
আমরা মানুষ - আশরাফুল মাখলুকাত। আদিম কাল থেকেই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে করে মানুষ আজ এই সভ্য জগতের বাসিন্দা। কোন প্রকার বাধা বিপত্তিই মানুষের এই জয়ের ধারাকে ব্যহত করতে পারে নাই। পাহাড়ে জঙ্গলে অন্তরীক্ষে কোথায় নেই মানুষের পদচারণা। সব কিছুকে জয় করার ক্ষমতা একমাত্র মানুষেরই আছে। সেই মানুষ কেন বাঘ ভাল্লুক পেচা হাতি মাথায় করে মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে নেচে বেড়াবে আর ভাববে এতে সব অমঙ্গল দূর হয়ে যাবে? আর যদি তা বিশ্বাস না-ই করে, তবে বেহুদা এই কাজ কেন করতে যাবে?
একদল মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে চরম পর্যায়ের বুদ্ধিজীবি ভাবেন। তারা খুব সহজেই এসব আচরণকে ধর্ম দ্বারা ভাগ করে ফেলেন। যারা এর সমর্থন দেন তারা প্রগতিশীল আর যারা এসবের সমর্থন করেন না তারা ইসলামি মৌলবাদি (ঋণাত্বক অর্থে)। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয় প্রগতিশীলদের আলাদা বাইলজ বা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ। যেমন এক সময় ১৯ শতাব্দিতে রাজা রাম মোহন রায় হিন্দু ধর্ম থেকে বেরিয়ে ব্রাহ্ম ধর্মের বা সমাজের প্রচলন করেছিলেন। ১৮২৮ সালে রামমোহন রায় ‘ব্রাহ্মসভা’ স্থাপন করেন। ১৮৫০ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই খণ্ডে ব্রাহ্মধর্মঃ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। ব্রাহ্মধর্ম বেদের অভ্রান্ততা অস্বীকার করে হিন্দুধর্ম থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং নতুন ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯০১ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রিভি কাউন্সিল ঘোষণা করে যে, “ব্রাহ্মদের অধিকাংশ হিন্দু নয়। তাঁদের নিজস্ব ধর্ম রয়েছে।
তাহলে বোঝা যায় যে, যখন কোন মানুষ নিজের ধর্মে সুখি হতে পারছে না, তখন সে চিন্তা করে অন্য একটি পদ্ধতিতে জীবনকে পরিচালনা করে সমাজ ও সংসারে সুখি হতে। এটা তো দোষের কিছু না। মানুষ অবশ্যই তা করতে পারে। কিন্তু সমস্যাটা হলো তখন, থাকবেন খাবেন যে সমাজে অথচ গীত গাবেন অন্য সমাজের যে সমাজের সাথে বসবাস করা সমাজের কোন মিলই নেই। তাহলে তো দন্দের সৃষ্টি হবেই। একদল সমাজকে পরিশুদ্ধ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকবে, আরেক দল ঐ সমাজে থেকেই তার বিরুদ্ধাচরণ করবে, তা তো অযৌক্তিক!
সুতরাং আমার মনে হয়, যারা এই সব মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নানান প্রগতিশীল কর্মকান্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে চান, তারা আলাদা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এতে নিজেদের মধ্যে ক্যাচাল অনেক কমে আসবে। কেউ কাউকে মোল্লা বা প্রগতিশীল বলে খিস্তি করতে পারবে না। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেমন হোন হিন্দু যদি শুয়োর খায় তো জাত যাওয়ার কিছু নেই, কিন্তু গরু খেলে ... সব্বনাশ! জাত গেলো ... ! আবার ঠিক তেমনি একজন মুসলমান শুয়োর খেলে - অবশ্যই সে হারাম খেলো। সুতরাং শুয়োর যদি খেতেই হয় তো ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করো, গরু খেতে চাইলে ব্রাহ্ম সমাজে প্রবেশ করো, তাহলে তো আর কোন বিবাদ বিসম্বাদ হবে না.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

