলাম আমি তখন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম!
এই প্রানবন্ত মানুষ টাকে আমি প্রচন্ড পছন্দ করতাম!
এমন দরদী গলা কয় জন গায়কের থাকে? অসাধারণ গানও লিখতেন তিনি! তার গান শুধু গানই ছিল না, যেন এক একটা কবিতা! কবিতাগুলোকে তিনি নিপুন মায়েস্ত্রের মত গানে কনভার্ট করতেন! দেশের অনেক পত্রিকায়ই তার কবিতা ছাপা হয়েছে। ‘রাশপ্রিন্ট’ তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থের নাম ।

গায়কির স্বত্ত্বার সাথে মানবিক বোধের অসাধারন সংমিশ্রনে পুর্নাঙ্গ এক প্রাণশক্তিতে ভরা মানুষ ছিলেন তিনি! আজও তার দরদী গলা শিহরন জাগায় হাজারও বোহেমিয়ান অন্তরে!

তিনি সঞ্জীব চৌধুরী-বাউন্ডুলে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত সাংবাদিক, গায়ক ও কবি! আড্ডাপ্রিয় সঞ্জীব দা ছিলেন পুর্নাঙ্গ গীতিকার, সুরকার, গায়ক! মেট্রিক আর ইন্টারমেডিয়েট দুটতেই স্টান্ডকৃত ছিলেন তিনি । স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল! সমাজের মেকি রীতিনীতির উর্দ্ধে উঠে আপন অস্তিত্বকে, তার নিজস্ব স্বাধীন স্বত্তাকে তিনি বেশি প্রায়্রিটি দিতেন!


ইংরাজীতে একটা শব্দগুচ্ছ আমি জানি ‘ফেলো-ডি-সি’ আমি যদ্দুর জানি সেই হল ‘ফেলো-ডি-সি’ যে নিজেকে পোড়াতে ভালোবাসে! তিনি ছিলেন আত্মবিধ্বংসী! নিজে পুড়ে অন্যকে আনন্দ দিতেন! মানুষের দুঃখকষ্ট তাকে খুব নাড়া দিত! এমনই একজন মানুষ সঞ্জীব চৌধুরী, আমাদের সবার প্রিয় সঞ্জীব দা। গতকাল ছিল তার জন্মদিন!


আধারের জোনাকি সঞ্জীব দা ভয়াল নৈঃশব্দে শব্দ ছড়িয়ে আজ আকাশের তারা হয়ে আছেন ছুঁয়ে কিংবদন্তীর কান্নার রঙ, তার একমাত্র মেয়ে কিংবদন্তী! “পাগল রাগ করে চলে গেলো’ ফিরেও দেখলো না! বড় হয়ে কিংবদন্তি নিশ্চয় বুঝতে পারবে তার বাবাও এক কিংবদন্তী!

সঞ্জীব দা’র মত মানুষরা চোখের আড়ালে চলে গিয়েও আমাদের অঝোরে কাঁদান !
সঞ্জীব দা'র মৃত্যু একটি অপূরনীয় ক্ষতি! সঞ্জীবদা চিরকালই মানুষের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকবেন।
তিনি কিংবদন্তী ছিলেন...
এবং কিংবদন্তীর মাঝে তিনি বেচে থাকবেন...
এবং থাকবেন চিরকাল কিংবদন্তি হয়েই...




‘তুমি কান্নার রঙ
তুমি জোছনার ছায়া’





'সঞ্জীব'দার কিংবদন্তী'

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:০২
২৭টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×