এরই মাঝে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মদন বাবু বারান্দায় গিয়ে দাড়ালেন। কুয়াশ দেখার জন্য। প্রতিদিন সকালে কতটা ঘন কুয়াশা পড়েছে সেটা দেখা মদন বাবুর একটি শখের অভ্যাস। সেই অভ্যাসবসত আজ সকালে বারান্দায় গিয়ে দাড়ালেন। দেখেন বাসার সামনে বালু ভর্তি একটি ট্রাক। পাশের বিল্ডিং এর সামনে দাড়িয়ে আছে খোয়া ভরা আরেকটি ট্রাক। মদন বাবু ভাবলেন সারা বছরই তো রাস্তা খোড়াখুড়ি চলে, হয়তো সেই রাস্তার কাজের জন্যই ট্রাক গুলো এসেছে। কিন্তু তিনি দেখলেন যে ইট বা বালুর ট্রাক আনলোড হচ্ছে না বা এর জন্য কোন শ্রমিকও নেই। ব্যপারটা কি ? মদন বাবু বিষয়টা বোঝার জন্য বাসা থেকে বের হতে চাইলেন। কিন্তু দেখলেন সেখানেও বিপত্তি। কে বা কারা বাইরে থেকে তালা মেরে দিয়েছে। আরে এ কি ব্যপার। ঘরের সামনে ইট বালুর ট্রাক, বাহির থেকে দরজায় তালা .... রীতি মত চমকে যাবার মতো বিষয়। তিনি তার গিন্নীকে ডাকলেন।
ঃ সীতা! ও সীতা !! দেখে যাও কি সব হতে চলেছে? মদন বাবুর বউ রান্না ঘর থেকেই জবাব দিলেন। ঃ বলি কি হয়েছে? সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে চেচাচ্ছ কেন? লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকো। গিন্নীর জবাব শুনে মদন বাবুর মেজাজ আরো চড়ে গেলো। তিনি গজ গজ করতে কতে রান্না ঘরে গিয়ে বল্লেনঃ শুয়ে থাকবো মানে? কয়টা বাজে দেখেছো? অফিসে যাব না? বাইরে থেকে তালা মেরেছে কে ? বাইরে যাব কিভাবে? কি বলছ তুমি এসব? মদনবাবুর কথা শুনে সীতা মুচকি হেসে বল্লোঃ কেনো তুমি জাননা! এই পরিস্থিতিতে আমাদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার দরকার সব করা ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের প্রধানমুন্ত্রী ... আর এখন তো দেশে এইভাবেই ভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়!! ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ..... । গিন্নীর উত্তর শুনে মদন বাবু থ হয়ে থাকলেন। তারপর বল্লেন, তুমি বাজার করবা কিভাবে? অসুস্থ্য হলে হাসপাতালে যাবা কিভাবে? তোমার বাসায় মানুষ আসবে কিভাবে? গিন্নী বল্লো .... বাজার না করতে পারলে না খেয়ে মরব, হাসপাতালে যাব না, বিনা চিকিৎসায় মরব, অতিথি মেহমানেরও সৎকারে আসার প্রয়োজন নেই, তারপরেও জান মালের নিরাপত্তা তো দরকার ..তাই না বলো ....!!
![]()

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

