somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে একটি ব্রান্ডের রং (Brand Color) পছন্দ করবেন?

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রং সম্পর্কে উইকিপিডিয়ার বক্তব্য হলো, এটা একধরনের ভিজ্যুয়াল পারসেপশান বা বোধ। রং এর সাথে আলোর একটি ভাল সম্পর্ক আছে, উইকিপিডিয়া এব্যাপারে এমন সব সায়েন্টিফিক টার্ম ব্যবহার করেছে, যা আমার বিজনেস গ্রাজুয়েট মাথার বেশ উপর দিয়েই গেল। উইকিপিডিয়া ছেড়ে আমরা আমাদের আমজনতার ভাষায় কথা বলি।

আমাদের জীবনে রং অবিচ্ছেদ্য একটা বিষয়। সূর্যের আলোর মতোই রং সত্য। এবং সূর্যের আলোই মূলত সব রং এর উৎস (?)। রং কেন গুরুত্বপূর্ন। নিচের তালিকাটি দেখুন।

=> মানুষের চোখ সাত মিলিয়ন বিভিন্ন রং দেখতে পায়। তাই পছন্দ করার জন্য সাত মিলিয়ন থেকে Narrow Down করা আসলেই কঠিন। এজন্য রংএর বিভিন্ন তাপমাত্রা (temperature of color), কালার কম্পোনেন্ট, কালার টার্মিনলজি, এক রঙএর উপর আরেক রঙের প্রভাব এসব ভাল মতো জানতে হয়।

=> যেমন উষ্ণ রং (লাল, কমলা, হলুদ) গুলো একধরনের উত্তাপের বোধ দেয়। তাই আপনার রুমে প্রয়োজন মতো এই রং ব্যবহার করতে পারেন।

=> এই রংগুলো আবার দূরের বস্তুকে নিকটতর হবার ফিলিংস ও দিতে পারে।

=> রং মূলত তিন ধরনের, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, টারশিয়ারি।

এভাবে রং নিয়ে আরো ১০১টা ফ্যাক্ট দেয়া যায়। কিন্তু এতে আমার পোস্টের মূল উদ্দেশ্যটা হারিয়ে যাবে। পোস্টের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোন ব্রান্ডের জন্য কিভাবে রং/কালার পছন্দ করবেন, যাতে ব্রান্ডকে যথাযথভাবে মানুষের মনে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়।

১. প্রাইমারি কালার গুলো হলো, red, orange, yellow, green and blue.


২. নিরপেক্ষ রং হলো সাদা, কালো, ও ধূসর।


৩. ব্রান্ডের জন্য কালার সিলেকশানের সময় সবচেয়ে ভাল হয়, যদি আপনি যেকোন মিশ্র বা মধ্যবর্তী রংএর চেয়ে প্রাইমারি কালার গুলো থেকে বেছে নেন।

কালার সিম্বোলজি/প্রতীকি অর্থ:

সাদা = পবিত্রতা (বিয়ের গাউন, মৃতের কাফন)
কাল = বিলাসিতা, শোক (কাল রঙের কারের উপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয়)
নীল = নেতৃত্ব ( ব্লু রিবন উপহার দেয়া হয় বিজয়ীকে)
পার্পল = রাজকীয়তা (born to the purple)
সবুজ = পরিবেশবান্ধব (গ্রীনপিস এর কালার)
হলুদ = দৃষ্টি আর্কষনী (সব কমিউনিকেশ সাইন হলুদ হয়)
লাল = তারুন্য, রক্ত, উত্তেজনা

ব্রান্ডের রং
আগেই বলেছি, ব্রান্ডের রং হিসেবে মৌলিক বা প্রাইমারি রংগুলো বেছে নেয়ার কথা। এই প্রাইমারি রংগুলোর মাঝেও কিছু রং বিশেষ প্রায়োরিটি পেয়ে থাকে। নিচের ফ্যাক্ট গুলো দেখুন।

