somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভ্রমণ কাহিনী কুয়ালা লামপুর-ফুকেট-সিঙ্গাপুর ....

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যে আমার খুব বেশী আছে তা কিন্তু নয়। তাও আবার পরিবার সহ বিদেশ ভ্রমণ। হোমসিক্যালিভাবেই আসলে প্রোগ্রামটা করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বড় একটা বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমরা আমাদের যাত্রার প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। প্রথমে বেশ কয়েটা ফ্যামিলি রাজী থাকলেও পরে আমি আর আমার এক কলিগই শেষ পর্যন্ত এই যাত্রা সফল ভাবে সমাপ্ত করি। নভো এয়ারের সহায়তায় প্রথমেই সিঙ্গাপুরের ভিসার জন্য আবেদন করলাম। ভিসা আসতে সময় নিলো ৬ দিন। তবে দুঃখের বিষয় আমার ঐ কলিগকে সিঙ্গাপুর ভিসা দিলো না। কিন্তু তার স্ত্রী ও দুই বাচ্চাকে ঠিকই ভিসা দিলো। ফলে ট্যুর প্রোগ্রামে একটা জটিলতার সৃষ্টি হলো। এদিকে মালয়েশিয়ার এম্বেসী ঘোষনা দিলো আর দুই দিনের মধ্যে ভিসার আবেদন না করলে ঈদের আগে তারা আর ভিসা দিবে না। সুতরাং সিঙ্গাপুরের ভিসা অফিস থেকে সবার পাসপোর্ট তুলে দ্রুত জমা দিলাম মালয়েশিয়ার এম্বেসিতে। এখানে আমরা সবাই মাল্টিপল ভিসা পেলাম। এবং হাতে আরো ৪/৫ দিন সময় আছে বিধায় থাইল্যান্ডের ভিসার জন্য আবেদন করলাম। এবং এখানেও আমরা সবাই ভিসা পেলাম। প্রত্যেকবারই ভিসার আবেদনের জন্য কারেন্ট ডেটে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলে জমা দিতে হয়েছে। এর পাশাপাশি ভিসা ফরম, নির্দিষ্ট মাপের ছবি সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র যোগাড় করে ভিসা অফিসে জমা দিতে হয়েছে অফিসের কাজের ফাকে ফাকে।
এক সাথে তিন দেশ ঘুরতে যাওয় পরিবার সহ একটু বেশিই চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছিলো। বিশেষ করে ভাবছিলাম আমার বাচ্চার কথা। ও শারীরিক ভাবে ফিট থাকবে কিনা সেটা নিয়ে বেশী চিন্তিত ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরেবাণীতে আর ময় মুরুব্বিদের দোয়ায় আমরা সুস্থ্য সবল ভাবেই ট্যুরটা সম্পন্ন করেছি।

ভিসার কাগজপত্র গোছানোর ফাকে ফাকে কোথায় কিভাবে যাব, থাকবো ঘুরবো তার একটা প্ল্যানও আমরা করেছিলাম। অবশ্য পরবর্তিতে সেটা কাজে আসেনি। কারণ আমার কলিগ তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টে সিঙ্গাপুুরের সিল মারানো জন্য পুরো ট্যুর প্ল্যানটাই পাল্টে ফেলেন। তাও আবার মালয়েশিয়া গিয়ে। সুতরাং মালয়েশিয়াতে নেমে আমাদেরকে আমাদের সুবিধা অনুযায়ী মুভ করতে হয়েছে। যাই হোক সেটা হয়তো সময়ের প্রয়োজনেই আমাদেরকে করতে হয়েছে।
এর ফাকে বৈদেশ ভ্রমনের প্রস্তুুতি হিসাবে কিছু কেনাকাটা সারতে হলো। ব্যাগ গোছানোর দায়িত্ব পুরোটাই গিন্নির উপর। আমি শুধু আমার ৩ বছরের মেয়ের অষুধ পত্র গুলো ঠিক মতো নেয়া হচ্ছে কিনা সেগুলো তদারকি করেছি। এমনকি তার নেবুলাইজার মেশিনটা পর্যন্ত আমি ব্যাগে ভরেছি সবার আগে। শোকর আলহামদুলিল্লাহ যে মেশিনটা কাজে লাগাতে হয় নাই। পাশাপাশি ডলার এন্ডোর্স, আভ্যন্তরীন বিমান টিকেট এগুলোও করে নিলাম।
আমার প্ল্যানটা হলো এরকম বিজিতে কুয়ালা লামপুর যাবো, সেখান থেকে এয়ার এশিয়াতে ফুকেট। ফুকেট থেকে টাইগার এয়ার ওয়েজে যাব সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর থেকে বিজিতে ঢাকায় ফিরবো। পরবর্তিতে এভাবেই আমি আমার ট্যুর সম্পন্ন করেছি।
দেখতে দেখতে আমাদের যাত্রা শুরুর দিন চলেই এ্রলো। ৩রা অক্টোবর, ২০১৪ শুক্রবার রাত ৯টায় বিজি ৮৬তে কুয়ালা লামপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো আমরা। অফিসের প্রয়োজনে এই শুক্রবারেও ১২.৩০ টা পর্যন্ত অফিস করতে হয়েছে আমাকে।

অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে জুম্মার নামাজ আদায় করে বাড়িতে আব্বাকে ফোন দিলাম। আব্বাকে জিজ্ঞাসা করলাম আব্বা কোথায় যাচ্ছেন এখন? আব্বা বল্লেন হাটে যাচ্ছি বাবা, গরু কিনতে। আমার কাছে তখন মনে হলো যদি এখন আমি আব্বার সাথে হাটে যেতে পারতাম সেটা হতো আমার জন্য স্বর্গে যাওয়ার চেয়েও আনন্দের। কারণ এই প্রথম আব্বা আম্মাকে ছেড়ে বিদেশ বিভুইতে ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছি। যদি সম্ভব হতো আমি তখনই আমার বিদেশ যাত্রা বাতিল করতাম। কিন্তু এতোগুলো টাকা পয়সা খরচ করে সব কিছুর আয়োজন সম্পন্ন করেছি। না গেলে এগুলো সবই প্রোসপন্ড হবে। তাই মনকে শক্ত করে নিজেকে সামলে নিলাম। পরিচিত একজন ড্রাইভারকে রিকুয়েষ্ট করেছিলাম ৫টার দিকে আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেয়ার জন্য। উনি সময় মতো এসে আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলেন। (চলবে ......)
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×