somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখঃ আপনি আচরি ধর্ম ....

১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা মানুষ - আশরাফুল মাখলুকাত। আদিম কাল থেকেই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে করে মানুষ আজ এই সভ্য জগতের বাসিন্দা। কোন প্রকার বাধা বিপত্তিই মানুষের এই জয়ের ধারাকে ব্যহত করতে পারে নাই। পাহাড়ে জঙ্গলে অন্তরীক্ষে কোথায় নেই মানুষের পদচারণা। সব কিছুকে জয় করার ক্ষমতা একমাত্র মানুষেরই আছে। সেই মানুষ কেন বাঘ ভাল্লুক পেচা হাতি মাথায় করে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে নেচে বেড়াবে আর ভাববে এতে সব অমঙ্গল দূর হয়ে যাবে? আর যদি তা বিশ্বাস না-ই করে, তবে বেহুদা এই কাজ কেন করতে যাবে?

একদল মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে চরম পর্যায়ের বুদ্ধিজীবি ভাবেন। তারা খুব সহজেই এসব আচরণকে ধর্ম দ্বারা ভাগ করে ফেলেন। যারা এর সমর্থন দেন তারা প্রগতিশীল আর যারা এসবের সমর্থন করেন না তারা ইসলামি মৌলবাদি (ঋণাত্বক অর্থে)। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় প্রগতিশীলদের আলাদা বাইলজ বা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ। যেমন এক সময় ১৯ শতাব্দিতে রাজা রাম মোহন রায় হিন্দু ধর্ম থেকে বেরিয়ে ব্রাহ্ম ধর্মের বা সমাজের প্রচলন করেছিলেন। ১৮২৮ সালে রামমোহন রায় ‘ব্রাহ্মসভা’ স্থাপন করেন। ১৮৫০ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই খণ্ডে ব্রাহ্মধর্মঃ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। ব্রাহ্মধর্ম বেদের অভ্রান্ততা অস্বীকার করে হিন্দুধর্ম থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং নতুন ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯০১ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রিভি কাউন্সিল ঘোষণা করে যে, “ব্রাহ্মদের অধিকাংশ হিন্দু নয়। তাঁদের নিজস্ব ধর্ম রয়েছে।

তাহলে বোঝা যায় যে, যখন কোন মানুষ নিজের ধর্মে সুখি হতে পারছে না, তখন সে চিন্তা করে অন্য একটি পদ্ধতিতে জীবনকে পরিচালনা করে সমাজ ও সংসারে সুখি হতে। এটা তো দোষের কিছু না। মানুষ অবশ্যই তা করতে পারে। কিন্তু সমস্যাটা হলো তখন, থাকবেন খাবেন যে সমাজে অথচ গীত গাবেন অন্য সমাজের যে সমাজের সাথে বসবাস করা সমাজের কোন মিলই নেই। তাহলে তো দন্দের সৃষ্টি হবেই। একদল সমাজকে পরিশুদ্ধ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকবে, আরেক দল ঐ সমাজে থেকেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে, তা তো অযৌক্তিক!

সুতরাং আমার মনে হয়, যারা এই সব মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নানান প্রগতিশীল কর্মকান্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে চান, তারা আলাদা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এতে নিজেদের মধ্যে ক্যাচাল অনেক কমে আসবে। কেউ কাউকে মোল্লা বা প্রগতিশীল বলে খিস্তি করতে পারবে না। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেমন হোন হিন্দু যদি শুয়োর খায় তো জাত যাওয়ার কিছু নেই, কিন্তু গরু খেলে ... সব্বনাশ! জাত গেলো ... ! আবার ঠিক তেমনি একজন মুসলমান শুয়োর খেলে - অবশ্যই সে হারাম খেলো। সুতরাং শুয়োর যদি খেতেই হয় তো ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করো, গরু খেতে চাইলে ব্রাহ্ম সমাজে প্রবেশ করো, তাহলে তো আর কোন বিবাদ বিসম্বাদ হবে না.....
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃশ্যমানতা এখন একধরনের পুঁজি

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০০

মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কনটেন্ট নির্মাতা হতে চাইছে না। দৃশ্যমানতা নিজেই এখন একটি মূল্যবান সামাজিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

অনুসারীর সংখ্যা একজন মানুষকে পরিচিতি, আমন্ত্রণ, প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Movie-Obsession(2026)

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বিশিদবার রাতে খুব বাজে আর একটা ছিনেমা দেখলাম। ভাই-রে ভাই কি বলবো, ঐ রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই। মানে দেখার পর থেকে এখনো গা শিরশির করছে। চোখ বন্ধ করলেও চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×