somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার এই শহরে প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি-01

২৩ শে নভেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন ঘুম থেকে উঠে এই শহরটির ভোর দেখা হয় না। শহরটির রাস্তায় প্রতূ্যষের সূর্য্যভেসে উঠলেই পুরো ছবিটা কেমন পাল্টে যায় এই দৃশ্য প্রাইমারী স্কুলের দীর্ঘ রাস্তাটা ফুরিয়ে যাবার সাথে সাথেই মুছে গেছে। এরপর পায়ে পায়ে এসেছে রাতজাগা অভ্যাস- আর আকাশ গড়িয়ে হলুদ আলো না ফোটা পর্যন্ত ঘুমে জড়ানো আলস্য।

কখনও কখনও এই শহরেও ভোর ফোটা আলো দেখেছি কিন্তু তা রাতভর পথে পথে হেটে বেড়ানো অবষাদে ডুবে যেতে যেতে অথবা দীর্ঘ কোন ভ্রমন শেষের কান্ত চোখে। ঘরের আরামদায়ক বিছানার লোভে এই ভোরেও জ্বলতো মধ্যদুপুরের গনগনে রোদ। ভোরের মত স্নিগ্ধতা আমার দুচোখে ঘুমিয়েই কাটালো এতটা বছর।

কেন যে ঘুমটা ভেঙে গেল এই সকাল আসার আগেই - জানালায় দেখি নারকেল গাঝের সরু সরু পাতার ফাক গলে আকাশটা কেমন রাঙা হয়ে উঠেছে। সেদিনই প্রথম শান বাধানো মেঝে ফুড়ে বেড়ে ওঠা গাছটাকে মনে হলো সত্যিকারের একটা গাছ। কেন জানি এই শহরের সব গাছকেই গাছ মনে হয় না আমার। বাড়ির চৌহদ্দি ঘেষা লেকের সবুজ জলে পুরোটা নামলেও শুকনো খটখটে শরীরে উঠে আসতে পারবো এটা নিয়ে হাজার টাকার বাজি ধরতে রাজি আমি। এমনই সাজানো সবকিছু এখানে -তবুও এই ভোরে প্রতিটি ধুলিকণাও যেন বড় বেশি বেচে আছে।

কখন যে আমি বিছানার ওম ভেঙে বারান্দায় এসে দাড়িয়েছি- দিগন্তের আকাশ ঢেকে রেখেছে যে বাড়িগুলো, তার চৌকোনো পেটের মধ্যে আগলে রাখা অদেখা মানুষগুলোর নিঃশ্বাসটার শব্দও গায়ে স্পর্শ তোলে। আর আমি দুচোখের পাপড়ি যতন পারি মেলে ধরে রাখি - একসময় সনর্্তপনে সিড়ি ভেঙে নিচে নেমে আসতেই দেখি পাশের বাড়ির কার্ণিশে এক রুপকথার ঝলমলে লাল মোরগ - লেজে পাখায় সবুজাভ নীলচে পালকে মোড়া, যেন আমাকে দেখেই গ্রীবা উচু করে দাড়ায় - আমার এই শহরে তখন ছড়িয়ে পড়েছে ... কোক-কোরক-কো
আমি এক স্বপ্নঘোরে হেটে যেতে থাকি এই শহরের এক অন্যচেনা পথ ধরে ...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত খারাপ, তবে নিমন্ত্রণ পত্র ভালো

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৫



দুই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে, প্রবেশও করতে দেয়নি। তারপরও ঘোষণা দিলেন - আবার আমন্ত্রণ পেলে যাবেন।

ভারতবিরোধী কথা বলা ছিলো তার রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েণ্ট, কারো কাছে নতি স্বীকার করবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×