somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুত এফ. এম ও বেসবাবা সুমন

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সে কয়েক বছর আগের কথা, আমি তখন রাজশাহীতে থাকি। রেডিও ফূর্তি কেবল মাত্র শিক্ষা নগরীতে ট্রান্সমিশন কভারেজ দিয়েছে, যাইহোক সেই সুবাধে আমিও চটুল একটা এফ এম রেডিও ক্যাপাবল হ্যান্ডসেট কিনলাম। অবসরে গান শুনি, বিবিসি শুনি, তখনকার
আরজে অপুর Dhaka Calling, FM 88.00 ও আরও কতকিছু শুন্তেছিলাম। হঠাৎ একদিন এক বিজ্ঞাপনে নড়েচড়ে বসলাম ভূত এফএম না কি নতুন একটা প্রগাম আসছে। সত্য বলতে কি ভুত জিনিস টার প্রতি চিরদিনই আমার একটা আছে, তাই অনুষ্ঠান প্রথম শুরুর সেই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে ছিলাম। অবশেষে এল সেই মহেন্দ্রক্ষণ শুরু হল আজকের এত জনপ্রিয় ভুত এফএমের প্রথম এপিসোড। RJ রাসেল তিন মহান গেস্ট সুমন , সাকিব ও জ্রাবান কে নিয়ে শুরু করে দিলেন। ভূত এম প্রথম এপিসোড থেকেই শ্রোতা নন্দিত হতে পেরে ছিল কারন RJ সহ গেস্ট দের কথার গাতুনি ও চটুল গল্প মানু/শকে আকর্ষণ করে। আমিও ব্যাপক ফ্যান হয়ে গেলাম। মজার ব্যাপার হল এপিসডের প্রথম দিন থেকেই উনারা ( সুমন, সাকিব, জেব্রান) প্রমিজ করে বসলেন তারা শীঘ্রই ভুত বিষয়ক একটা টিভি শোও আনছেন, যদিও তারা এ অবধি এহেন কিছুই করে দেখান নাই কয়েকটা ইউটিউব প্রমো ছাড়া। ও দেশ টিভিতে কিছুদিন ‘আসছে... অমুক তমুক’ এই টাইপের অত্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘ্যের তর্জন-গর্জন কিন্তু চলেছিল। অ পর্যন্তই, আলোর মুখ আর দেখেনাই। এটা তো গেল আগের কথা।

এখঙ্কার কথা বলি, আজ ভুত এফ,এম র অনেক শ্রোতা। ফ্যানদের চাপে ফেসবুকে অফিসিয়াল পেজ ভারি। কিন্ত আমি আর শুনিনা, বিশ্বাস করুন গত এক বছর হল এপিসোড গুলোর একটা অর্থবোধক শব্দ ও শুনিনাই। যেদিন থেকে সুমন ভায়েরা চলে গিয়ে পাব্লিক গেস্টদের আনা শুরু করছে আর সত্য ঘটনা কথা বলে গাঁজা খুরি গল্প বলা শুরু করল আস্তে আস্তে আমার আকর্ষনেও ভাটা পরল, আজ তা শূণ্যের কোঠায়। ফেসবুকে আজক্যার পোলাপান যখন এরকম স্ট্যাটাস দেই ‘ ভুত এফ, এম শুনছি, মজা ল্গছে/ ভয় লাগছে’’ আবার কেউ লিখে লেপ মুড়ি দিয়ে শুনছি । আবার কেউ নানিকে নিয়ে শোনে, আবার কারও সাথে বন্ধুবান্ধব। কত ঢং!!! সবগুলো যে আঁতলামো, বুঝতে খুব একটা বেগ পেতে হয়না।

সুমন ভাইয়ের কনসেপ্ট টা কিন্তু ছিল ইন্টারেস্টিং। তিনি তার ভৌতিস্ট টীম নিয়ে ভুত ধরতে যেতেন বাংলাদেশের বিভিন্ন পোঁড়া বাড়ী বা পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ী টাইপের জাইগা গুলোতে। মোশন ডীটেক্টর দিয়ে ভুতের অবস্থান নির্ণয় কিংবা জুমিং ভিডিও দিয়ে ভুতের ছায়ার দৃশ্য ধারন সাথে সাউণ্ড রেকর্ডার দিয়ে ভৌতিক ফেনোমেনা রেকর্ড সব গুলোই ছিল অনেক অনেক অদ্ভুদ জোস ব্যাপার। আমরা শুনতাম ভয় পেতাম আবার হাসিও পেত। এহেন চেষ্টা বাংলায় এ অবধি কেউ করছেন বলে আমার জানা নাই। সব বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত লোহা লস্কর নিয়ে এরা ভুতের পিছনে ক্যান লাগল, এই চিন্তাই আমার আর ঘুম হচ্ছিল না। মাঝে মাঝে আমার মনে হত যেন ভৌতিস্ট টীমে গিয়ে যোগ দেই। তবে ইচ্ছাটাকে দাবিয়ে রাখছিলাম কষ্ট করে এই ভেবে, শেষে না মানুষ আমাকে ডাকে ‘ভুত ধরা’ :P

সুমন ছিলেন ভৌটিস্ট টীমের দল নেতা, প্রথম দিকে বুঝিনি উনি কে। পরে ইউটীউবে ভৌটীস্টের প্রথম প্রমো দেখে চমকে উঠলাম এতো আর কেউই নয়, গানের মানুষ বেসবাবা সুমন। সাথে পুলকিতও হলাম গানের মানুষের ভুত প্রীতি দেখে। আসলে তিনি চেয়ে ছিলেন বাঙালী কে ভুতের স্বাদ অন্য ভাবে দিতে। কারন বাঙ্গালীদের সাথে ভুতের সম্পর্ক অনেক নিবিড়, সেই দাদী- ঠাকুরমার কাছ থেকে। স্প্রিচুয়াল ব্যাপার টাকে ইউনিকনেস দিয়ে একটা কমার্শিয়াল ট্রেন্ডের দিকে তিনি এগুতে চেয়েছিলেন। যাই হোক নিঃসন্দেহ তিনি একজন সৃজনশীল মানুষ। তবে আজ মানুষ টি হাসপাতালের বেডে। মরণব্যাধী ক্যান্সার বাসা বেধেছে তার শরীরে। তবে তা তার মনোবলে বিন্দু পরিমান ও চির ধরাতে পারেনি তা না হলে কে নিজের অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরে পেয়েই নিজের সেলফি ফেসবুকে আপ্লোড করতে পারে। মানুষ সবচেয়ে বেশী ভয় করে মৃত্যুকে। আর মৃত্যু যখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে এমন সময় তার এহেন মনোবল আমাদের চলার পথে অবশ্যয় অনুপ্রেরণা হতে পারে। আমি শুধু বলতে চেয়েছি মানুষের মনের জোর টাই সবচেয়ে বড়, অসাধ্য কে সাধন করার জন্য। বেসবাবা ফিরে আসুক আমাদের মাঝে সেই গানের মানুষ হয়ে। আর গেয়ে যাক "গাইবনা আর কোন গান তোমায় ছাড়া...............।লিখবনা আমি আর তুমি হীনা কবিতা.............................. ।"
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চনাটক: "এনিমেল ফার্ম"

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দেখে এলাম জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নাটক "এনিমেল ফার্ম"। পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। নির্দেশনা দিয়েছেন ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×