=> হলুদ হলো "চোখকে জালাতনকারী" রং, সব রঙের মাঝে সবার আগে হলুদ চোখে পড়ে। তাই যদি একরাশ রঙের ভীড়ে নজর কাড়তে চান, হলুদের বিকল্প নেই। (বিএনপি'র কাউন্সিলের পোস্টার এর কথা মনে করুন)

=> লাল সবারই খুব পছন্দের রং। কারন ৪৫% পতাকায় লাল ব্যবহৃত হয়েছে।

=> লাল তারুন্য বা উত্তেজনা বা উচ্ছাস কে রূপদান করে। তাই কোকাকোলার মতো তরুন ব্রান্ডের রং লাল।

=> নীল শান্তি, স্থায়িত্ব, ও লীডারশীপের প্রতীক। তাই অধিকাংশ কর্পরেশনের লগোতে নীলের প্রাধান্য। কারন তারা বলতে চায়, আমাকে বিশ্বাস করো, কারন আমি নেতৃত্ব দিচ্ছি, আমার বয়স অনেক বেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাই বোঝা যাচ্ছে, প্রাইমারি রংগুলো থেকেও ন্যারো ডাউন করে আমরা তিনটি রংএ পৌছলাম। লাল, নীল ও হলুদ।

কালার পছন্দের লাস্ট রুলস

১. এমন রং পছন্দ করতে হবে যা সেই রঙের প্রতীকি অর্থের বিপরীতে না যায়। যেমন, একটি এনার্জি ড্রিংকের রং সাদা হওয়া উচিত না। লাল-ই মানানসই।

২. রং পছন্দের সময় অবশ্যই প্রধান প্রতিদ্বন্ধীর(competitor) এর বিপরীত রং বেছে নিন। কারন একই রং পছন্দ করলে ক্রেতা আপনাকে তার সাথে গুলিয়ে ফেলবে।

৩. রং পছন্দের সময় উপরের দুটি নিয়ম মানতে গিয়ে সৌন্দর্যবোধকে বিসর্জন দিতে দেরি করবেন না। এর মানে হলো, যদি আর্টিস্টিক সেন্স আনতে গিয়ে উপরের দুটি রুলস ভেঙ্গে ফেলেন, তবে রং পছন্দের মূল উদ্দেশ্যটিই ভন্ডুল হয়ে যায়।

কোথায় কোথায় ব্রান্ড কালার ব্যবহার করবো?
রং বেছে নেয়ার পর সেই রংকে ব্যবহার করতে হবে সবজায়গায়। কারন মানুষ যেন সেই রং দেখা মাত্রই আপনাকে চিনে নেয়। তাই "কোথায় কোথায় ব্রান্ড কালার ব্যবহার করবো?" এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়, "কোথায় করবেন না??"

ধারাবাহিকতা

=> বলুনতো, কোকাকোলার রং কি? ৯৭ভাগ উত্তরদাতা সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।
=> এবার বলুনতো, পেপসি'র রং কি?
................
....................

আটকে গেলেন তো? কেন বলতে পারছেন না?
পেপসির রং ভুলে যাওয়াটা আপনার দোষ না। বরং এটা পেপসির মার্কেটিং স্ট্রাটেজির সমস্যা। তারা প্রাইমারি কালার বেছে না নিয়ে বরং দুটো কালার নিয়ে তাদের লগো এবং ক্যাম্পেইনগুলো ডিজাইন করে থাকে।


ফলে, ভোক্তারা এর কালার ভুলে যায় প্রায় সময়ই।

কোকাকোলার সাফল্যের মূল কারন কি মৌলিক ও সিঙ্গেল রং?
উত্তর হলো : না।
বরং ধারাবাহিকতা (Consistency)।

ব্রান্ড কালারের ফসল ঘরে তুলতে অবশ্যই অবশ্যই ধারাবাহিকভাবে সেই রংটি ব্যবহার করতে হবে। সবার মাথায় একটা পজিশন নিয়ে নিতে হবে যে, "লাল মানেই কোকাকোলা"। কিংবা "কমলা মানেই বাংলালিংক।"
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×