ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যে আমার খুব বেশী আছে তা কিন্তু নয়। তাও আবার পরিবার সহ বিদেশ ভ্রমণ। হোমসিক্যালিভাবেই আসলে প্রোগ্রামটা করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বড় একটা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা আমাদের যাত্রার প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। প্রথমে বেশ কয়েটা ফ্যামিলি রাজী থাকলেও পরে আমি আর আমার এক কলিগই শেষ পর্যন্ত এই যাত্রা সফল ভাবে সমাপ্ত করি। নভো এয়ারের সহায়তায় প্রথমেই সিঙ্গাপুরের ভিসার জন্য আবেদন করলাম। ভিসা আসতে সময় নিলো ৬ দিন। তবে দুঃখের বিষয় আমার ঐ কলিগকে সিঙ্গাপুর ভিসা দিলো না। কিন্তু তার স্ত্রী ও দুই বাচ্চাকে ঠিকই ভিসা দিলো। ফলে ট্যুর প্রোগ্রামে একটা জটিলতার সৃষ্টি হলো। এদিকে মালয়েশিয়ার এম্বেসী ঘোষনা দিলো আর দুই দিনের মধ্যে ভিসার আবেদন না করলে ঈদের আগে তারা আর ভিসা দিবে না। সুতরাং সিঙ্গাপুরের ভিসা অফিস থেকে সবার পাসপোর্ট তুলে দ্রুত জমা দিলাম মালয়েশিয়ার এম্বেসিতে। এখানে আমরা সবাই মাল্টিপল ভিসা পেলাম। এবং হাতে আরো ৪/৫ দিন সময় আছে বিধায় থাইল্যান্ডের ভিসার জন্য আবেদন করলাম। এবং এখানেও আমরা সবাই ভিসা পেলাম। প্রত্যেকবারই ভিসার আবেদনের জন্য কারেন্ট ডেটে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলে জমা দিতে হয়েছে। এর পাশাপাশি ভিসা ফরম, নির্দিষ্ট মাপের ছবি সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র যোগাড় করে ভিসা অফিসে জমা দিতে হয়েছে অফিসের কাজের ফাকে ফাকে।
এক সাথে তিন দেশ ঘুরতে যাওয় পরিবার সহ একটু বেশিই চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছিলো। বিশেষ করে ভাবছিলাম আমার বাচ্চার কথা। ও শারীরিক ভাবে ফিট থাকবে কিনা সেটা নিয়ে বেশী চিন্তিত ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরেবাণীতে আর ময় মুরুব্বিদের দোয়ায় আমরা সুস্থ্য সবল ভাবেই ট্যুরটা সম্পন্ন করেছি।
ভিসার কাগজপত্র গোছানোর ফাকে ফাকে কোথায় কিভাবে যাব, থাকবো ঘুরবো তার একটা প্ল্যানও আমরা করেছিলাম। অবশ্য পরবর্তিতে সেটা কাজে আসেনি। কারণ আমার কলিগ তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টে সিঙ্গাপুুরের সিল মারানো জন্য পুরো ট্যুর প্ল্যানটাই পাল্টে ফেলেন। তাও আবার মালয়েশিয়া গিয়ে। সুতরাং মালয়েশিয়াতে নেমে আমাদেরকে আমাদের সুবিধা অনুযায়ী মুভ করতে হয়েছে। যাই হোক সেটা হয়তো সময়ের প্রয়োজনেই আমাদেরকে করতে হয়েছে।
এর ফাকে বৈদেশ ভ্রমনের প্রস্তুুতি হিসাবে কিছু কেনাকাটা সারতে হলো। ব্যাগ গোছানোর দায়িত্ব পুরোটাই গিন্নির উপর। আমি শুধু আমার ৩ বছরের মেয়ের অষুধ পত্র গুলো ঠিক মতো নেয়া হচ্ছে কিনা সেগুলো তদারকি করেছি। এমনকি তার নেবুলাইজার মেশিনটা পর্যন্ত আমি ব্যাগে ভরেছি সবার আগে। শোকর আলহামদুলিল্লাহ যে মেশিনটা কাজে লাগাতে হয় নাই। পাশাপাশি ডলার এন্ডোর্স, আভ্যন্তরীন বিমান টিকেট এগুলোও করে নিলাম।
আমার প্ল্যানটা হলো এরকম বিজিতে কুয়ালা লামপুর যাবো, সেখান থেকে এয়ার এশিয়াতে ফুকেট। ফুকেট থেকে টাইগার এয়ার ওয়েজে যাব সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর থেকে বিজিতে ঢাকায় ফিরবো। পরবর্তিতে এভাবেই আমি আমার ট্যুর সম্পন্ন করেছি।
দেখতে দেখতে আমাদের যাত্রা শুরুর দিন চলেই এ্রলো। ৩রা অক্টোবর, ২০১৪ শুক্রবার রাত ৯টায় বিজি ৮৬তে কুয়ালা লামপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো আমরা। অফিসের প্রয়োজনে এই শুক্রবারেও ১২.৩০ টা পর্যন্ত অফিস করতে হয়েছে আমাকে।
অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে জুম্মার নামাজ আদায় করে বাড়িতে আব্বাকে ফোন দিলাম। আব্বাকে জিজ্ঞাসা করলাম আব্বা কোথায় যাচ্ছেন এখন? আব্বা বল্লেন হাটে যাচ্ছি বাবা, গরু কিনতে। আমার কাছে তখন মনে হলো যদি এখন আমি আব্বার সাথে হাটে যেতে পারতাম সেটা হতো আমার জন্য স্বর্গে যাওয়ার চেয়েও আনন্দের। কারণ এই প্রথম আব্বা আম্মাকে ছেড়ে বিদেশ বিভুইতে ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছি। যদি সম্ভব হতো আমি তখনই আমার বিদেশ যাত্রা বাতিল করতাম। কিন্তু এতোগুলো টাকা পয়সা খরচ করে সব কিছুর আয়োজন সম্পন্ন করেছি। না গেলে এগুলো সবই প্রোসপন্ড হবে। তাই মনকে শক্ত করে নিজেকে সামলে নিলাম। পরিচিত একজন ড্রাইভারকে রিকুয়েষ্ট করেছিলাম ৫টার দিকে আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেয়ার জন্য। উনি সময় মতো এসে আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলেন। (চলবে ......)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

